দেশ 

বাবা নিরাকার, যেখানে খুশি ‘প্রকট’ হতে পারেন, ইমেলে যোগাযোগ রাখেন, থাকেন হিমালয়ে নিয়ন্ত্রণ করেন সেবিকে! কে এই বাবা হন্যে হয়ে খুঁজছে গোয়েন্দারা?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রায়ই বলে থাকেন সত্তর বছরে যা হয়নি তিনি তা করে দেখিয়েছেন।৭৫ বছর ধরে ভারতে নাকি কোনো উন্নয়ন হয়নি! জহরলাল নেহেরু থেকে শুরু করে ইন্দিরা গান্ধী পর্যন্ত সবাই ছিলেন ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রী। বিজেপি এবং সংঘ পরিবারের দাবি অনুসারে সবচেয়ে সফল প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু আপনারা জানেন কি ? এই নরেন্দ্র মোদির আমলে যা হয়েছে ৭৫ বছরের ইতিহাসে কেন? পাঁচ হাজার বছরের ভারতের ইতিহাসে সেই ঘটনা নেই। নিরাকার বাবা সে আবার ইমেইল পাঠান, থাকেন হিমালয়ে। আর তাঁর নির্দেশে চলে ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড় আর্থিক সংস্থা সেবী। এই নিরাকার বাবার এত শক্তি তাঁর অমোঘ  নির্দেশে সমগ্র সেবিকে পরিচালনা করেন উচ্চপদস্থ কর্মচারী থেকে শুরু করে এই আর্থিক সংস্থাটির সামগ্রিক নিয়ন্ত্রণ করেন ওই নিরাকার বাবা থাকেন হিমালয়ে।

এই বাবার কৃপায় ভারতের অন্যতম সেরা আর্থিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা সেবির সিইও পদে নির্বাচিত হন চিত্রা রামকৃষ্ণ।অন্য সংস্থায় বেতন পেতেন মাত্র ১৫ লক্ষ টাকা মাইনে, আর সেবিতে এসে বছরে পাঁচ কোটি টাকা মাইনে পেতে শুরু করলেন। এই বাবা গল্পের বিরিঞ্চিবাবাকেও হার মানিয়ে দিয়েছে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় বাবা মাঝে মাঝে সমুদ্রস্নানে যান, আর সঙ্গে নিয়ে যেতে চান সেবীর সিইও চিত্রাকে। শুধু তাই নয় চিত্রা রামকৃষ্ণান কেমন ভাবে চুল বাঁধবেন কেমন ভাবে চুল বাঁধলে এই অভিজাত মেয়েটিকে আরো বেশী সুন্দর লাগবে সে বর্ণনা দিয়েছেন এই নিরাকার বাবা ইমেইলের মাধ্যমে।

২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে এনএসই-র এমডি-সিইও থাকাকালীন চিত্রার বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইতিমধ্যেই তাঁকে তিন কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ বার এই মামলায় চিত্রার বাড়িতে গিয়ে টানা ১২ ঘণ্টা জেরা করল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, গত ২০ বছর ধরে বছর ষাটের চিত্রা তাঁর ব্যক্তিগত থেকে পেশাগত, সব বিষয়ে হিমালয়ের ওই সাধুর পরামর্শ নিতেন। কার পদোন্নতি হওয়া উচিত, কার নয়— সব বিষয়ে সাধুর কথাতেই চলেছেন তিনি। তাঁরা দেখা করতেন ‘পবিত্র স্থানে’। সেবি জানতে পারে, ২০১৫ সালে একাধিক বার সাধুর সঙ্গে দেখা করেছেন চিত্রা। পাওয়া গিয়েছে একটি ই-মেল আইডি। যা সাধুর বলে জানিয়েছেন চিত্রা নিজেই।

গোয়েন্দারা তদন্তের স্বার্থে  জানতে চেয়েছিলেন এই বাবা থাকেন কোথায় ? চিত্রার উত্তর স্পষ্ট, শিরোমণির আবাসস্থল হিমালয় হলেও তাঁর নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই। যেখানে খুশি ‘প্রকট’ হতে পারেন তিনি। কোনও প্রয়োজন হলে ই-মেলে যোগাযোগ করতেন তাঁরা।

যে মেল আইডি সাধুর বলে দাবি করেছেন চিত্রা, সেখান থেকে একাধিক মেল এসেছে তাঁর কাছে। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, চিত্রাকে ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি একটি মেল করা হয়। ওই চিঠিতে প্রেরক লিখেছেন, পরের মাসে সিসিলি যাওয়ার জন্য বাক্স-প্যাঁটরা বেঁধে তৈরি হচ্ছেন তিনি। চিঠিতে চিত্রাকে লেখা হয়, ‘তোমার সাহায্যের প্রয়োজন হলে জানিও। সাঁতার জানলে আমরা সিসিলিতে সমুদ্রস্নান উপভোগ করতে পারি। তার পর সৈকতে কিছুটা জিরিয়ে নেব। আমি আমার ট্যুর অপারেটরকে বলছি কাঞ্চনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তোমার টিকিটের বন্দোবস্ত করতে।’ কে এই কাঞ্চন তা জানার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

মোদী সরকারের আর কী কী দেখতে হবে আমাদের ? ভারতের অন্যতম সেরা আর্থিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা যার উপর বিশ্বাস এদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের ঘাম ঝরা অর্থ বিনিয়োগ করছে সেই আর্থিক সংস্থাকে নিয়ে কেন ছিনিমিনি খেলে চলেছে আমাদের সরকার বাহাদুর । তা বড্ড জানতে ইচ্ছা করে ?


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ