অভিষেকের জন্য জেলে যেতে হয়েছিল অভিযোগ কেষ্টর,ইডির চেয়েও ভয়ানক ‘এবি’ দাবি মদনের! নিঃসঙ্গ মমতা
বাংলার জনরব ডেস্ক : সকালে অভিযোগটা তুলেছিলেন সদ্য মমতাকে ত্যাগ করে চলে যাওয়া মদন মিত্র। তিনি বলেছিলেন, ‘‘দলের পরিণতির জন্য একমাত্র অভিষেক দায়ী। ইডির চেয়েও ভয়ানক ‘এবি’। দল চালাত হিটলারের মতো। ওর জন্য অনেক ব্যক্তিকে জেলে যেতে হয়েছে। যে মাল দেয়নি, তাকেই জেলে যেতে হয়েছে।’’
আর বিকেলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন বীরভূমের তৃণমূল কংগ্রেসের এক সময় কার বেতাজ বাদশা অনুব্রত মণ্ডল। যে অনুব্রত মণ্ডল বা কেষ্ট মন্ডল এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গলা ফাটাতেন সেই অনুব্রত মণ্ডল চাঞ্চল্যকর মন্তব্যটি করে ফেললেন। তিনি আজ বলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই তাকে জেলে যেতে হয়েছিল। আমরা সকলেই জানি যে গরু পাচার মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থা গ্রেফতার করেছিল অনুব্রত মণ্ডলকে। অনুব্রত দীর্ঘদিন দিল্লির তিহাড় জেলে ছিলেন। সেই কারাবাসের দায় এ বার তিনি চাপালেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদের উপর। তাঁর কথায় সায় দিয়েছেন সদ্য কালীঘাট শিবির ছেড়ে বেরিয়ে আসা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রও। তিনি দাবি করেছেন, অভিষেকের জন্য অনেককে জেলে যেতে হয়েছে। যাঁরা টাকা দেননি, তাঁরাই জেল খেটেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে বুধবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন মদন। তাঁর এই শিবিরত্যাগের কথা শুনে অনুব্রত জানান, আগামী দিনে আর কেউই মমতার পাশে থাকবেন না। সকলে ওই শিবির ত্যাগ করবেন। মদনের মতো তিনিও দলের এই পরিস্থিতির জন্য একবাক্যে দায়ী করেছেন অভিষেককে। অনুব্রতের কথায়, ‘‘আমি জেলে গেলাম কেন? কার জন্য গেলাম? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য।’’ তিনি কোন দলে আছেন? কেষ্টর জবাব, ‘‘ঋতব্রতও তৃণমূল, আমিও তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনেক দিন ছিলাম। প্রথম থেকেই ছিলাম। এখনও তৃণমূলেই আছি।’’
বুধবার শিবির বদলের পর মদনের নিশানায় প্রথম থেকেই ছিলেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘‘দলের পরিণতির জন্য একমাত্র অভিষেক দায়ী। ইডির চেয়েও ভয়ানক ‘এবি’। দল চালাত হিটলারের মতো। ওর জন্য অনেক ব্যক্তিকে জেলে যেতে হয়েছে। যে মাল দেয়নি, তাকেই জেলে যেতে হয়েছে।’’ মাল মানে কী? প্রশ্ন করা হয় মদনকে। তিনি বলেন, ‘‘মাল মানে টাকা, টাকা।’’ ভোটের আগে এ সব কথা বলেননি কেন? মদনের দাবি, আগে মুখ খুললে তাঁকেও জেলে পাঠানো হত। তাঁর কথায়, ‘‘তখন তো বললে পুলিশ দিয়ে ঢুকিয়ে দিত। পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে কেউ বলতে পারে?’’
উল্লেখ্য, পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদনের স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে মঙ্গলবার তলব করেছিল ইডি। তার পরেই তিনি ঋতব্রত শিবিরের বিধায়ক সন্দীপন সাহার বাড়িতে গিয়েছিলেন। বুধবার বিধানসভায় গিয়ে সেই শিবিরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে যোগ দিয়েছেন। মমতাপন্থী অনেকেই দাবি করছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থার চাপ দিয়ে মদনকে শিবির ত্যাগ করতে বাধ্য করা হল। একই প্রশ্ন উঠেছে অনুব্রতকে নিয়েও। দাবি, ইটভাটা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই তিনি ঋতব্রতের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কেষ্ট বলেন, ‘‘ও সব বাজে কথা। আমি ও সবে ভয় পাই না। ভোটে হারার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে চার বার ফোন করেছিল। আমি বলেছি, চোখে দেখো না, কানে দেখো তুমি।’’

