তৃণমূল ও বিজেপি কৃষক শ্রমিক এবং সাধারন মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলে না, এরা ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করে ক্ষমতাকে ধরে রাখার চেষ্টা করছে : নওসাদ সিদ্দিকী
বিশেষ প্রতিনিধি : লোকসভা নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিপিএম কংগ্রেস এবং বিজেপি সকলই যে যার মত করে মানুষের কাছে যাচ্ছেন এবং তাদের কথা বলছে। ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট মূলত দক্ষিণ বঙ্গের রাজনৈতিক দল হিসাবে নিজেদেরকে খানিকটা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিল গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তাদের সাফল্য সে কথায় বলছে। দক্ষিণবঙ্গের সাফল্যের পর এবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এর নজরে উত্তরবঙ্গ। গত অক্টোবর মাস থেকে নওসাদ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের টিম বেশ কয়েকবার উত্তরবঙ্গ সফর করেছেন এবং তাদের জনসভা গুলোতে ইর্ষণীয় ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে আগামী লোকসভা নির্বাচনে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট দক্ষিণ বঙ্গ তো বটেই উত্তরবঙ্গেও যে সাড়া ফেলবে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।

গতকাল ৩১শে ডিসেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে সভা করতে গিয়েছিলেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এর বিধায়ক পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী। তিনি সেখানে গিয়ে স্বভাব সিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূল এবং বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন,মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বললেই আমাদের দালাল বলে প্রচার করা হচ্ছে। আসলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে পেরে উঠছে না বলেই এই কুৎসা রটানো চলছে।

তিনি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দুই দলই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে ক্ষমতা ধরে রাখতে চাইছে।
তাঁর অভিযোগ দেশের কৃষক, শ্রমিক সহ সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে এঁরা কোন কথা বলেনা। যখন কেন্দ্রীয় সরকারের জনবিরোধী কৃষি বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা হচ্ছে, তখন তৃণমূলী সাংসদদের অপদার্থতা আমরা দেখেছি। এমন মানুষদের সংসদে পাঠানো দরকার যারা কৃষকদের অধিকার নিয়ে কথা বলবে।

নওসাদ সিদ্দিকী আরো বলেন, আইএসএফ যেমন ওয়াকফ সম্পত্তির তছরুপ নিয়ে কথা বলে, তেমনই দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধার নিয়েও কথা বলে। সেইজন্য দালালির তকমা দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, তৃণমূলের যদি এতই মুসলমান দরদী হয় তাহলে সাচার কমিটির সুপারিশ নিয়ে গত বারো বছরে কোন উচ্চবাচ্য করছে না কেন? এইসব প্রশ্ন আমরা তুলছি বলে তারা আমাদের কন্ঠরোধ করতে চাইছে। তিনি বলেন, রাজ্যে সাড়ে ছয় লক্ষ শূণ্যপদ পূরণের কোন উদ্যোগ রাজ্য সরকার নিচ্ছে না। এই পদগুলি পূরণ করা একান্ত জরুরী। কৃষিজ ফসলের ন্যায্য মূল্য দেওয়ার দাবিতেও দল সোচ্চার হবে বলে তিনি জানান।

জনসভায় দলের রাজ্য কমিটির সম্পাদক বিশ্বজিত মাইতিও তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মেরুকরণ রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই রাজ্যের সরকার উন্নয়নের নামে মানুষকে ধাপ্পা দিয়ে দুর্নীতি করে চলেছে। এই অবস্থা পরিবর্তনে তিনি দলের সংগঠনকে জোরদার করার আহ্বান জানান। এই সমাবেশে আইএসএফের দক্ষিণ দিনাজপুরের আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম সহ জেলার সাংগঠনিক কমিটির সদস্যবৃন্দ, দলের মালদা জেলা সভাপতি আলি কালিমুল্লাহ, সম্পাদক কারিমুল্লাহ হক, জেলা কমিটির সদস্য শ্রীমান হাঁসদা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন

