জেলা 

আলিয়ার প্রাক্তন ছাত্রকে পুলিশের পোশাক পড়ে এসে ছাদ থেকে ফেলে খুনের অভিযোগ, চাঞ্চল্য রাজ্যজুড়ে

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : হাওড়া জেলার আমতায় খুন হয়ে গেল এক ছাত্রনেতা। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে পুলিশের পোশাক চারজন তাদের বাড়িতে আসে এবং তারাই  আনিস খান ছাদ থেকে ফেলে খুন করে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আনিস আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় তিনি সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। আনিস প্রথম জীবনে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পরবর্তীকালে তিনি আব্বাস সিদ্দিকীর ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন।

এদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের পোশাক পড়ে আসার চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হলেও স্থানীয় থানায় অভিযোগ অস্বীকার করেছে।স্থানীয় থানার তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কোনও কর্মী বা আধিকারিক এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। কে বা কারা কী উদ্দেশে এই ঘটনা ঘটাল, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

মৃত যুবকের নাম আনিস খান (২৮)। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন পড়ুয়া। বর্তমানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। আনিসের বাড়ি সারদা খাঁ পাড়ায়। জানা গিয়েছে, প্রথমদিকে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে আইএসএফে যোগ দেন।

পরিবারের লোকেরা শুক্রবার রাতে তাঁকে তিনতলা বাড়ির নিচে পড়ে থাকতে দেখেন। অভিযোগ, পুলিশের ছদ্মবেশে দুষ্কৃতীরা এসে তাকে খুন করেছে। পরিবারের দাবি, জোর করে তিন দুষ্কৃতী ঘরে ঢুকে ছাদে উঠে আনিসকে ছাদ থেকে ফেলে খুন করেছে। আনিস এলাকায় অন্যায় বিরুদ্ধে প্রতিবাদী মুখ বলে পরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে বাড়িতে ছিলেন আনিস। সেই সময় চারজন দুষ্কৃতীরা তাঁদের বাড়িতে আসে। তিনজন সাধারণ পোশাকে থাকলেও একজন ছিল পুলিশের পোশাকে এবং তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি। পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, তারা বারবার আনিসের নাম করে ডাকছিল। সেই সময় আনিসে বাবা সালাম খান বেরিয়ে আসেন। দরজা খুলতে চাননি তিনি। দুষ্কৃতীরা হুমকি দিয়ে দরজা খুলতে বাধ্য করে। দুষ্কৃতীরা জানায়, বাগনান থানায় আনিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁকে আটক করতে এসেছে।

সালাম খান দরজা খুলে দিলে আনিস কোথায় জানতে চায় তারা। সালাম জানান,আনিস বাড়িতে নেই। তার পরেও সাধারণ পোশাকে থাকা তিনজন সোজা ছাদে উঠে যায়। পুলিশের পোশাক পরা যুবক সালাম খানকে নিচে আটকে রাখে। জানা গিয়েছে, আনিস সেই সময় বাড়ির ছাদে বসে ছিলেন। আনিসের বাবা সালাম খান বলেন, “কিছুক্ষণ পর এই তিনজন নেমে আসে এবং পুলিশের পোশাক পরিহিত ব্যক্তিকে বলে স্যার হয়ে গিয়েছে চলুন। এর পরেই তারা বেরিয়ে যায়।” সালাম আরও বলেন, “ধপ করে কিছু একটা পড়ার আওয়াজ শুনি। এর পরে নিচে গিয়ে দেখি ছেলে পড়ে রয়েছে।”

তবে অনিস অনিস খানের এই মৃত্যুকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ফের তোলপাড় হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আনিস এমনিতেই সংখ্যালঘু পরিবারের সন্তান একই সঙ্গে তিনি আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র হওয়ার কারণে এর প্রভাব সংখ্যালঘু সমাজের পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ