প্রচ্ছদ 

প্রধানমন্ত্রী বাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ ৫০০ সাধুসন্তর

শেয়ার করুন

অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুদানের টাকায় বিরাট অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের (Donation Theft) অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি ও ধর্মীয় মহল। এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে এবার সরাসরি দিল্লির রাজপথে নামলেন সাধু-সন্তরা। সোমবার নতুন দিল্লিতে প্রায় ৫০০ জন সাধু ও ধর্মীয় প্রধান একত্রিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের অভিমুখে এক প্রতিবাদী পদযাত্রার আয়োজন করেন।

অভিযোগ উঠেছে, রাম মন্দিরের নামে দেশ-বিদেশ থেকে আসা বিপুল পরিমাণ প্রণামী ও অনুদানের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ সাধু সমাজ দীর্ঘদিন ধরেই সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিল। সোমবার সকাল ১১টা নাগাদ দিল্লির মান্ডি হাউসের কাছে নেপাল দূতাবাসের সামনে থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়। ৫০০ জন সাধুর এই মিছিলের নেতৃত্ব দেন প্রকাশানন্দ গিরি মহারাজ (Prakashanand Giri Maharaj)।

 

সাধু সমাজের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, শ্রীরামের মন্দিরের জন্য কোটি কোটি ভক্ত তাঁদের বিশ্বাসের স্থান থেকে যে অর্থ দান করেছেন, সেখানে যেকোনও প্রকার তছরুপ সনাতন ধর্মের ভাবাবেগে আঘাত হানে। তাঁদের স্পষ্ট বার্তা, ভক্তদের অনুদানের একটি টাকাও যাতে অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ না হয় এবং দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

 

সুপ্রিম কোর্টের নজরদারি

 

রাম মন্দির অনুদানকাণ্ড নিয়ে জল গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে। শীর্ষ আদালতে মামলার শুনানির পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সংসদের ভিতরে ও বাইরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি বিরোধী দলগুলিও এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে। আদালত ও সংসদের উত্তাপের মধ্যেই সাধু-সন্তদের এই দিল্লি অভিযানের ঘটনা দেশজুড়ে নতুন আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

প্রধান দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ :

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে রওনা হওয়া এই মিছিল থেকে সাধু-সন্তরা মূলত যে দাবিগুলি তুলে ধরেছেন:

১. রাম মন্দিরের অনুদান তছরুপের নিরপেক্ষ ও সময়ভিত্তিক স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) বা বিশেষ সংস্থা দিয়ে তদন্ত করাতে হবে।

২. মন্দির ট্রাস্ট ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে।

৩. সনাতন সংস্কৃতি ও ভক্তদের বিশ্বস্ততার সুরক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

দিল্লি পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করেছে। সাধু সমাজের এই প্রতিবাদী অবস্থান ও পদযাত্রা কেন্দ্রের উপর প্রশাসনিক চাপ বাড়াল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্লেষকরা।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ