দেশ 

বিজ্ঞানী প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠিত বেঙ্গল কেমিক্যালসকে দ্রূত বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার ; লাভজনক সংস্থাকে কেন বিলগ্নীকরণ ? ক্ষোভে ফুঁসছে বাংলা

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম পীঠস্থান আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠিত শতাব্দী প্রাচীন বেঙ্গল কেমিক্যালসকেও  বিক্রি করে দিতে চাইছে মোদী সরকার।

বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বেঙ্গল কেমিক্যালস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস-সহ দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত ওষুধ সংস্থার কৌশলগত বিলগ্নিকরণের বিষয়ে চার বছর আগেই নেওয়া সিদ্ধান্ত এ বার কার্যকর হবে। এ জন্য মন্ত্রীদের নিয়ে একটি কমিটি হবে। অন্য দু’টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বন্ধ করে দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। সে বিষয়েও যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবে এই কমিটি। এই সংস্থাগুলির অতিরিক্ত জমি বিক্রি করে টাকা তোলা হবে।

আর এনিয়ে শুরু হয়েছে রাজ্যে আন্দোলন । ইতিমধ্যে বেঙ্গল কেমিক্যালসের বিলগ্নীকরণের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা হয়েছে । সিটু সহ একাধিক শ্রমিক সংগঠন এই সংস্থার বিলগ্নীকরনের বিরোধী । বিশেষ করে বাংলার সংস্কৃতির সঙ্গে বেঙ্গল কেমিক্যালস নামটি জড়িত রয়েছে । এছাড়া এই সংস্থাটি এখন লাভের মুখ দেখেছে । তারপরেও কেন বিলগ্নীকরণের সিদ্ধান্ত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে ।

গত অর্থ বছরেই বেঙ্গল কেমিক্যালস ২৫ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। যা সর্বকালীন রেকর্ড। বেঙ্গল কেমিক্যালস-এর কার্যনির্বাহী ম্যানেজিং ডিরেক্টর পি এম চন্দ্রাইয়ার দাবি ছিল, সব কিছু ঠিক চললে ২০২২-এর মধ্যে সংস্থাটি ঋণ মুক্ত হয়ে ২০২৩ সালে ‘মিনিরত্ন’-র স্বীকৃতি পাবে।

চন্দ্রাইয়া জানান, তিনি এখনও কেন্দ্রের কোনও নির্দেশ পাননি। সিটু সমর্থিত বেঙ্গল কেমিক্যালস শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মৃণাল রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘২০১৬ সালেই সংস্থার বিলগ্নিকরণ ও উদ্বৃত্ত জমি বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। আমরা তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করি। সিঙ্গল বেঞ্চের রায় আমাদের পক্ষে যাওয়ার পরে কেন্দ্র তার বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করে। তার শুনানি এখনও হয়নি। ফলে মামলাটি এখনও বিচারাধীন।’’ আগামী সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে এ দিন জানিয়েছেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল কৌশিক চন্দ।

উল্লেখ্য, ১৯০১ সালে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের প্রথম এই ওষুধ সংস্থাটি। দীর্ঘ লোকসানের জেরে ১৯৭৭ সালে এটির জাতীয়করণের সিদ্ধান্ত কেন্দ্র। তবে ১৯৯২-এ বিআইএফআরে চলে যায় সংস্থাটি। ২০০৭-এর পরে আর কেন্দ্রের সাহায্য মেলেনি— এই দাবি করে মৃণালবাবু বলেন, ‘‘এর পর সংস্থা নিজেই ঘুরে দাঁড়িয়ে পর পর তিন বছর লাভের মুখে দেখেছে। কোনও জমিও বিক্রি করতে হয়নি। তা হলে বিলগ্নিকরণ বা জমি বিক্রির দরকার কী? আসলে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে বেসরকারি হাতে তুলে দিতে চাইছে কেন্দ্র। সব ওষুধ সংস্থাকেই পরিকল্পিত ভাবে রুগ্ণ করার চেষ্টা করছে।’’

 

 

 


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment