অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন ১.৪৫ কোটি, বাদ ১৭ লক্ষের আবেদন! কেন বাদ পড়ল নাম, কী ভাবে ফের আবেদন করবেন!
সোমবার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ছাড়তে শুরু করেছে রাজ্য সরকার। নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় প্রাথমিক ভাবে ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছে। নবান্ন থেকে সোমবার রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, সোমবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবার, ২০ অগস্টের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকে যাবে। দেওয়া হচ্ছে মোট ৪৩৫০ কোটি টাকা। প্রাথমিক ভাবে ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হয়েছে। সেখান থেকে ১৭ লক্ষ বাতিলের পর সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪৫ লক্ষ। তবে ১০ জুলাই পর্যন্ত আরও আবেদন জমা পড়েছিল। ওই সময়ের মধ্যে মোট আবেদনের সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লক্ষ। বাকিদের নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে। সাংবাদিক বৈঠক করে এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। ছিলেন নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের সচিব মৌমিতা গোদারাও। যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা অনলাইন মাধ্যমে ফের আবেদন করতে পারবেন।
কেন এত আবেদন বাতিল হয়ে গেল? নবান্ন জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আধার কার্ডের নম্বরের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে আবেদন বাতিল হয়েছে। ১৭ লক্ষের মধ্যে অন্তত ১০ লক্ষ আবেদন এই কারণে বাতিল করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া, সরকারি কর্মচারী হওয়ায় বা আয়কর দেওয়ায় কিছু আবেদন বাতিল হয়েছে। মন্ত্রী জানিয়েছেন, ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্নপূর্ণা যোজনায় যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের নথি যাচাই চলছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। তাঁরা তার পর টাকা পাবেন।
যাঁদের নাম প্রকল্প থেকে বাদ পড়ল, তাঁরা পরে ফের আবেদনের সুযোগ পাবেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট পোর্টালে সোশ্যাল রেজিস্টার নামে যে অপশন রয়েছে, সেখানে গিয়ে ফের আবেদন করা যাবে। জেলাশাসক স্তরে সেই আবেদন ফের যাচাই হবে। তখন কোনও ত্রুটি না থাকলে ওই আবেদনকারী অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। তবে পোর্টালটি এই মুহূর্তে বন্ধ আছে। ২০ অগস্ট থেকে ফের আবেদন করা যাবে। নাম বাদ যাওয়া নিয়ে কারও কোনও অভিযোগ থাকলে তা-ও পোর্টালে জানাতে পারবেন আবেদনকারীরা। নতুন আবেদন করতে চান যাঁরা, তাঁরা ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে সুযোগ পাবেন না।
আধার কার্ডের নম্বরের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগের যে সমস্যা হয়েছে, তা সমাধানের জন্য বিডিও-দের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বিডিও-রা ব্যাঙ্কের সঙ্গে কথা বলবেন এবং বিভিন্ন জায়গায় শিবির করে এই সমস্যার সমাধান করবেন।
এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, ১০ হাজার টাকার বেশি মাসিক রোজগার এবং ১২ লক্ষ টাকার বেশি পারিবারিক রোজগার হলে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া যাবে না। জমির মালিকানার ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত দিয়েছিলেন শুভেন্দু। বলা হয়েছিল, সাতটি পুরনিগম এলাকার কোনও বাসিন্দার ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। তবে গ্রামীণ এলাকার ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ সংক্রান্ত নিয়মে ছাড় রয়েছে। সোমবারের সাংবাদিক বৈঠক করে প্রকল্পের পরিসংখ্যানও প্রকাশ করা হল।

