কলকাতা 

দিল্লি নির্বাচনে শূন্য : নেহেরু-র আদর্শ মেনে দেশজুড়ে মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে জনমত সক্রিয় করছে , আর কংগ্রেস নেতারা অফিসে বসে বিবৃতি দিচ্ছেন : সরদার আমজাদ আলী

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বুলবুল চৌধুরি : বহু কাঙ্খিত দিল্লি নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে এবারও উন্নয়নের পক্ষেই দিল্লিবাসী মত প্রকাশ করেছে । বিজেপি দলের ২০০-র বেশি সাংসদ , ৭২ জন মন্ত্রী , চারজন মুখ্যমন্ত্রী, ৬ জন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং সর্বোপরি আরএসএস ক্যাডারদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং গেরুয়াকরণের বহুচেষ্টা করার পরও শেষ পর্যন্ত দিল্লিতে দাঁত ফোটাতে পারল না বিজেপি । রাজধানী শহরেই হেরে গেল বিজেপি । আর এনিয়ে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ তাহলে এবার বিজেপির শেষের শুরু ! এবিষয়ে বাংলার জনরব যোগাযোগ করেছিল বিশিষ্ট আইনজীবী ও প্রাক্তন সাংসদ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক সরদার আমজাদ আলীর সঙ্গে । দিল্লি নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বলতে গিয়ে দুঃখ করে বলেন, কংগ্রেস তার নিজস্ব ভোট ব্যাঙ্ক দিল্লিতে হারিয়ে ফেলল । অথচ এমনটা হওয়ার তো কথা ছিল না । কেন হল ? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রবীণ রাজনীতিবিদ সরদার আমজাদ আলী বলেন , এর নেপথ্যে কংগ্রেসের নেতাদের ঘরে বসে থাকা দায়ী ।

তিনি বলেন , ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই । তিনি কোনো সময়ে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে আপোষ করেননি । তিনি সব সময় ধর্মনিরপেক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন । কোনো সময় মৌলবাদী শক্তিকে প্রশয় দেননি । বিশেষ করে সংখ্যাগুরুর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে নেহেরু এক নয়া দিশা দেখিয়েছিলেন কংগ্রেস কর্মীদের । তাঁর উত্তরাধিকারী হিসাবে ইন্দিরা গান্ধী কোনোভাবেই ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে আপোষ করেননি । বরং রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছেন । আর আজ কংগ্রেস নেতারা সিএএ-র মত সংবিধান বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে সেই অর্থে লড়াইয়ে নেই । বরং সিএএ ও এনআরসি-র বিরুদ্ধে সাধারন মানুষ জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে । দিল্লি কংগ্রেস শূন্য । কারণ কংগ্রেসের প্রতি মুসলিম-দলিত অন্যান্য সংখ্যালঘুরা আস্থা রাখতে পারেনি । শাহিন বাগ আন্দোলনে কংগ্রেসের কোনো নেতা যাননি কেন ? কেন সাধারন মানুষ কংগ্রেসের পতাকা ছেড়ে , জাতীয় পতাকা নিয়ে রাস্তায় । তা আমাদের ভাবতে হবে । স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় কংগ্রেসের কাছে তো আরও কঠিন সময় ছিল সেই মহাত্মা গান্ধী থেকে নেহেরু মৌলানা আজাদরা ব্রিটিশের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন । আজ মোদী যখন সংখ্যাগরিষ্ঠের জোরে সংসদে কালা-কানুন পাশ করেছেন ঠিক তখন কংগ্রেস চুপ করে বসে আছে কেন ? প্রাক্তন সাংসদের মতে, সোনিয়া গান্ধী বললেন , সিএএ বিরোধিতায় সামিল হওয়ার জন্য ।

কিন্ত একবারও শাহিন বাগ তো দূর-অস্ত,লখনউয়ে অবস্থানরত মুসলিম মেয়েদের উপর যোগীর পুলিশ যে অন্যায় করেছে তার বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গেল না সোনিয়া- প্রিয়াঙ্কাকে । প্রবীণ আইনজীবী সরদার আমজাদ আলীর মতে , নেহেরুর ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শকে সামনে রেখে দেশের মানুষ সংঘবদ্ধ হয়েছে , আর কংগ্রেস নেতারা এই সুযোগকে কাজে না লাগিয়ে অফিসে বসে বিবৃতি দিচ্ছেন । এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে জনতার কাছে কংগ্রেস নেতাদের যেতে হবে । তাদের সমস্যার সমাধানে আবার নতুন করে আন্দোলনে সামিল হতে হবে । সেটা করেননি কংগ্রেস নেতারা । সোনিয়া গান্ধীর নির্দেশ মেনেও কংগ্রেস নেতারা এখনও পর্যন্ত রাস্তায় নেই । সমগ্র দেশে প্রায় ৪০০টি শাহিন বাগের আদলে আন্দোলন চলছে , কোথাও কংগ্রেস নেই কেন ? প্রশ্ন আমজাদের


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment