জেলা 

বোলপুরের আইসি লিটন হালদারের বিরুদ্ধে বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, শুরু বিভাগীয় তদন্ত

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : অনুব্রত মণ্ডল অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ দিয়েছিলেন যে পুলিশ অফিসারকে এবার সেই পুলিশ অফিসার বড়সড় অভিযোগের মধ্যে পড়তে চলেছেন। বীরভূম পুলিশ সূত্রে খবর ওই অফিসারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। বোলপুরের বহু মানুষ আইসি-র বিরুদ্ধে বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসাজোশ ও তোলাবাজির অভিযোগ করেছেন ৷ সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে ৷

এছাড়া, কীভাবে ফোন কলের অডিয়ো রেকর্ডিং ভাইরাল হল, সেটাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে ৷ শনি, রবি ও সোমবার পুলিশি হাজিরা এড়ালেও, আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেননি অনুব্রত মণ্ডল ৷ এদিনও অনুব্রত নিজেকে নিচুপট্টীর বাড়িতে গৃহবন্দি করে রেখেছেন বলে খবর ৷

Advertisement

এ নিয়ে বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং বলেন, “সব বিষয় নিয়েই বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে ৷ এখনই এর বেশি কিছু বলব না ৷” অনুব্রত মণ্ডল তিহাড়ে থাকাকালীন 2 বছর আগে ভবানী ভবনের সিআইডি থেকে বদলি করে লিটন হালদারকে বোলপুর থানার আইসি পদে বসানো হয় ৷

প্রসঙ্গত, অনুব্রত মণ্ডল বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে গালিগালাজ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে ৷ ছড়িয়ে পড়ে সেই কথোপকথনের অডিয়ো ক্লিপ ৷ যে অডিয়ো ক্লিপকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতি এবং পুলিশমহলে ৷ তবে, এখানেও একাধিক তথ্য সামনে এসেছে ৷

জানা গিয়েছে, বেশকিছু ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইসি’র ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন অনুব্রত ৷ অনুব্রত’র অভিযোগ ছিল, আইসি বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যুক্ত ৷ এমনকি যে কেউ অভিযোগ দায়ের করতে গেলে টাকা চান আইসি ৷ এমন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে অনুব্রত অনুগামীরাও বোলপুর নাগরিক মঞ্চের নামে থানা ঘেরাও করেছিল ৷ ঘেরাওয়ের দিন প্রচুর মানুষ জড়ো হয়েছিলেন ৷ ওই দিনই অনুব্রতর সঙ্গে কথোপকথনের অডিয়ো ক্লিপ ছড়িয়ে পড়ে ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন এত মানুষ আইসি’র বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত ৷ শুধুই কি অনুব্রতর নির্দেশেই ঘেরাও-বিক্ষোভ ? নাকি আইসি’র বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগ সত্যি ? এই সমস্ত বিষয় নিয়ে এবার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে ৷ শুধু তাই নয়, কীভাবে দু’জনের কথোপকথনের অডিয়ো ক্লিপ বাইরে বেরলো ? তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ কারণ, গোপনীয়তার অধিকার আইন অনুযায়ী, অডিয়ো ক্লিপ ফাঁস করা বেআইনি ৷ এই বিষয়টিও আইসি’র বিরুদ্ধে তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে ৷

উল্লেখ্য, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, বোলপুর থানার আইসি ওই অডিয়ো ক্লিপ বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখকে দিয়েছিলেন ৷ আর কাজল শেখ তা বাইরে ছড়িয়ে দিয়েছেন ৷ এই বিস্ফোরক অভিযোগের পরে কাজল অবশ্য শুভেন্দুর বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ৷

আইসি-কে গালিগালাজ ও হুমকির ঘটনায় অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা বা বিএনএস 224 (সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও কর্তব্যরত কর্মীকে হুমকি), 132 (সরকারি কর্মচারীকে হেনস্তা), 75 (শ্লীলতাহানি ও হেনস্তা) ও 351 (হুমকি) ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে ৷ তেমনই আইসি লিটন হালদারের বিরুদ্ধেও এবার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হল ৷


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ