গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাাধিকারে লঙ্ঘন: ইরান
বাংলার জনরব ডেস্ক : অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় নিরীহ অসামরিক ফিলিস্তিনিদের উপর যেভাবে পাশবিক গণহত্যা চালাচ্ছে তা বিশ্বের সমস্ত মানবাধিকার বিরোধী, জেনিভা চুক্তির লংঘন বলে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান গতরাতে (সোমবার রাতে) হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজার্তোর সঙ্গে এক ফোনালাপে এ মন্তব্য করেন।
ফোনালাপে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান ও হাঙ্গেরির মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলাচনা ও মতবিনিময় করেন।গাজা উপত্যকায় ভয়াবহ ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের কারণে সেখানকার বিপর্যস্ত মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, গাজা উপত্যকার জনগণের ওপর নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে ইসরাইল সরকার সুস্পষ্টভাবে সব ধরনের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। তিনি গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করে সেখানে মানবিক ত্রাণ প্রবেশের সুযাগ করে দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস ইসরাইলের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করে নজিরবিহীন হামলা চালায়। সেদিন থেকেই ইসরাইলের বিমান বাহিনী গাজায় ভয়াবহ রক্তাক্ত অভিযান শুরু করে যা এখন পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলছে।
বিগত ১ মাসে ইসরাইলের হামলায় নিহতের সংখ্যা ১২ হাজার ছাড়িয়েছে যাদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু ও নারী। অন্যদিকে ইসরাইলে নিহত হয়েছে ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ। হামলার প্রথম দিনই ইসরাইল থেকে অন্তত ২৪০ জনকে যুদ্ধবন্দি হিসেবে গাজায় ধরে নিয়ে যায় হামাস। গাজা উপত্যকার ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে অন্তত ১৫ লাখ বেসামরিক লোক হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ফোনালাপের অন্য অংশে ইরান ও হাঙ্গেরির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান। তিনি শিগগিরই দু’দেশের যৌথ কমিশনের বৈঠক আয়োজনের ব্যাপারে তেহরানের প্রস্তুতি ঘোষণা করেন। ফোনালাপে হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সকল ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ও সহযোগিতা শক্তিশালী করতে হাঙ্গেরির প্রস্তুতি ঘোষণা করেন।
ইরানের এই ধরনের মন্তব্য শুধু তার একার নয় সমগ্র বিশ্ব জনমত মনে করছে ইসরাইল সব ধরনের মানবাধিকার আইন লংঘন করে চলেছে পশ্চিমাদের মদতে এই গণহত্যা চলছে ।

