কলকাতা 

মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের হস্তক্ষেপ সত্ত্বে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ভাড়াটিয়ার

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছুদিন আগে বলেছিলেন পুলিশ-প্রশাসন রাজনৈতিক রং দেখে নয় , মামলার গুরুত্ব উপলব্ধি করে ব্যবস্থা নেবে । কিন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কথাও যে পুলিশ আমল দিচ্চে তা খোদ কলকাতা শহরেই প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে । শাসক দলের কাউন্সিলারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে পুলিশ  ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে ।

সংবাদে প্রকাশ যাদবপুরের বিজয়গড় এলাকায় বিনোদবিহারী সাহা নামে এক ব্যবসায়ীর এক দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন মণীশ। তাঁর দাবি, পাঁচ বছর আগে ২৫ বছরের লিজে ওই দোকানটি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। চুক্তিতে যা যা বলা ছিল, সব মেনেই দোকান চালাচ্ছিলেন তিনি। কয়েক মাস আগে জল দেওয়া বন্ধ করে দেন বিনোদবিহারী। একই সঙ্গে তাঁকে ওই দোকান খালি করার হুমকিও দিতে শুরু করেন স্থানীয় কয়েক জন।

মণীশের অভিযোগ , ‘‘এর পর ভাড়া নিতে অস্বীকার করেন মালিক। আমি মানি অর্ডার করে টাকা পাঠাতে থাকি। সম্প্রতি স্থানীয় কয়েক জনের সঙ্গে মিলে উনি আমাকে উৎখাতের চেষ্টা চালাচ্ছেন। আশ্চর্যের বিষয়, স্থানীয় কাউন্সিলর দেবব্রত মজুমদার এতে মদত দিচ্ছেন।’’

যদিও স্থানীয় কাউন্সিলর তথা কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবব্রতবাবু এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তিনি  আনন্দবাজার পত্রিকা বলেন, “ওই ব্যক্তি দীর্ঘ দিন ধরে ভাড়া দিচ্ছেন না। স্থানীয় ক্লাবে বিষয়টি জানান দোকান-মালিক। তিনি শারীরিক ভাবে অসুস্থ। হাঁটাচলা করতে পারেন না। সে কারণেই এলাকার লোকজন কথা বলতে গিয়েছিল। মণীশবাবু মিথ্যা অভিযোগ করছেন। পুলিশ তদন্ত করে দেখুক, কী হয়েছিল।”

কিন্তু মণীশের অভিযোগ, গত ৬ এবং ১২ জুন একদল লোক তাঁর দোকানে ঢুকে হামলা চালায়। তাঁর স্ত্রী অর্পিতা পাণ্ডেকে নিগ্রহ করে। তারা হুমকিও দেয়। মণীশের দাবি, গোটা ঘটনার নেতৃত্বে ছিলেন এলাকার প্রোমোটার বুদ্ধ চৌধুরী। এর পরই বিষয়টি পুলিশকে জানান মণীশ। কিন্তু লিখিত অভিযোগ পেয়েও যাদবপুর থানা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে মণীশের অভিযোগ।

তিনি এরপর স্ত্রী অর্পিতাকে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন । তাঁর দাবি ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে প্রশাসনিক কর্তারা আমাদের কথা শোনেন। তার পর যাদবপুর থানাকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হয়। কিন্তু তার পরেও যে কে সেই অবস্থা।’’ মণীশের অভিযোগ, অনেক টালবাহানার পর কাউন্সিলরের নাম বাদ দিলে তবেই এফআইআর নেয় যাদবপুর থানার পুলিশ।

বিষয়টি খতিয়ে দেখতে দুই পুলিশকর্মী মণীশের দোকানে যান। অভিযোগ, তখন অভিযুক্তরা চড়াও হন সেখানে। এমনকি পুলিশের সামনে হুমকি, ধাক্কা দেওয়া হয় মণীশকে। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। হামলাকারীরা দাবি করেছেন, ওই ব্যবসায়ী ভাড়া দিচ্ছেন না। মণীশের প্রশ্ন, ‘‘আমি ভাড়া না দেওয়ার অভিযোগ উঠলে আইন, প্রশাসন আছে। আমার কাছে সব রকম নথিপত্র রয়েছে। পুলিশকেও সে সব দিয়েছি। কিন্তু বহিরাগতরা কেন ভাবে চড়াও হচ্ছে। পুলিশের সামনে হুমকি দেওয়া হলেও, কেন ব্যবস্থা নেওয়া হল না?’’ ( সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার )


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment