গভীর রাতে কল্যাণীর সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, হাসপাতালে পরিষেবা ও অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ মন্ত্রীর
বাংলার জনরব ডেস্ক : গভীর রাতে ঘড়ির কাটাই যখন বারোটা বেজে চল্লিশ মিনিট ঠিক সেই সময় ডাক্তারি ছাত্রী পরিচয় জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে সারপ্রাইজ ভেজিটে যান রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। সঙ্গে নিরাপত্তার কোনও বহর ছিল না। সাদা পোশাকের এক জন মহিলা নিরাপত্তারক্ষীকে সঙ্গে নিয়েই হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হাজির হন তিনি। মুখে সার্জিকাল মাস্ক। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই জরুরি বিভাগের ‘বাস্তব চিত্র’ দেখে নেন তিনি। জরুরি বিভাগে সিনিয়র চিকিৎসক নেই কেন, তা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেন। পরে মন্ত্রী মুখ থেকে মাস্ক খুলতেই হকচকিয়ে যান হাসপাতালের চিকিৎসক এবং অন্য কর্মীরা। হাসপাতালে বেশ কিছু ‘অব্যবস্থা’-ও তাঁর নজরে আসে।
রোগীর পরিবারের অভিযোগ নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলেন মন্ত্রী। তার পরে রাতের হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন তিনি। হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় অপরিচ্ছন্নতা দেখে কর্তৃপক্ষের জবাব তলব করেছেন সুমনা। তিনি জানান, হাসপাতালে যত্রতত্র কুকুর-বিড়াল ঘুরে বেড়ানোর বিষয়টি স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও জানানো হবে।
মন্ত্রী বলেন, “প্রচুর অভিযোগ আসছে যে রাত ১০টার পরে বেশির ভাগ সময়ে কোনও সিনিয়র ডাক্তার থাকেন না। আমি দেখতে এসেছিলাম।” হাসপাতাল চত্বরে পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়েও উষ্মাপ্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রতিটা জায়গায় নোংরা। এমন কোনও বিভাগ নেই, যেটা নোংরা নয়। এটা আমাদের কাছে অত্যন্ত নিন্দনীয়। হাসপাতালের কী অবস্থা! কী দুর্দশা! দেখে খারাপ লাগছে।”
সুমনা সরকার আরও বলেন, “জেএনএম হাসপাতাল নিয়ে আমার কাছে অনেক দিন ধরেই অভিযোগ আসছে। হস্টেলগুলি নিয়েও অভিযোগ আসছিল। আমার তাই মনে হয়েছিল, একটা সারপ্রাইজ় ভিজ়িট করা দরকার। বাংলার বুকে আরজি করের যে ঘটনা ঘটে গিয়েছে, তা আমাদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” এ অবস্থায় হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখতেই আচমকা পরিদর্শনে যান সুমনা। এই আচমকা পরিদর্শনের পরিকল্পনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীই তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, একা যাওয়ার বদলে মহিলা নিরাপত্তারক্ষী সঙ্গে রাখার জন্য।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমি পুরো স্টুডেন্টের মতো সেজে রাত সাড়ে ১২টায় ওখানে ঢুকেছিলাম। ইমার্জেন্সিতে দেখেছি কোনও ডাক্তার নেই। রাত ১০টার পরে সিনিয়র ডাক্তার কেউ থাকে না। সব জুনিয়র (ডাক্তার) দিয়েই করায়।”
বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনের পরে হাসপাতালের হস্টেলে যান মন্ত্রী। সেখানকার পরিস্থিতি দেখেও উষ্মাপ্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালের হস্টেলে বেহাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও অসন্তুষ্ট সুমনা। বলেন, “হস্টেলটার কী অবস্থা! কোনও সিকিউরিটি নেই, কিছু নেই, একদম পুরো ওপেন টু অল।” মন্ত্রীর কথায়, “হস্টেলগুলির অবস্থা খুবই খারাপ। ভিতরে নোংরা পড়ে আছে। আমি মিডিয়া নিয়ে যেতেই পারতাম। কিন্তু আমি ছেলেগুলোর ফিউচার নষ্ট করতে চাইনি। আমি ভিতরে গিয়ে ওদের ওয়ার্নিং দিয়ে এসেছি।”
সুমনার অভিযোগ, বিগত সরকারের মদতেই হস্টেলগুলিতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁর আশ্বাস, রাজ্যের বর্তমান সরকার এই অব্যবস্থা বদলাবে। জেএনএম হাসপাতালের হস্টেল কর্তৃপক্ষকেও তিনি এই মর্মে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে এসেছেন। হস্টেলে কে কখন প্রবেশ করছেন, কে কখন বেরোচ্ছেন— তা নথিবদ্ধ করতে বলেছেন তিনি। বেশি রাত পর্যন্ত পড়ুয়ারা কী ভাবে হস্টেলের বাইরে থাকছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মন্ত্রী।
সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার।

