ময়নাতদন্ত রিপোর্ট দিতেও ঘুষ,গ্রেফতার মেডিকেল কলেজের কর্মী!
দুর্নীতি দমন শাখার অভিযানে ফের গ্রেফতার এক সরকারি কর্মী। রক্ত নিয়ে দুর্নীতির পর এ বার সামনে এল ময়নাতদন্তের রিপোর্টের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার ঘটনা। গ্রেফতার হয়েছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের এক সরকারি কর্মী। সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের সুপার-ই বলছেন, এমন ‘সিন্ডিকেটে’ আরও অনেকে আছেন! এই অভিযান যেন জারি থাকে।
বৃহস্পতিবার তিন হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে কর্মরত এক ব্যক্তি। দুর্নীতি দমন শাখার পাতা ফাঁদে পা দিয়ে রাসায়নিক লাগানো টাকা হাতে নিয়েছিলেন তিনি। হাতে জল দিতেই রঙিন হয়ে ওঠে হাত। হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনি।
শিলিগুড়ির ওই সরকারি হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বিরুদ্ধে নানা সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কখনও ময়নাতদন্তের জন্য টাকা চাওয়া, কখনও রিপোর্ট দেওয়ার নাম করে ঘুষ নেওয়া হত। কিন্তু সবটাই ছিল মৌখিক অভিযোগ। এতদিন অভিযোগকারীদের কেউ প্রমাণও দিতে পারেননি। এ বার নির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে হানা দেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা।
সম্প্রতি ওই হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ থেকে একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা যায়, পথদুর্ঘটনায় মৃত এক ব্যক্তির দেহ সংরক্ষণের জন্য পরিবারের কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে। ওই ভিডিয়ো দেখে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষও নড়েচড়ে বসে। হাসপাতালের সুপার কৌশিক ঈশোর তদন্তের আশ্বাস দেন। তার মধ্যেই অভিযান চালালেন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর আত্মীয়ের দেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য তিন হাজার টাকা দাবি করেন এক কর্মী। দুর্নীতি দমন শাখার টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানিয়েছিলেন তিনি। এর পর দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁদের কথামতো মৃতের পরিবারে এক সদস্য ফরেনসিক বিভাগের সেই কর্মীকে টাকা দিতে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তের গ্রেফতারির সঙ্গে সঙ্গে ফরেনসিক বিভাগের আধিকারিকদের একে একে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্তকারীরা। আর কেউ এই চক্রে জড়িত কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে সুপার কৌশিক বলেন, ‘‘যে আধিকারিকেরা এই অভিযান চালিয়েছেন, তাঁদের সাধুবাদ জানাই। আমি চাই, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে এমন অভিযান চলতে থাকুক। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক জনকে নানা অভিযোগে শো কজ় করেছি। কিন্তু কোনওবার সন্তোষজনক জবাব পাইনি।’’ সুপার এ-ও জানান, মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্ক-সহ নানা জায়গায় দুর্নীতির চক্র রয়েছে। সেগুলি জলদি ভাঙা দরকার।
দিন কয়েক আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের এক কর্মী গ্রেফতার হয়েছিলেন রক্ত নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে। তাঁকে জেরা করে বিভিন্ন রক্ত নিয়ে দুর্নীতির নানা তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এ বার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ হল হাতেনাতে। সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার

