অন্যান্য কলকাতা 

বাম-কংগ্রেস জোটের রাজ্যসভায় প্রার্থী কেন হবেন না মুহাম্মদ সেলিম-সর্দার আমজাদ আলী কিংবা আবদুস সাত্তার ?

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : বিমান বসু , সুজন চক্রবর্তী এবং সোমেন মিত্ররা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিজেপির দোসর বলে অভিহিত করে থাকেন । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দল পরিচালনার ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সমাজকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় এটা অস্বীকার করলে সত্যের অপলাপ হবে । পঞ্চায়েত স্তরে সংখ্যালঘুদের যে ক্ষমতায়ন ঘটেছে তা বাম-আমলে ৩৪ বছরে হয়নি । তবে একথা ঠিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘু সমাজের প্রতিনিধিত্ব যাদের দিয়েছেন অন্ততঃ পঞ্চায়েত স্তরে তাদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে । তারা মূলত ভোট-লুঠের কাজ করে। কিন্ত বাম-আমলেও এরা বামেদের সপক্ষে অধিকাংশই কাজ করেছে কিন্ত কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা পায়নি । অনিল বসু-বিনয় দত্তদের আঞ্জাবহ দাস হয়ে পার্টিতে বিরাজ করেছে পঞ্চায়েত স্তরে সংখ্যালঘু সমাজের মুসলিম নেতারা। রক্ত দিয়েছে বিনিময়ে পার্টির কাছ থেকে সন্তানের জন্য একটা চাকরি জোগাড় করতে পারেনি। সেই তুলনায় তৃণমূল আমলে সংখ্যালঘুরা ভাল আছে তা বলা যেতেই পারে ।আর সিপিএম এমন একটি দল যারা তাদের ক্ষমতায় থাকার সময়  পার্টির জেলা সম্পাদক পদে মুসলিমকে বসায়নি । কারণ কী ? মুসলিম নেতাদের যোগ্যতার অভাব ছিল । তা তো নয় , মুজাফ্ফর আহমেদের হাতে সংগঠিত সিপিএম দল আবদুল হালিম , সৈয়দ শাহেদুল্লাহ , সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ মত মানুষ এই দলের হয়ে কাজ করে গেছেন । তা সত্ত্বে সৈয়দ মনসুর হাবিবুল্লাহ তাঁর জীবদ্দশায় দেখে গিয়েছিলেন সিপিএম পার্টি কিভাবে সংখ্যালঘু সমাজকে বঞ্চিত করেছে , অবহেলা করেছে ।

ক্ষমতা থেকে সরে যাওয়ার পরও বিমান বসুরা সংখ্যালঘু সমাজকে সেইভাবে গুরুত্ব দেননি । ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বামেরা আবদুর রেজ্জাক মোল্লা বা আনিসুর রহমানকে বিরোধী দলনেতার পদে না বসিয়ে সূর্যকান্ত মিশ্রকে বসান । ধর্মনিরপেক্ষতা দাবিদার রাজনৈতিক দল হিসাবে সিপিএম যদি কৌশলগত কারণে রেজ্জাক মোল্লা কিংবা আনিসুর রহমানকে বিরোধী দলের নেতা হিসাবে দায়িত্ব দিতেন তাহলে পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত । এই রাজ্যের সংখ্যালঘুদের ধারণা হয়েছিল বামেরা তাদেরকে ক্ষমতার কোনো অংশীদারিত্ব দেয়নি । উল্টো দিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই সংখ্যালঘুদের সব বিষয়েই অগ্রাধিকার দিয়েছেন । আমরা আগেই বলেছি ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলির কাছে রাজ্যসভা নির্বাচনে তাদের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয় । কারণ রাজ্যসভা নির্বাচনে সংরক্ষণ না থাকার কারণে এইসব রাজনৈতিক দলগুলি ইচ্ছা করলেই সংখ্যালঘুদের অগ্রাধিকার দিতে পারে ।

এদিকে কংগ্রেসের এই রাজ্যে তাদের যেটুকু অস্তিত্ব আছে সেটা হল মুসলিম প্রধান জেলা মুর্শিদাবাদ-মালদহ-উত্তর দিনাজপুর । আর বামেদের তো কোথাও তেমন অস্তিত্ব চোখে পড়ছে না । সুতরাং সংখ্যালঘুদের সমর্থন নিয়েই প্রদেশ কংগ্রেসের সাইনবোর্ড এখনও পর্যন্ত অক্ষুন্ন আছে । কিন্ত দুঃখের হলেও সত্য বিধানভবনে সংখ্যালঘুদের কোনো ঠাঁই নেই । সোমেন মিত্রের নেতৃত্বাধীন প্রদেশ কংগ্রেসকে দেখে এই রাজ্যের সংখ্যালঘুরা উজ্জীবিত হয়েছিল । তারা ভেবেছিল সোমেন মিত্র অন্তত সংখ্যালঘু সমাজকে খানিকটা মর্যাদা দেবেন । কিন্ত তা গত লোকসভা নির্বাচনেই পরিস্কার হয়ে গেছে প্রদেশ কংগ্রেস আসলে সংখ্যাগুরুদের নিয়েই ব্যস্ত । সংখ্যালঘুদের ভোটে তাদের অস্তিত্ব টিকে থাকলেও তাদেরকে নেতৃত্বে তুলে আনা যাবে না । প্রমাণ রাজ্যসভার মনোনয়ন ।

প্রদীপ ভট্টাচার্য কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ । তাঁর জনসংযোগ পাম এভিনিউ থেকে শুরু করে বিধানভবন পর্যন্ত । এর বাইরে তাঁর কোনো জনসংযোগ আছে বলে আমার মনে হয় না । তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে কংগ্রেস দলের কোনো লাভ হয়েছে বলে মনে হয় না । কংগ্রেসের দ্বিতীয় রাজ্যসভার সদস্য অভিষেক মনু সিংভি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোটায় নির্বাচিত । আসলে মমতা চান না এই রাজ্যে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাঙ্ক কংগ্রেসের দিকে ফিরে যাক । তাই তাঁর পচ্ছন্দের তালিকায় স্থান পাননি সরদার আমজাদ আলীর মত মানুষ । যিনি মাত্র ২৮ বছর বয়সে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে রাষ্ট্রসংঘে প্রতিনিধিত্ব করেছেন , ইন্দিরা গান্ধী যাকে বিশেষ স্নেহ করতেন । সংঘ পরিবারের দাপাদাপির যুগে আমজাদকে রাজ্যসভায় পাঠালে বা অভিষেক মনু সিংভির জায়গায় আমজাদের নাম মমতা সুপারিশ করলে তিনি সংখ্যালঘুদের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারতেন । তা তিনি করেননি । সিংভিকে রাজ্যসভায় পাঠিয়ে এই রাজ্যের কংগ্রেসের কোনো লাভ হয়েছে ?

আগামী ২৬ মার্চ রাজ্যসভার নির্বাচন । বাম-কংগ্রেস জোট করে প্রার্থী দিলে জয় নিশ্চিত । কিন্ত সোমেন মিত্র-অধীর চৌধুরিরা কখনও প্রিয়াঙ্কার নাম বা কখনও জোটের কথা বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন । প্রথম কথা হল প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাজ্যসভায় যেতেই পারেন । কিন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে কেন যাবেন ? পঞ্জাব , ছত্তিশগড় ,মধ্যপ্রদেশ ,রাজস্থানের মত রাজ্যে যেখানে জয় সুনিশ্চিত সেখান থেকে রাজ্যসভায় যেতেই পারেন । তাহলে অধীর কেন প্রিয়াঙ্কার নাম প্রস্তাব করছেন ? উত্তর একটাই যাতে কংগ্রেসের কোনো মুসলিম নেতার নাম প্রস্তাব না হয় । অন্যদিকে জোটের প্রার্থী হিসাবে সীতারাম ইয়েচুরির নাম বাজারে ছাড়া হচ্ছে । কেন কংগ্রেস নেতা সরদার আমজাদ আলী , ড.আবদুস সাত্তার ও সিপিএমের মুহাম্মদ সেলিমের নাম বলা হচ্ছে না । দেশের আইনসভায় মুসলিম প্রতিনিধিত্ব যখন কমে যাচ্ছে তখন ধর্মনিরপেক্ষতার দাবিদার কংগ্রেস-সিপিএমের পক্ষে কোনো মুসলিম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে নাম তোলা হচ্ছে না কেন ? তাহলে ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে কী এরাও বিজেপির এজেন্ডাকেই বাস্তবায়ন করতে চাইছে? কারণ সংঘ পরিবার ও বিজেপির মূল লক্ষ্য হল আইনসভায় মুসলিম শূণ্য করা । সেই লক্ষেই কংগ্রেস-বামেরা আদৌ যায় কিনা সেটাই এখন দেখার !

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment