তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইতে যোগ দেওয়া সাংসদের বিরুদ্ধে দূর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি সিবিআই, মামলা খারিজ করে দিল লোকপাল!
ভয় দেখিয়ে টাকা তোলা-সহ একাধিক বেআইনি কার্যকলাপের অভিযোগ ছিল বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ্যে আসার পর তিনি তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-তে যোগ দেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির তদন্ত করছিল সিবিআই। কিন্তু সেই সমস্ত দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ করে দিল লোকপাল। বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা পিটিআই জানায়, সিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে ওই সমস্ত অভিযোগের সপক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি বলে জানিয়েছে লোকপাল। অরূপ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে ‘বিদ্বেষমূলক’ বলেও মন্তব্য করেছেন সাংসদ।
অভিযোগ ছিল, ভাই আশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে মিলে অরূপ অবৈধ কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। স্থানীয় কর্মী ও আধিকারিকদের সাহায্যে দুর্নীতিমূলক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, অবৈধ ভাবে টাকা তোলা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীর দাবি, নিজের এলাকায় সরকারি মৎস্য প্রকল্পে বেআইনি ভাবে হস্তান্তর করেন অরূপ। ২০১৬ সাল থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় একটি ঝিল থেকে মাসে ৫০ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করতেন তিনি। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ নভেম্বর সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ২৮ অগস্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তার রিপোর্ট প্রকাশ করে। ৪৫টিরও বেশি নথি পরীক্ষা করে দেখেছে সিবিআই। ছ’জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর অরূপের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিয়েছে লোকপাল চেয়ারম্যান বিচারপতি এএম খানউইলকরের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের বেঞ্চ।
বলা হয়েছে, ‘‘প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্টে সমস্ত প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অরূপের বিরুদ্ধে যে ছ’টি অভিযোগ ছিল, তা প্রমাণ করা যায়নি।’’ এ বিষয়ে পরবর্তী কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই বলেও জানায় লোকপাল। কারণ, যে সময়ের ঘটনার ভিত্তিতে অভিযোগ, তখন অরূপ বিধায়ক ছিলেন, সাংসদ নন। তাই বিষয়টি লোকপালের এক্তিয়ারভুক্ত নয়। অরূপ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং বিদ্বেষমূলক ছিল। লোকপালের নির্দেশ থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।’’

