“ঘৃণ ভাষণের একাধিক লেয়ার রয়েছে… বিষয়টি মানুষ খুন করার সামিল, অনেক ভাবে খুন করা যায়, সরকারের উচিত প্রতিপক্ষের অবস্থান না নিয়ে আদালতকে সহায়তা করা” বেসরকারি টিভি চ্যানেল গুলোর বিদ্বেষ মূলক বক্তব্য প্রচার সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে বিস্ফোরক পর্যবেক্ষণ সুপ্রিমকোর্টের
বাংলার জনরব ডেস্ক: বেসরকারি টিভি চ্যানেলগুলো টকশো এর নামে যেভাবে ঘৃণা ভাষণ ছড়িয়ে দিচ্ছে তা নিয়ে আজ বুধবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। দেশের শীর্ষ আদালতের প্রশ্ন সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা আছে এটা ঠিকই কিন্তু সেই স্বাধীনতার নামে ঘৃনা ভাষণ ছড়ানো অপরাধ। এক্ষেত্রে টেলিভিশনের উপস্থাপকের ভূমিকা পর্যালোচনা করে দেখতে হবে বলে সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করেছে।
গত বছরের আবেদনের ভিত্তিতে এদিনের শুনানিতে বিচারপতি কেএম জোসেফের (KM Joseph) পর্যবেক্ষণ, “মূলধারার মিডিয়া কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যক্তি নাগরিকের বক্তব্য সম্পূর্ণ অনিয়ন্ত্রিত। উপস্থাপকের দায়িত্ব ঘৃণাভাষণ হলে তা সময় মতো রুখে দেওয়া। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ… আমাদের এখানে বিষয়টি আমেরিকার মতো নয়। কোথায় থামতে হবে সেটা মাথায় রাখতে হবে।” বিচারপতি আরও বলেন, “ঘৃণ ভাষণের একাধিক লেয়ার রয়েছে… বিষয়টি মানুষ খুন করার সামিল, অনেক ভাবে খুন করা যায়। সরকারের উচিত প্রতিপক্ষের অবস্থান না নিয়ে আদালতকে সহায়তা করা।”
এই বিষয়ে পরবর্তী শুনানি হবে চলতি বছরের ২৩ নভেম্বরে। এই সময়ের মধ্যে আদালতের কাছে কেন্দ্রীয় সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে, ঘৃণাভাষণ রোধে আইন কমিশনের সুপারিশগুলি নিয়ে তাদের বক্তব্য ঠিক কী। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালেই আইন কমিশন ঘৃণভাষণ রুখতে বিশেষ আইনের সুপারিশ করেছিল। কমিশনের বক্তব্য ছিল, দেশের সংবিধানে ঘৃণাভাষণের কোনও সংজ্ঞা নেই। ফলে বাক স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে ঘৃণাভাষণের ঘটনা ঘটছে। ফলে অশান্তি ছড়াচ্ছে দেশে।
শুধু সংবাদ মাধ্যমেই নয় এমনকি ধর্ম সংসদের নাম করে এদেশের সংখ্যালঘুদের নিশানা বানানো হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ভাষণ দেয়া হচ্ছে এসব বন্ধ করার পরামর্শ দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে ঘৃণা ভাষন রোধে কেন্দ্র সরকার কি কি ব্যবস্থা নিতে চলেছে বা নেবে তা হলফনামা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টকে তেইশে নভেম্বর এর মধ্যে জানাতে বলেছেন বিচারপতি।
উল্লেখ্য দেশের কয়েকটি বেসরকারি জাতীয় চ্যানেল একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নিশানা বানিয়ে ঘৃণা ভাষণ ছড়িয়ে চলেছে বলে অভিযোগ। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন আইনজীবী সেই মামলার শুনানিতেই আজ বুধবার কড়া ভাষাতে কেন্দ্র সরকারকে তিরস্কার করল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানতে চাইলো ফিরেনা ঘৃণা ভাষণ রোধে কি কি ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র।

