বিশিষ্ট শিক্ষা প্রশাসক এবং প্রশিক্ষক দিব্যগোপাল ঘটক-এর অনবদ্য বাংলা পড়ানো দিয়ে শুরু হল মাধ্যমিক পড়ুয়াদের নিয়ে অনুসন্ধানের আটদিনের পথচলা
গৌরাঙ্গ সরখেলের প্রতিবেদন : সমস্ত দোলাচল কাটিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসন্ন মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশ নিয়েছিল ভিশন মাধ্যমিক ২০২২-এর আজকের প্রারম্ভিক কার্যক্রমে। অনুসন্ধান কলকাতার পক্ষে মাধ্যমিক পড়ুয়াদের জন্য ছিল অনলাইনে এই আয়োজন। এই আয়োজনকে স্বাগত জানিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষক-শিক্ষিকারা, এগিয়ে এসেছেন প্রধান শিক্ষক শিক্ষিকারাও।

আট দিনব্যাপী এই কর্মসূচির আজ রাত আটটায় ছিল সূচনা পর্ব। একদিক থেকে এই সূচনা ছিল ঐতিহাসিক। পশ্চিমবঙ্গ তথা পার্শ্ববর্তী রাজ্যের শিক্ষা আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্ব মিহির সেনগুপ্ত বয়সের ভারকে অগ্রাহ্য করে হাজির হয়েছিলেন এদিন ছাত্র-ছাত্রীদের টানে। যথার্থই তাঁর আশীর্বাণী নিয়ে আট দিনের এই পথ চলা শুরু হল অনুসন্ধান কলকাতার। ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক-অভিভাবিকাদেরকে এই মঞ্চে স্বাগত জানিয়ে তিনি বললেন পড়াশোনা হতে হবে আনন্দ সহকারে, অভিজ্ঞ শিক্ষক শিক্ষিকাদের পড়ানো এমন হবে যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা তার রস আস্বাদন করতে পারে এবং মনে সাহস নিয়ে সামনের দিকে এগোতে পারে। তাহলেই গড়ে উঠবে পরিচ্ছন্ন সমাজ।


এর পাশাপাশি এদিন সব থেকে যা সকলের মন ছুঁয়ে যায়, তা হল, বিশিষ্ট শিক্ষা প্রশাসক এবং প্রশিক্ষক দিব্যগোপাল ঘটক স্যারের অনবদ্য বাংলা পড়ানো। আগামী আট দিনের এই কার্যক্রম সূচনা করে তিনি সম্পূর্ণ এক নতুন ভঙ্গিমায় বাংলায় লেখনী কৌশল কীভাবে উন্নত হয় তা কথোপকথনের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যান, শেখান তিনি হাত ধরে-ধরে। ছাত্র-ছাত্রীরাও নানা রকম ভাবে প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের লেখনী গুণ আরো ক্ষুরধার কী করে করা যাবে, তা এই অল্প সময়ে জেনে নেয়।
বর্ধমান, পুরুলিয়া, কোচবিহার থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকারাও উপস্থিত হয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে। উপস্থিত ছিলেন বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষক পঙ্কজ কুমার মহাপাত্র। বাঁকুড়া থেকে তিনি অংশগ্রহণ করেছিলেন। দিব্যগোপাল বাবুর প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে তিনিও নতুন কিছু শিখলেন বলে জানান অবসরপ্রাপ্ত এই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক।

এদিন বাংলা ক্লাসের শেষ পর্ব, ব্যাকরণ-এ সহজে কী করে নম্বর তোলা যায় এবং নির্ভুল উত্তর লিখতে হয় তা নিয়ে অসাধারণ এক ক্লাস পরিচালনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষক উজ্জ্বল বন্দোপাধ্যায়।
সভায় উপস্থিত সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আগামী দিনের ক্লাসগুলিতেও আজকের মতো মনোযোগ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানান অনুসন্ধান কলকাতার চিফ এডভাইজার বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান খান। বাংলায় পঁচিশটি এম সি কিউ প্রশ্ন সম্বলিত পরীক্ষার মাধ্যমে এদিনের কর্মকাণ্ড সমাপ্ত হয়। প্রতিদিন ক্লাসের পর এই পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেন অনুসন্ধান কলকাতার কোষাধ্যক্ষ আখের আলী সরদার।

