যুদ্ধ বিরতি হয়েও শেষ রক্ষা হলো না আমেরিকা ইরান ফের সংঘর্ষ!
আমেরিকার সেনাবাহিনীকে চূড়়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে দিল ইরান। বলা হল, শত্রুপক্ষের যে কোনও আগ্রাসনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বার থেকে ‘বিধ্বংসী জবাব’ দেওয়া হবে। কোনও অজুহাতেই আর রেয়াত করা হবে না। শনিবার দক্ষিণ ইরানে আমেরিকার হামলার পর রবিবার ভোরে পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ করেছে তেহরান। রেভলিউশনারি গার্ড বাহিনী রাত ২টো থেকে ৩টের মধ্যে বোমা ফেলেছে কুয়েত এবং বাহরিনে। ওই দুই দেশে ক্ষয়ক্ষতি কতটা হয়েছে, এখনও স্পষ্ট নয়।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবারই হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, একটা সময়ের পর তাঁর দেশ আর সংযত থাকতে পারবে না। ইরানে যে কাজ তাঁরা শুরু করেছিলেন, তা সামরিক ভাবে শেষ করতে হবে। তা যদি হয়, ইরান দেশটির আর কোনও অস্তিত্বই থাকবে না। এর পরেই ইরানের গার্ড বাহিনী বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ‘‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, চুক্তি ভঙ্গ করা এই আগ্রাসী শত্রুর সহজাত বৈশিষ্ট্য। ওরা রেভলিউশনারি গার্ডের কিছু পদক্ষেপের অজুহাত দিয়ে ইরানের পাঁচটি উপকূলীয় ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এ বার থেকে নিয়ম ভাঙলে যে কোনও জাহাজের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আগের চেয়েও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। ভবিষ্যতে শত্রুর যে কোনও আগ্রাসনের বিধ্বংসী জবাব দেওয়া হবে। গত দু’দিনের মতো কম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতেও নিশানা করা হলেও কেউ ছাড় পাবে না।’’
দু’সপ্তাহ আগেই আমেরিকা এবং ইরান ১৪ দফা শর্তের মউ স্বাক্ষর করেছে। তাতে ৬০ দিনের সংঘর্ষবিরতির কথা বলা হয়েছিল। উভয়পক্ষই চুক্তির শর্ত ভাঙার অভিযোগ তুলছে পরস্পরের বিরুদ্ধে। আমেরিকাকে সেই চুক্তি আরও এক বার মনে করিয়ে দিয়েছে ইরান। তাদের সেনার বক্তব্য, ‘‘শত্রু পক্ষকে বুঝতে হবে, সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘনের অর্থ স্বাক্ষরিত মউ-এর প্রথম ধাপকেই লঙ্ঘন করা। এটা চলতে থাকলে সমঝোতার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই বাতিল হয়ে যাবে।’’
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় ফের শান্তি বিঘ্নিত হচ্ছে। ইরানের নৌ এবং বায়ুসেনা যৌথ ভাবে হামলা চালিয়েছে কুয়েত, বাহরিনে। কুয়েতের সেনাবাহিনী সেই হামলার কথা নিশ্চিত করেছে। তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়। ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হচ্ছে তার মাধ্যমে।

