কৃত্রিম-বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনুসন্ধান সোসাইটির অনলাইন কর্মশালা
বিশেষ প্রতিনিধি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী দিনে সমাজের জন্য উপকার না অপকার?– এই বিষয় নিয়ে এক বিতর্ক সভা হতে যাচ্ছে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি। অ্যাসোসিয়েশন ফর এডভান্সমেন্ট ইন প্লান্ট প্রটেকশন এর কৃষি সংক্রান্ত এক আন্তর্জাতিক সেমিনার উপলক্ষে কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিসটিক্যাল ইনস্টিটিউট-এ অনুষ্ঠিত হবে এই বিতর্কসভাটি। এই বিতর্ক সভার প্রস্তুতি এবং রাজ্যের প্রান্তিক অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে কাজ করে’– সে বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার উদ্দেশে অনুসন্ধান সোসাইটি শনিবার এক অনলাইন কর্মশালার আয়োজন করে। বিভিন্ন জেলার প্রায় ২২ টি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা এই আলোচনাচক্রে অংশ নেয়। সক্রিয়ভাবে অংশ নেয় দক্ষিণ দিনাজপুরের বেস আন-নূর মডেল স্কুলের ছাত্র এবং ছাত্রীদের বিভাগ।
এদিনের এই কর্মশালায় মুখ্য বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী ড. মানার আলম। তিনি বলেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স– নাম থেকেই বোঝা যায় এই যে বুদ্ধিমত্তা, তা মৌলিক নয় বরং মানুষের তৈরি করে দেওয়া বা বলা যায় মানুষের শেখানো। মানুষের দেওয়া তথ্য থেকে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্যাটার্ন ফলো করে। বিভিন্ন প্যাটার্ন থেকে সমন্বয় সাধন করে সে অতি দ্রুত উন্নততর নির্মাণ করে ফেলতে পারে। সে কাজ করতে পারে রাত-দিন ক্লান্তিহীন ভাবে।

তার কাজ এত দ্রুত যা মানুষের কাজের কয়েক হাজার গুণের সমান হতে পারে। এ আই-এর সমস্ত কাজ সম্পাদন হয় যুক্তির ভিত্তিতে অনুমান করে। লেখা থেকে শব্দ, শব্দ থেকে লেখা, টেক্সট থেকে শব্দ করতে পারে অবিলম্বে। বলা যায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের এক প্রকার প্রতিচ্ছবি। তবে এরা কী কোনো ভুল করে না? না, তেমন নয়। বিজ্ঞানী বলেন, ভুলত্রুটি এদের হয়েই থাকে, স্বাভাবিকভাবেই এদের উপর সম্পূর্ণ বিশ্বাস করা ঠিক নয়। মানুষের মতো তো এ আই-এর অনুভূতি নেই, বিবেকও নেই। তাই যাচাই-বাছাই না করে অন্ধের মতো অনুসরণ করলে বিপদ চলে আসতে পারে। তিনি আরো বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপপ্রয়োগের ক্ষেত্রটিও খুব ছোট নয়। এগুলি সম্পর্কেও আমাদের অত্যন্ত সচেতন থেকে বিজ্ঞানের এই দুরন্ত আবিষ্কারকে ব্যবহার করা উচিত। বেশ কয়েকটি প্রশ্ন নিয়ে এদিন আলোচনা করা হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত কখনো হতে পারবে? এর উত্তরে ড. আলম বলেন, এ আই এখনো সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়, বিজ্ঞানীরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন একে যথাসম্ভব ত্রুটিমুক্ত করতে। তবে মনে রাখতে হবে মানুষের মাথার সমান মেশিন কোনোদিন হতে পারে না, এরা মাথার অনুকরণ করে।
অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঘটনা যাই হোক না কেন, উন্নত মানের এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে তৎপর আমাদের হতেই হবে এবং এর জন্য প্রয়োজন একেবারে ছোটবেলা থেকে গণিত, লজিক্যাল রিজনিং, স্ট্যাটিস্টিকস ইত্যাদি নিয়ে ভালো করে পড়াশোনা করা, তবেই আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। বিজ্ঞানী মানার আলম সকলকে এভাবেই শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।
এদিন আলোচনা শেষে অনুসন্ধান চিফ অ্যাডভাইজার বিশিষ্ট কৃষিবিজ্ঞানী অধ্যাপক মতিয়ার রহমান খান সকলকে ধন্যবাদ প্রদান করে বলেন বিজ্ঞানের এই অগ্রগতিকে ঠিকমতো করে বোঝার চেষ্টা করতে হবে এবং অবশ্যই এর সাহায্য নিয়ে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে কর্মক্ষেত্র কোনো কোনো বিভাগে সংকুচিত হয়েছে, একথা ঠিক। কিন্তু একই সঙ্গে উন্মোচিত হয়েছে কাজের নানান দিক ও বিভাগ। পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের খাপ খাইয়ে চোখ কান বিবেক বুদ্ধি খোলা রেখে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুসন্ধান সোসাইটির সম্পাদক গৌরাঙ্গ সরখেল ও উপ সম্পাদক শুভজিৎ মাইতি জানান এদিনের আলোচনার পরবর্তী পর্ব আগামী শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রশ্ন উত্থাপিত হলে তা অনুসন্ধান কেন্দ্রে পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

