কলকাতা 

যাদবপুরে বামপন্থীদের দাপট অব্যাহত , দ্বিতীয় স্থানে এবিভিপি , চতুর্থ স্থানে টিএমসিপি

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : যাদবপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর পর গতকাল ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । এবারও যথারীতি আগের ফলই বহাল রয়েছে । তবে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে দাপট কম জয়ী প্রার্থীর তুলনায় কম ভোট পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে চলে গেল আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি । প্রথম বার লড়েই সেখানে এসএফআই-কে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল এবিভিপি। আর প্রায় সব বিভাগেই চার নম্বরে বা তারও নীচে নেমে গিয়েছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। গোটা রাজ্যের অন্যান্য কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যাদবপুরেও বছর তিনেক বন্ধ ছিল ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এ বছর ফের নির্বাচন হল। বুধবার ভোটগ্রহণ হয়। আজ বৃহস্পতিবার ভোট গণনা হল।

বিজ্ঞান বিভাগে ৩৯টি সিটের মধ্যে ৮টি সিটে ভোট হয় । কারণ ইউ দ্য ইন্ডিপেন্ডন্ট বা ডব্লুটিআই আগেই ৩১টি আসন জিতে বিঞ্জান আগেই জিতে যায় । সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই সেখানে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু কোনও দলের সঙ্গেই যোগ না রাখা ছাত্র সংগঠন ডব্লুটিআই-এর চেয়ে অনেক পিছনে তারা। বিজ্ঞান বিভাগে কেন্দ্রীয় প্যানেলে  ডব্লুটিআই পেয়েছে ১ হাজার ১৩টি ভোট। সেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা এসএফআই পেয়েছে ২১৬। তৃতীয় স্থানে এসইউসি-র ছাত্র সংগঠন ডিএসও। তারা পেয়েছে ৩০টি ভোট। আর রাজ্যের শাসক দলের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি পেয়েছে ৮টি ভোট।

বিজ্ঞান বিভাগে সাধারণ সম্পাদক পদের লড়াইয়ে ডব্লুটিআই পেয়েছে ১ হাজার ১টি ভোট। এসএফআই ২৩১, ডিএসও ৩০, টিএমসিপি ১০। সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে ডব্লুটিআই পেয়েছে ৯০৬টি ভোট। এসএফআই ২০৬। সান্ধ্য বিভাগের সহ সাধারণ সম্পাদক পদের লড়াইয়ে ডব্লুটিআই পেয়েছে ১১২টি ভোট। এসএফআই ৩৬। বিজ্ঞান বিভাগে এবিভিপি কোনও প্রার্থী দেয়নি।

ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে জয়ী হয়েছে ডিএসএফ। নকশালপন্থী এই ছাত্র সংগঠন বরাবরই শক্তিশালী ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে। শেষ নির্বাচনেও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র সংসদের দখল ডিএসএফের হাতেই ছিল। এ বারও তারা দখল ধরে রাখল।

ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কেন্দ্রীয় প্যানেলে জয়ী ডিএসএফ প্রার্থী পেয়েছেন হাজার ৩০৪ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে এবিভিপি। তারা পেয়েছে ৫০৮টি ভোট। তৃতীয় স্থানে এসএফআই, পেয়েছে ২৮৮টি ভোট। চতুর্থ টিএমসিপি। তারা পেয়েছে ৭৭টি ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী ডিএসএফ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট হাজার ৩২০। দ্বিতীয় স্থানে এবিভিপি, ৫২৮। তৃতীয় স্থানে এসএফআই, ২৬৫। চতুর্থ হয়েছে টিএমসিপি, ৭৬ তিনটি সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদেও ডিএসএফ প্রার্থীরাই জিতেছেন। দু’টিতে দ্বিতীয় স্থানে এবিভিপি। একটিতে দ্বিতীয় হয়েছে এসএফআই।

কলা বিভাগের দখল অবশ্য ধরে রাখছে এসএফআই। আর এক বামপন্থী সংগঠন ডিএসএ-র সঙ্গে সেখানে এসএফআই-এর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা যাচ্ছে ঠিকই। কিন্তু ক্লাস ভিত্তিক লড়াই বা সেন্ট্রাল প্যানেল, সবেতেই কিছুটা করে এগিয়ে রয়েছে এসএফআই। তবে কলা বিভাগের ভোট গণনা মাঝ পথে থেমে যায় । সবচেয়ে করুণ অবস্থা টিএমসিপির। যাদবপুরে টিএমসিপি আগেও লড়েছে, এ বারও লড়ছে। কিন্তু এ বার টিএমসিপির প্রাপ্ত ভোট যেখানে নেমেছে, রাজ্যের শাসক শিবিরের পক্ষে তা খুব একটা স্বস্তির খবর নয়। তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছে এবিভিপির আচমকা শক্তিবৃদ্ধি।

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment