কলকাতা 

সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যের বক্তব্যে বাধা দেওয়া ও হেনস্থার অভিযোগ ; অভিযোগের তীর বিজেপি-র দিকে ; “তন্ময়বাবু একটু বিতর্ক পছন্দ করেন; কারণ বিতর্ক ছাড়া ওঁর কিছু করার নেই “ দাবি দিলীপের

শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলার জনরব ডেস্ক : রবিবার সল্টলেকের ইস্টার্ন জ়োনাল কালচারাল সেন্টারে ‘বেঙ্গল নিড চেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনাচক্রে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিপিএম বিধায়ক  তন্ময় ভট্টাচার্য ও সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায়কে বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে । খোদ কলকাতার কাছে সল্টলেকে এভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং একজন সম্মানীয় বিচারপতিকে বক্তব্য রাখতে বাধা দেওয়া হবে তা এতদিন কল্পনাতীত ছিল।

এটা স্বীকার করতে বাধা নেই বাম আমলে এই ধরনের প্রবণতা তেমন ছিল না । তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি অস্বাভাবিকভাবেই ।

সংবাদ সংস্থার খবর অনুযায়ী জানা গেছে , তন্ময়বাবু বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনা করেন । আর তখনই তাঁর বক্তব্যে বাধা দেওয়া হয় । সেই সময় নাকি মঞ্চে ছিলেন বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ ।

বিক্ষোভকারীরা তন্ময় ভট্টাচার্যকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। গন্ডগোলের মধ্যে একসময় সভা ভন্ডুল হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে উদ্যোক্তারা বিক্ষোভকারীদের থামিয়ে দিলে ফের শুরু হয় আলোচনাচক্র। যখন এই বিক্ষোভ চলছে তখন মঞ্চে ছিলেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনিও বিক্ষোভকারীদের থেমে যেতে বলেন। পরিস্থিতি একসময়ে এমন তৈরি হয় যে বক্তব্য থামিয়ে দিতে হয় তন্ময়বাবুকে। পরে অবশ্য কয়েক মিনিট বক্তব্য রেখেই মঞ্চ ছেড়ে চলে যান তন্ময়বাবু ।

তন্ময়বাবু সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “আমাকে উদ্যোক্তারা ফোন করে বলেছিলেন যে এই শিরোনামে একটা আলোচনা সভা হবে। তারা অনেক বক্তার নাম বলেছিলেন। আমায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা, আর  স্বাস্থ্য-শিক্ষা নিয়ে বলতে বলা হয়। প্রথম থেকে কী আলোচনা হয়েছে জানি না। আমি যখন এসেছি তখন আইন শৃঙ্খলাও দেখিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্যর ব্যাপারেও কথা বলতে দেখিনি। সভা এবং আমাকে যদি আক্রমণ করা হয় তাহলে আমাকেও প্রতি আক্রমণে যেতে হয়। অসুস্থতা এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে অশোক গাঙ্গুলির মতো লোক যখন বলছিলেন তখন তাঁকেও চ্যালেঞ্জ করা হল। একটা মনোজ্ঞ আলোচনা হতে পারত কিন্তু সেই আলোচনাটাকে কলুষিত করার মতো একটা ব্যবস্থাপনা এখানে ছিল। যে কোনও কারণেই হোক ছিল।”

এবিষয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, “এটা ঠিক যে শ্রোতাদের মধ্যে বিজেপি-র লোক বেশি ছিল। নাহলে কে শুনতে আসবে। আসবে না কারণ তাদের হজম হবে না। এটা ঠিক যে শ্রোতাদের মধ্যে এবং বক্তাদের মধ্যে অনেকেই বিজেপি-র লোক ছিলেন। কিন্তু সবাইকে বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তন্ময়বাবু একটু বিতর্ক পছন্দ করেন। কারণ বিতর্ক ছাড়া ওঁর কিছু করার নেই।”

এ বিষয়ে তন্ময় ভট্টাচার্যকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট করে বলতে পারব না। তবে বক্তাদের মধ্যে একজন বিজেপি নেতার নাম ছিল আমি দেখেছি। যদিও যার নাম ছিল তাকে আমি দেখিনি। অন্য দু’জন বিজেপি নেতাকে আমি দেখেছি। বিশেষ করে তথাকথিত উগ্র জাতীয়তাবাদের আত্মপ্রকাশের পরও অন্যায়ের প্রতিবাদ করে যাব। আপনারা দেখেছেন আমি মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিলাম যখন বাধা দেওয়া হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমি প্রতিবাদে রাস্তায় ছিলাম। তারা যে মহাভারতের মানে বোঝে না, গীতার মানে বোঝে না, বেদের মানে বোঝে না সেটাও আমি বলে এসেছি। আর আমার বলা কথাকে চ্যালেঞ্জ করবার জন্য আমার নামে মানহানির মামলা করবার জন্য আবেদন জানিয়ে এসেছি।”

তিনি আরও বলেন, “অশোক গাঙ্গুলি দেশের একজন অত্যন্ত সম্মানজনক সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ছিলেন। তিনি বলেছেন ইলেকশন কমিশন একটা ভালো কাজ করেছে পাঁচ বছরের আয়-ব্যয়ের হিসেব চেয়েছে। যে কোনও ভারতবাসীকে জিজ্ঞেস করা হোক তারা বলবে ইলেকশন কমিশন ভালো কাজ করেছে। আমাকে অনেক জায়গাতেই থামানো হয়েছে। আমি যখন উল্লেখ করলাম গৌতম আদানির কথা, রাহুল সিনহা বললেন রহিম সাইকেল পাচ্ছে রাম সাইকেল পাচ্ছে না। আমি এই মিথ্যাটা মানতে পারি না। সরকারের সমালোচনা করব কিন্তু মিথ্যা কেন বলব ? এটা তো সত্য নয় যে মুসলমান শুধু সাইকেল পেয়েছে হিন্দুরা পায়নি। পাঁচ বছরে একটাও মাদ্রাসার অনুমোদন হয়নি এটাই ঠিক। কিন্তু এটা তো সত্য না রহিম সাইকেল পাচ্ছে, রাম পাচ্ছে না। আমি মিথ্যা সমালোচনায় যাব কেন ?”

অশোক গাঙ্গুলি ও সিপিএম নেতা তন্ময় ভট্টাচার্যকে এভাবে উগ্র জাতীয়তাবাদের নামে কলকাতায় হেনস্থার শিকার হতে হবে তা মেনে নেওয়া যায় না । সমগ্র অনুষ্ঠানটি ওয়েলফেয়ার ফার্মার প্রোডিউসার অর্গানাইজেশন কলকাতার ব্যানারে অনুষ্ঠিত হয় ।


শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment