গ্রেফতার কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন!
বিশেষ প্রতিনিধি : কলকাতা পুরসভার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ জসিম উদ্দিনকে রবিবার সকালে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে পকসো আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, তিন বছর আগে এলাকার এক নাবালিকাকে হেনস্থার ঘটনায় জসিমুদ্দিনের ঘনিষ্ঠদের নাম জড়িয়েছিল। সেই নাবালিকা এখন কলেজছাত্রী। শনিবার তাঁকে ফের হেনস্থা করা হয়। পুরনো মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হয়। তার পরেই থানায় ফের অভিযোগ জানান তরুণীর পরিবারের সদস্যেরা। রাতে সেই ঘটনায় জসিমউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাউন্সিলর-সহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ মামলা রুজু করেছে। বেআইনি কাজ, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, ভয় দেখানো, সম্মতি ছাড়া নির্যাতিতার নাম বা পরিচয় প্রকাশ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে এফআইআর রুজু হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
জসিমউদ্দিন আগে সিপিএমে ছিলেন। ২০১৫ সালে পুরভোটের আগে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। পর পর দু’বার ভোটে জিতেছেন জোড়াফুলের টিকিটে। তৃণমূল সূত্রে খবর, তিনি প্রাক্তন বিধায়ক বিবেক গুপ্তর সহযোগী ছিলেন। তাঁকেই অনুসরণ করতেন। আর কাউকে পরোয়া করতেন না বলে অভিযোগ। তা নিয়ে জসিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে দলের অন্দরেও একাংশে অসন্তোষ ছিল। ২০২৬ সালের ভোটে জোড়াসাঁকো থেকে টিকিট পাননি বিবেক। তার পর থেকে জসিমউদ্দিনও কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে ঘিরে অসন্তোষ বাড়ে। এ বার সেই কাউন্সিলরই পুলিশের জালে।
কলকাতা পুরসভার আরও এক কাউন্সিলর শনিবার রাতে গ্রেফতার হয়েছেন। পাটুলি থেকে বাপ্পাদিত্য দাশগুপ্তকে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। আগে বিজেপি করলেও ২০১০ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। তৃণমূল কাউন্সিলরদের মুখ্য সচেতক পদেও ছিলেন বাপ্পাদিত্য। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতারির তালিকায় জুড়ল জসিমউদ্দিনের নামও।

