‘রাজনীতির রুটি সেঁকা হচ্ছে, দুর্ঘটনা হলে কে দায় নিত?’ ফুটপাত বিতর্কে অগ্নিমিত্রা পাল
পার্কস্ট্রিট চত্বরে ফুটপাত (Park Street Footpath) দখলমুক্ত করতে গিয়ে স্টোভে বাচ্চার দুধ গরম করা নিয়ে এক প্রৌঢ়ার সঙ্গেঅগ্নিমিত্রা পালের (Agnimitra Paul) মেজাজ হারানোর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল (Agnimitra Paul Viral Video)। সেই ভিডিও নিয়ে দিনকে দিন সমালোচনা বাড়ছে বই কমছে না। এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের তোলা ‘অমানবিকতার’ অভিযোগকে নস্যাৎ করে পাল্টা জবাব দিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী (Agnimitra Paul Footpath)। বিরোধীদের এই সমবেদনাকে ‘রাজনৈতিক দূরভিসন্ধি’ বলে তাঁর প্রশ্ন— ব্যস্ত ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে দুপুর দুটোয় অনবরত গাড়ির চলাচলের মাঝে মাত্র ১০ ইঞ্চি উঁচু ফুটপাতে ছ’মাসের শিশুকে একলা ছেড়ে স্টোভ জ্বালানো কি নিরাপদ? কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে তখন কি বিরোধীরা তার দায় নিত?
ঘটনা নিয়ে বিরোধীদের ‘কলকচালি’ নিয়ে কটাক্ষ করে অগ্নিমিত্রা বলেন, “গতকাল সারাদিন বিরোধী দলের অনেক কান্নাকাটি শুনলাম ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ফুটপাতে দুধ গরম করা নিয়ে। কিন্তু বাস্তবটা হল, ওই পরিবারের কাছে এক বাটি দুধ নিয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি! সবাই রাজনীতির আগুনে নিজেদের রুটি সেঁকেছে।” অতীতে কংগ্রেসের ২৮ বছর, বামফ্রন্টের ৩৪ বছর এবং তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকালের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “যাঁরা ‘অপারেশন সানশাইন’ করেছেন, আর ১৫ বছর ধরে তোলা আদায় করে ফুটপাতে হকার বসিয়ে সারা বাংলাকে শেষ করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে অন্তত আমাদের মানবিকতার পাঠ নিতে হবে না।”
ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের সেই মুহূর্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে পুরমন্ত্রী জানান, রাস্তা আর ফুটপাতের উচ্চতার তফাত ছিল মাত্র ইঞ্চি দশেকের। সেখানে দুপুর দুটোয় অনবরত গাড়ি চলছে। তার মাঝে এক ছ’মাসের বাচ্চা একা হামাগুড়ি দিচ্ছে, যার মা বা ঠাকুমা দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। অন্যদিকে, অনবরত লোকজন ও স্কুলপড়ুয়াদের যাতায়াতের রাস্তার ওপর কেরোসিনের স্টোভে এক গামলা দুধ ফোটানো হচ্ছিল। অগ্নিমিত্রার প্রশ্ন, “যদি বাচ্চাটা রাস্তায় নেমে আসত বা স্টোভ উল্টে কোনো বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটত, তবে তার দায় কে নিত? পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর? পুলিশ? সরকার নাকি সোচ্চার হওয়া এই বিরোধীরা?”
ফুটপাতবাসী পরিবারটির পূর্ব ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী দাবি করেন, “ওই মহিলা ক্যামেরার সামনে নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি ধাপায় থাকেন। যদি নিজের বাড়ি ধাপাতে থাকে, তবে বারবার বারণ করা সত্ত্বেও কেন পার্ক স্ট্রিটের ফুটপাতে এসে স্টোভ জ্বালাবেন? ওই মহিলার ছেলে পাশের কারনানি ম্যানশনে কাজ করত, কিন্তু চুরি করার দায়ে তাকে কাজ থেকে ছাড়িয়ে দেওয়া হয়।” পরিবারটিকে আগেও হোমে বা নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
বস্তি পুনর্বাসনের (Slum Rehabilitation) প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, এই ঘটনার মাত্র পাঁচ দিন আগেই বণিকসভাগুলির (Chambers) সঙ্গে সরকারের একটি বৈঠক হয়েছে। যেখানে অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির (EWS) মানুষের জন্য রাজ্য সরকারের জমিতে পাঁচটি বিনামূল্যে আবাসন টাওয়ার তৈরির বিনিময়ে ডেভেলপারদের বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কারণ সরকার বস্তিবাসীদের সঠিক পুনর্বাসন দিতে চায়।
ফুটপাতের অধিকার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে অগ্নিমিত্রা পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ফুটপাত বড়লোক বা গরিব কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, তা সাধারণ পথচারীদের জন্য। হকার নীতির রূপরেখা স্পষ্ট করে তিনি জানান, ফুটপাতের তিন ভাগের এক ভাগ জায়গা হকাররা ব্যবহার করতে পারবেন, আর বাকি দুই ভাগ ফাঁকা রাখতে হবে পথচারীদের জন্য।
রাজ্যে বিনিয়োগ আনার ক্ষেত্রে শহরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্ব বুঝিয়ে প্রবাদের সুরে মন্ত্রী বলেন, “কথাতেই আছে— ‘প্রথম দর্শনধারী, পরে গুণবিচারী’। আমাদের শহর, রাস্তা ও ফ্লাইওভারের এই বিশৃঙ্খল দশা দেখলে কোনও দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারী আসবে? ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বা শিল্প আনতে গেলে শহরকে আগে সাজাতে হবে। কলকাতা তো পশ্চিমবঙ্গের মুখ ও জানলা।” নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে শহরের সব রাস্তা মেরামতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মানুষের বিপুল জনমত নিয়ে আসা বিজেপি সরকার শহরের বেআইনি পার্কিং, যানজট ও ফুটপাত জবরদখলমুক্ত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান পুরমন্ত্রী। বিরোধীদের অনাবশ্যক বা ধ্বংসাত্মক রাজনীতি ছেড়ে গঠনমূলক সমালোচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

