‘যা করেছি বেশ করেছি। এতে আমার একটুও আক্ষেপ নেই’ বলেছেন সংখ্যালঘূ পড়ুয়াকে মারের নিদান দেওয়া উত্তরপ্রদেশের সেই শিক্ষিকা
বাংলার জনরব ডেস্ক : নিজের কৃতকর্মের জন্য কোনো অনুশোচনা নেই । একজন শিক্ষিকা হয়েও একটি মুসলিম পড়ুয়াকে যেভাবে সহপাঠীদের মার খাইয়েছেন এবং ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন তা একথায় সাংবিধানিক অপরাধ । কিন্ত তাতে কী উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের ওই প্রতিবন্ধী স্কুল শিক্ষিকা তৃপ্তা ত্যাগীর কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই । এমনকি দেশজুড়ে সমালোচনার মুখেও কোনো আক্ষেপ নেই , দুঃখপ্রকাশ নেই ।
বরং তিনি ঔদ্ধত্যের সঙ্গে বলছেন, ‘যা করেছি বেশ করেছি। এতে আমার একটুও আক্ষেপ নেই। আমি শিক্ষিকা হিসাবে বহু বছর এই গ্রামের মানুষের সেবা করেছি। এই গ্রামের সকলেই আমার সঙ্গে আছেন।’ তৃপ্তা ত্যাগীর বক্তব্য, পড়ুয়াদের নিয়ন্ত্রণ করা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আর আমরা এভাবেই পড়ুয়াদের নিয়ন্ত্রণ করি।
ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সহপাঠীদের দিয়ে এক মুসলিম পড়ুয়াকে মারধর করিয়েছেন। মূল ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরের একটি বেসরকারি স্কুলের। নামতা বলতে পারেনি এক মুসলিম পড়ুয়া। এর পরই ক্লাসের শিক্ষিকা নির্দেশ দেন, সহপাঠীরাই ওই পড়ুয়াকে মারধর করবে। শিক্ষিকা আরও বলেন, মুসলিম মহিলারা তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখেন না। সেই জন্যই মুসলিম পড়ুয়াদের পড়াশোনার মান এত খারাপ। গোটা ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যার পর নিন্দায় সরব হয়েছে গোটা দেশ।
কংগ্রেস, AIMIM-এর মতো বিরোধী দল তো বটেই প্রকাশ রাজ, স্বরা ভাস্করদের মতো সেলিব্রিটিরাও ওই শিক্ষিকার নিন্দা করেছেন। চাপে পড়ে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। যদিও ওই শিক্ষিকা সাফ বলছেন, ছোট ঘটনাকে বড় করে তোলা হয়েছে। বলেন, “আমার তেমন উদ্দেশ্য ছিল না। আমি ভুল স্বীকার করছি কিন্তু অকারণে বড় ইস্যুতে পরিণত করা হয়েছে।”

