স্বাস্থ্য সচেতনতা খুবই জরুরি,অনেক ক্ষেত্রে তা স্বাধীনতার থেকেও, গান্ধীজির এই তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জোর চর্চা ‘গান্ধীজি’ ও ‘স্বচ্ছ ভারত’ শীর্ষক সেমিনারে
বিশেষ প্রতিবেদন : আজ শনিবার দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ চত্বরে দক্ষিণায়ণ কমিউনিটি হলে “বর্তমান সময়ে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী” এবং “স্বচ্ছ ভারত” এই দুই বিষয়ে এক মনোজ্ঞ আলোচনাচক্রের আয়োজন করা হয়। আয়োজক সংস্থা ছিল নতুন পথের সাথী। তাদের উদ্যোগে এই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল বড়দের সঙ্গে ছাত্র ছাত্রীরা এবং কচিকাঁচারাও।
গান্ধীজীর জীবনের নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এই সভায়। সত্যগ্রহ আন্দোলন, অহিংস আন্দোলন, ডান্ডি অভিযান, হরিজন আন্দোলন সহ তাঁর কর্মমুখর জীবনে ধীরে ধীরে গান্ধীজি কীভাবে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকে বিপ্লবে রূপান্তরিত করেছিলেন, তা ব্যাখ্যা করা হয়। আজও তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক।

আলোচনাচক্রের পরবর্তী বিষয় ছিল “স্বচ্ছ ভারত”। এই প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে আলোচনায় উঠে আসে গান্ধীজির সেই বিখ্যাত উক্তি, স্বাস্থ্য সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি, এমনকি তা অনেক ক্ষেত্রে স্বাধীনতার থেকেও।

গান্ধীজির এই মন্তব্যটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি অনুভব করেছিলেন,পরাধীন ভারতবর্ষের চূড়ান্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। তিনি ভারতবর্ষের মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় পরিবেশ পরিছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির সচেতনতার উপর জোর দিয়েছিলেন।
তাই স্বাধীনতা লাভের প্রায় 70 বছর পর গান্ধীজির সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করতে অর্থাৎ নির্মল ভারতের লক্ষ্যে স্বচ্ছ ভারত অভিযান কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে ।
সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে স্বাস্থ্যের বিধিসম্মত উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি।
তাই ভারতবর্ষের প্রতিটি কোণে স্বচ্ছ ভারত অভিযানের বার্তা সকলের কাছে পৌঁছে দেয়া আমাদের কর্তব্য। গান্ধীজির এই স্বপ্নকে সফল করতে গেলে এ অভিযানে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের সকলকে একসাথে সামিল হতে হবে।

এদিন নতুন পথের সাথীর উদ্যোগে এই আলাপচারিতায় আলোচক হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য বনপাল ড. প্রণবেশ সান্যাল, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. দেব প্রসন্ন সিংহ এবং বিশিষ্ট শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল ও নায়ীমুল হক। এদিনের সভায় পৌরোহিত্য করেন বিশিষ্ট সমাজকর্মী নতুন পথের সাথীর সভাপতি প্রভাত কুমার মন্ডল। স্বচ্ছ ভারতকে সামনে রেখে ছোট-ছোট কিশোর-কিশোরীদের নৃত্য ও গানে অনুষ্ঠান ছিল সরগরম। উল্লেখ্য, এদিনের সভায় বিশিষ্ট গণিতবিদ ড. দিলীপ কুমার সিংহ-এর স্মৃতির উদ্দেশে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুচারুরূপে সঞ্চালনা করেন আহ্বায়ক সংস্থার সম্পাদিকা অঙ্কিতা রায়।

