রাজ্যজুড়ে গ্যাসের হাহাকার! মমতা সরকারের কড়া পদক্ষেপে নড়ে চড়ে বসলো সরবরাহকারী সংস্থাগুলি
রাজ্যে এলপিজি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বৃহস্পতিবারই আদর্শ কার্যপদ্ধতি (এসওপি) জারি করেছিল নবান্ন। খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুমও। তার পর শুক্রবার থেকেই তৎপরতা চোখে পড়ছে। শহরে গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার দফতরগুলি ঘুরে দেখা শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ। কোথায় কত সিলিন্ডার মজুত করা রয়েছে, জোগান কতটা, গ্রাহকেরা কী ভাবে গ্যাস বুক করছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোথাও কালোবাজারি চলছে কি না, তার খোঁজও নেওয়া হচ্ছে।
সকালে লর্ডস্ মোড়ে একটি গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার দফতরে হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকেরা। গ্যাসের জোগান এবং মজুত নিয়ে খোঁজখবর নেন। রেজিস্টার খতিয়ে দেখেন। শহরের পাশাপাশি জেলাতেও একই ছবি। মধ্যমগ্রামের বাদুতে একটি গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার দফতরে হানা দিয়েছিল পুলিশ। বারাসত পুলিশ জেলার এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ সেখানকার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে। অভিযোগ, ওই গুদামে প্রচুর সিলিন্ডার মজুত করা রয়েছে। কিন্তু এলাকার মানুষ গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাসের জোগানে প্রাথমিক ভাবে কিছু গরমিল ধরা পড়েছে। তবে পুলিশ ও এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ডিলারেরা জানিয়েছেন, গরমিল নেই। দিনের শেষে নিয়ম অনুযায়ী হিসাব মিলিয়েই গ্যাস রাখেন তাঁরা।

জলপাইগুড়ির একটি সরবরাহকারী সংস্থার দফতরে নোটিস টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ৯ মার্চের পরে যাঁরা গ্যাস বুক করেছেন, তাঁদের এখনই সিলিন্ডার দেওয়া সম্ভব নয়। পরবর্তী ধাপের জোগান এলে তাঁরা গ্যাস পাবেন। হুগলিতে গ্যাসের জোগান এবং সরবরাহ খতিয়ে দেখতে বিশেষ শাখার পুলিশ নিয়ে তদরকিতে নেমেছেন মহকুমাশাসক। চুঁচুড়া, ব্যান্ডেল, ডানলপের কয়েকটি গুদামে তাঁরা অভিযান চালিয়েছেন।
শহরে গ্যাস সরবরাহকারীদের বক্তব্য, আতঙ্কে মানুষ সিলিন্ডার বুক করছেন। কিন্তু জোগান আগের চেয়ে বাড়েনি। সেই কারণেই সমস্যা হচ্ছে। যোধপুর পার্ক এলাকার এক গ্যাস সরবরাহকারী শঙ্কর প্রসাদ নস্কর বলেন, ‘‘আগে আমাদের অফিসে সাধারণ ভাবে ৪০০-৫০০ বুকিং হত। এখন হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আগেও ৫২৫টি সিলিন্ডারের গাড়ি আসত। এখনও তা-ই আসে। বুকিং বেড়ে যাওয়ায় কুলোচ্ছে না। দিনে একটি করেই গাড়ি পাচ্ছি। লোকে আতঙ্কে বুকিং করছেন। গ্যাস না পেয়ে অনেকে দফতরে চলে আসছেন।’’
রুবি এলাকার বাসিন্দা অশোককুমার মাহাতো বলেন, ‘‘আমার এক মাস আট দিন হয়ে গিয়েছে। একটাই সিলিন্ডার। গ্যাস শেষ হয়ে এসেছে। যে কোনও দিন ফুরিয়ে যাবে। বুক করতে পারছি না।’’ আর এক বাসিন্দা জানান, ৮ তারিখ তিনি ফোন করে গ্যাস বুক করেছিলেন। কিন্তু ফোনে মেসেজ আসেনি। কাউন্টার থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে, সার্ভার ডাউন। ওই গ্রাহকের কথায়, ‘‘আমার ঘরে অসুস্থ রোগী আছেন। ২৭ দিন পরেও বুক করতে পারছি না। কী ভাবে চালাব?’’ পোদ্দার নগর হাই স্কুল থেকে গ্যাসের খোঁজ নিতে দফতরে এসেছিলেন সুশান্ত কুমার বাগ। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের হস্টেলে ৫০ জন আবাসিক ছাত্র আছে। গ্যাস যা আছে, তাতে আর ক’টা দিন চলবে। তার পর আর চালাতে পারব না। আমরা বাণিজ্যিক গ্যাস ব্যবহার করি। মাসে পাঁচ-ছ’টা করে সিলিন্ডার লাগে। চলতি মাসে এখনও বুকিং করিনি। এখানে বলছে গ্যাসের জোগান নেই। বাধ্য হয়ে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করছি।’’

