কলকাতা 

ধর্মের নামে ব্যবসা করে কিছু রাজনৈতিক দল ওদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই, কেউ গোলমাল পাকাতে আসলে মনে রাখবেন আপনাদের সঙ্গে দিদি আছেন : মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলায় কিছু ব্যক্তি সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা রকম বিতর্কিত মন্তব্য করা হচ্ছে। নানারকম বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে এইসব বিদ্বেষকে উপেক্ষা করুন এদেরকে গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই মনে রাখবেন আপনাদের পাশে আমি আছি। আমি হিন্দুর পাশে আছি আমি মুসলমানের পাশে আছি আমি খৃষ্টানের পাশে আছি আমি শিখের পাশে আছি। প্ররোচনার তৈরি করার জন্য এক শ্রেণীর গোষ্ঠীর মানুষ চেষ্টা করে চলেছে। দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে চলেছেন। কোন প্ররোচনাতে আপনারা পা দেবেন না, আজ সোমবার ৩১ শে মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলকাতার রেড রোডে আয়োজিত সবচেয়ে বড় জামাতে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নামাজ শেষ হওয়ার পর উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপরোক্ত কথাগুলি বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার সকাল ৯টা নাগাদ রেড রোডে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক এবং মন্ত্রী জাভেদ খান। মমতা এবং অভিষেক সমাবেশএ বক্তৃতাও করেন। দু’জনের বক্তব্যের সিংহভাগ জু়ড়েই ছিল রাজ্যে এবং দেশে সম্প্রীতিরক্ষার আহ্বান। একই সঙ্গে ‘গোলমাল’ পাকানোর চেষ্টা করার জন্য কেন্দ্রের শাসকদলকেও নিশানা করেন তাঁরা। মমতা এক ধাপ এগিয়ে সিপিএম-বিজেপিকে একই বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “লাল আর গেরুয়া এক হয়ে অশান্তি করছে। আমরা বিভাজনের রাজনীতি করি না। ধর্মের নামে ব্যবসা করে কিছু রাজনৈতিক দল।” ভাষণে বরাবরের মতোই সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, সব ধর্মের প্রতিই তিনি সমান শ্রদ্ধাশীল। উপস্থিত সকলকে সাবধান করে জানান, কেউ কেউ গোলমাল পাকানোর চেষ্টা করছেন। প্ররোচনায় যেন কেউ পা না-দেন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি বলেন, “কেউ গোলমাল পাকাতে এলে মনে রাখবেন, দিদি আছে।”

এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, অশান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হলে কড়া হাতে দমন করা হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না। উল্লেখ্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিবছর ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে রেড রোডে উপস্থিত থাকেন। এ বছরও তিনি ছিলেন। বাংলার সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে বিশেষ করে মালদহের মোথাবাড়ি, মুর্শিদাবাদের নওদা এবং গঙ্গারামপুরে যে অশান্তি সৃষ্টি হয়েছিল তার প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আজকের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ