কলকাতা 

মাধ্যমিক ২০২৬: গণিত, পরীক্ষা হলের তিন ঘণ্টা পনের মিনিট/নায়ীমুল হক

শেয়ার করুন

মাধ্যমিক ২০২৬ গণিত

 *পরীক্ষা হলের তিন ঘণ্টা পনের মিনিট*

               নায়ীমুল হক

মাধ্যমিক নিয়ে কত কথাই না শুনছিলে। দেখলে তো, কত সহজ। এবার গণিত। রাত পেরোলেই দৌড়াতে হবে পরীক্ষাকেন্দ্রে।

রবিবার সারাদিন গুছিয়ে নেওয়ার পালা। একে একে– পাটিগণিত ,বীজগণিত, জ্যামিতি, ত্রিকোণমিতি, পরিমিতি আর সবশেষে রাশি বিজ্ঞান।

Advertisement

এবার আসা যাক, পরীক্ষা হলের তিন ঘণ্টা পনের মিনিটের কথায়।

প্রশ্নপত্র হাতে পাচ্ছ দশটা পঁয়তাল্লিশে।

প্রথম ১৫ মিনিট প্রশ্নপত্র পড়ার সময়। যথার্থই, খুব মনোযোগ লাগিয়ে ধৈর্য্য ধরে একের পর এক অংক গুলো দেখতে থাকো। মনে রেখো, এই সময়ে কোনো অংক পারবে না বলে মনে হলেও, একেবারেই ঘাবড়ে যেও না। দু চারটে এ’ রকম থাকতেই পারে! তাতে কি? বাকিগুলো তো পারবে। তাই না! নিজের উপর ভরসা রাখো।

ঠিক এগারোটা বাজে, এবার তোমার শুরু উত্তরপত্রে লেখা। এগারোটা থেকে দুটো অর্থাৎ তিন ঘন্টা, মানে মোট ১৮০ মিনিট। ৯০ নম্বরের জন্য ১৮০ মিনিটের এই লড়াইয়ে তুমি আগে থেকে ঠিক করে নিয়েছো– কোন কোন দাগের জন্য কত সময় ব্যয় করবে। একদম ক্রম অনুযায়ী পরপর উত্তর করবে, নাকি তোমার পছন্দমতো বিভাগ আগে করবে? দুটোতেই কোনো সমস্যা নেই। তোমার যেটা সুবিধা, সেটাই তুমি করবে। তবে এটুকু বলার, যখন যে দাগের অংক ধরবে সেই অংক গুলো পরপর করার চেষ্টা করবে। যেমন মনে করো, ১ নম্বর দাগে থাকে এমসিকিউ, ছটাই করতে হয়। ২ ও ৩ দাগে থাকে যথাক্রমে শূন্যস্থান পূরণ ও সত্য-মিথ্যা নির্ণয়। ছটা করে থাকে, পাঁচটা করে করতে হয়। যেগুলো পারবে দাগ নম্বর ধরে পরপর করবে। ৪ নম্বর দাগের সংক্ষিপ্ত প্রশ্নে থাকে বারোটা, করতে হয় দশটা। এগুলো খাতায় তুমি যেখানেই করো, চার দাগের নম্বর দিয়ে পরপর প্রশ্নের উত্তর করবে। কোনোটা না পারলে, তার জন্য জায়গা রেখে পরের উপ-দাগে যাবে।

৫ নম্বরে থাকে পাটিগণিত। দুটো থাকবে, একটা করবে।

৬, ৭ এবং ৮ নম্বর দাগে বীজগণিত। প্রত্যেকটা থেকে একটা করে করতে হবে।

৯, ১০ এবং ১১ দাগে জ্যামিতির উপপাদ্য, এক্সট্রা এবং সম্পাদ্য– পরপর।

১২ ও ১৩ দাগে ত্রিকোণমিতি।

১৪ দাগে পরিমিতি। তিনটেয় দুটো করবে। ভালো করে একক মিলিয়ে সঠিক ক্যালকুলেশন করবে।

সর্বশেষ ১৫ দাগে রাশি বিজ্ঞান, তিনটের মধ্যে করবে দুটো।

এবার বলি রিভিশন করার বিষয়ে –

বাড়িতে বসে ঘড়ি ধরে বারবার পরীক্ষা দিয়েছো। অতঃপর আর বলতে হবে না, যাতে পরীক্ষা হলে ঠিক দেড়টার মধ্যে অর্থাৎ পরীক্ষা শুরু হওয়ার আড়াই ঘন্টার মধ্যে তোমার সম্পূর্ণ উত্তরপত্র লেখা যেন শেষ হয়ে যায়। বাকি সময়টা রিভিশন, ক্যালকুলেশন গুলো ঠিকমতো চেক করা, সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে কিনা এবং দাগ নম্বর যথাযথ পড়েছে কিনা সেটা দেখার। এছাড়াও, অনেক সময়ে উল্টো দিক থেকে উত্তর চেক করে দেখে নেয়া যায়, ঠিক হয়েছে কিনা। শেষ পাঁচ থেকে দশ মিনিট হাতে রাখবে মোস্ট-পারফেকশন চেক করার জন্য। অর্থাৎ, তোমার

উত্তরপত্রটি সর্বাঙ্গীন সুন্দর হয়ে উঠতে পারলো তো! সেটাই এ সময় দেখে নেবে।

অংক পরীক্ষা তোমার এবং তোমাদের প্রত্যেকের সুন্দর হবে, এই বিশ্বাস আছে, এই কামনাও রইলো। প্রত্যেককে শুভাশিস জানাই।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ