মমতার সঙ্গ ছাড়লেন মদন মিত্র!
ফের ভাঙন কালীঘাট তৃণমূলে। এ বার কালীঘাট তৃণমূল ছাড়লেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আস্থাভাজন বলে পরিচিত মদন মিত্র। কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। বুধবার দুপুরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে যান কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক। চোখে কালো রোদচশমা, সাদা পাঞ্জাবি পরে ঋতব্রতের পাশেই বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। ঋতব্রতের ঘরে বসেই কালীঘাট তৃণমূলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
ঘটনাচক্রে, মঙ্গলবারই পুরনিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে মদনের স্ত্রী এবং দুই পুত্রকে তলবের নোটিস দিয়েছিল ইডি। মঙ্গলবার রাতেই এন্টালির বিধায়ক তথা ঋতব্রত শিবিরের নেতা সন্দীপন সাহার বাড়িতে যান মদন। তখনই মদনের শিবির বদল নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। বুধবার দুপুরে সেই জল্পনাতেই সিলমোহর পড়ল।
ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিয়ে মদন বলেন, “তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। কেবল এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো একটা সুখের পালঙ্ক ছিল। এই ঘরে হয়তো একটা খাটিয়া রয়েছে। আমি খাটিয়ার দিকটাই বেছে নিলাম।” শিবির বদলের পর তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। মদন বলেন, “দীর্ঘ দিন তিনি (মমতা) আমাদের পাশে থেকেছেন। আমরাও চেষ্টা করেছি কমবেশি করার।” আগামী ২১ জুলাই তিনি ঋতব্রত শিবিরের কর্মসূচিতেই থাকবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। মদন জানিয়েছেন, শিবির বদলের আগে মমতাকে হোয়াট্সঅ্যাপ করে ‘সরি’ বলেছেন তিনি।
বুধবার সকালে নিজের বাড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে বেরোন মদন। নিজেই গাড়ি চালিয়ে বিধানসভায় পৌঁছোন। তার পরেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতের ঘরে ঢুকে যান। ঋতব্রতের পাশে বসে দু’লাইনের কবিতা পাঠ করেন। বলেন, “জীবন-মরণ, সাঁকোর সামনে বয়স এখন দাঁড়িয়ে, এখন তোমায় বুঝতে হবে, কী হবে, আর কী হবে না। কোন সাঁকোটা পারাপারের, কোন সাঁকোটা পার হবে না। জীবনের এই মুহূর্তটায় এসে আমি দাঁড়িয়েছি। এটা ঠিক যে আমি তৃণমূলের বিধায়ক। কিন্তু তৃণমূলের বিধায়ক নই শুধু, আমি বাংলার বিধায়ক। বিধানসভার সদস্য। তৃণমূলের সব ছেড়ে দিলাম মানে দলের বিধায়ক নই। যত পদ ছিল, কলাপাতায় লিখে দেওয়া পদ। সব ছেড়ে দিলাম।”
শিবির বদল করার পরেই নাম না-করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মদন। বলেন, “দুঃখের বিষয় যখন বাংলার এই সময় নিয়ে ইতিহাস লেখা হবে, তখন লেখা হবে যে, একটা লোকের জন্য গোটা দল, যারা ২১৩ আসন পেয়েছিল, তার সর্বনাশ হয়ে গিয়েছিল।” তবে সেই ‘লোকের’ নাম মদন প্রকাশ করতে না-চাইলেও মনে করা হচ্ছে যে, অভিষেককেই নিশানা করেছেন তিনি। পরে অবশ্য বিধানসভার বাইরে সরাসরি অভিষেকের নাম করেই তোপ দাগেন মদন। ইডি তদন্তের ভয়েই শিবিরবদল কি না, এই প্রশ্নের উত্তরে মদন বলেন, “ইডির চেয়ে এবি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) বেশি ভয়ঙ্কর। দল ছাড়ার মূল কারণই অভিষেক। তৃণমূলে দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আসলে পার্টিটা অভিষেকের নয়, কর্মীদের। হিটলারি কায়দায় চললে হবে না। মানুষের কাছে যেতে হবে।” পাশাপাশি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “প্রমাণ করুন মদন মিত্র কাউকে টাকা নিয়ে চাকরি দিয়েছে। ২৭ মাস জেল খেটেছি। দলের বিরুদ্ধে মুখ খুলিনি।”
মদনের শিবির বদলের জল্পনার মধ্যেই বুধবার সকালে কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, ‘‘যারা পরিবারকে নোটিস পাঠিয়ে গান পয়েন্টে রেখে কারও শিবির বদলানোর চেষ্টা করেন, তাদের সেই ঘৃণ্য রাজনীতি মানুষ বিচার করবেন। মদনদার শরীর যদি ওই দিকে যায় তা হলেও তাঁর মনটা থাকবে কালীঘাটে। মমতাদির সঙ্গে।’’ এই প্রসঙ্গে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেন, “তৃণমূলে মুষলপর্ব চলছে।সমাজের এবং পশ্চিমবঙ্গের কল্যাণের জন্য তৃণমূল দলটা যত শীঘ্র উঠে যায়, ততই ভাল। কে কোথায় কার সঙ্গে দেখা করবে, সেই বিষয়ে আমি কী বলব?”

