কলকাতা 

বিজেপি-র মেরুকরণ রাজনীতি থেকে বাংলাকে মুক্ত রাখতে এবং নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচাতে বামেদের উচিত কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করা

শেয়ার করুন
  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সেখ ইবাদুল ইসলাম : আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস যে ভালো ফল করবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই । কিন্ত দ্বিতীয় স্থানে কোন দল থাকবে সেটাই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে । ইতিমধ্যেই বিধানসভায় না হলেও পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর এই রাজ্যের বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি । আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দ্বিতীয় স্থান দখল করবে বলে জোর জল্পনা চলছে । আর এই রাজ্যে বিজেপি যদি একবার ভালো করে মাথা চাড়া দিতে পারে তাহলে আগামী দিনে তাদেরকে ঠেকানো কঠিন হবে । এমনিতেই এই রাজ্যে সুপ্ত সাম্প্রদায়িকতা ছিল তা আরও বেশি ব্যাপ্তি পাবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে ।

তাই বিজেপিকে এই রাজ্যে ঠেকাতে হলে বামপন্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে । কিন্ত ইদানিং বামপন্থীরা যেন ধরেই নিয়েছে তাদের দ্বারা আর কিছু হবে না । ৩৪ বছর ক্ষমতায় থাকার পর একটি রাজনৈতিক দল কিংবা বামফ্রন্টের এই পরিনতি হবে তা কেউ আন্দাজ করতে পারেনি । কিন্ত ক্ষমতা হারানোর মাত্র ৮ বছরের মধ্যেই বামেরা যেন এরাজ্যে সাইনবোর্ডে পরিণত হয়েছে । আর বিরোধী দল কংগ্রেসের অবস্থা আরও খারাপ । তারা তাদের চিরাচরিত ভোট ব্যাঙ্কও ধরে রাখতে পারছে না । কংগ্রেসের গড় বলে খ্যাত মুর্শিদাবাদ , মালদা ও উত্তর দিনাজপুরেও তাদের অবস্থা খুব একটা ভাল নয় । প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সোমেন মিত্র খানিকটা চেষ্টা করছেন দলের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে । তিনি এতে বেশ খানিকটা সফলও হয়েছেন ।  তা নির্বাচনে সাফল্যের ক্ষেত্রে যথেষ্ট নয় ।

আগামী লোকসভা নির্বাচনে যদি এককভাবে কংগ্রেস লড়াই করে তাহলে তাদের পক্ষে জেতা অনেক কঠিন হয়ে যাবে । অধীর চৌধুরি হয়তো নিজের ক্যারিসীমায় জিতে আসতে পারেন বাকী বর্তমান সাংসদরা জিততে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে । এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস এবং বামেরা যদি জোট করে আগামী লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করে তাহলে হয়তো সম্মানজনক আসন পাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব হবে । আর সবচেয়ে বড় সাফল্য হবে এই রাজ্যে বিজেপির উত্থান ঠেকানো সম্ভব হবে । পাটিগণিতের অংকের বিচারে কংগ্রেস সিপিএম জোট হলে এরাজ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকবে এই জোট । বিজেপি কার্যত এরাজ্যে অন্তত সাইনবোর্ডে পরিনত হয়ে যাবে ।

কিন্ত দুঃখের বিষয় হল বাম এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব এটা ভাল করেই জানেন তা সত্ত্বেও জোটের পক্ষে এখনও সেভাবে জোরালো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি । অবশ্য রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে , রাজ্যের বিরোধী দল বাম ও কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করেন এরাজ্যে বিজেপির উত্থান হলে আগামী দিনে তাদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হবে । কিন্ত এই ধারণা ঠিক নয় , একবার যদি এরাজ্যে মেরুকরণ রাজনীতির সূচনা হয়ে যায় তা থেকে বেরিয়ে আসা অনেক কঠিন হবে । একদিন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যালঘুদের কথা প্রকাশ্যে বলতেন আজ সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজেকে হিন্দু বলে জাহির করতে হয় । প্রতিটি বক্তব্যের মধ্যে তিনি প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে তিনি আসলে উচ্চবর্নের হিন্দু । এটার কোনো প্রয়োজন ছিল না । কিন্ত তবু তিনি বলেন এই কারণে বিজেপিকে রুখতে হবে । এতে হিতে-বিপরীত হচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে ।  অন্যদিকে একই পরম্পরা লক্ষ্য করা যাচ্ছে কংগ্রেস এবং বামেদের মধ্যে । তাই একথা স্বীকার করতে হবে যে , এই রাজ্যে যদি একবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার স্বাদ পেয়ে যায় তা কোনো ভাবে প্রতিরোধ করতে পারবে না বাম- কংগ্রেস ।

জোটের প্রাসঙ্গিকতা স্বীকার করে  নিলেন কংগ্রেস নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ আমজাদ আলীও । তিনি বলেন , জোটের প্রয়োজনীয়তা আছে এটা স্বীকার করে নিয়েও বলি জোটের কথা বলবে কে ? প্রস্তাব কার কাছ থেকে আসবে ? মনে রাখা উচিত বিজেপির সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস দল । কংগ্রেসের সঙ্গে কোনো সময়েই বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা হবে না বা কোনো দিন হয়নি । তাই বাংলায় বিজেপিকে রোখার দায়িত্ব শুধু কী কংগ্রেসের দায় ? বামেরা কী বুঝতে পারছে না পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে ? আমরা তো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি তৃণমূলের সঙ্গে জোটে যাব না । বামেরা বিজেপিকে রোখার জন্য জোট করবে কি করবে না তা তাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ।

তবে কংগ্রেস ও বামেরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে লোকসভা নির্বাচন কিংবা আগামী বিধানসভা নির্বাচন এই জোট বজায় রাখতে পারে তাহলে রাজ্যের মানুষের কাছে তৃণমূলের বিকল্প হিসেবে এই জোট স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে । বিশেষ করে রাজ্যের দলিত ও সংখ্যালঘু ভোটের সিংহভাগ দখলে আছে তৃণমূলের । সেই ভোট ব্যাঙ্ক ভাঙতে হলে বাম-কংগ্রেস জোটকে বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে হবে । তা না হলে আগামী দিনে এই রাজ্যে বিজেপির উত্থানকে ঠেকানো সম্ভব হবে না । রাজ্যে বিজেপির আগ্রাসন রুখতে হলে বাম-কংগ্রেস সহ ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলিকে এক জোট করে তৃণমূলের বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে হবে । তা না হলে গেরুয়া বাহিনীর হাতে বাংলার দখল শুধু সময়ের অপেক্ষায় থাকবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে ।


শেয়ার করুন
  • 26
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সম্পর্কিত নিবন্ধ

Leave a Comment