জ্ঞানব্যাপী মসজিদের সমীক্ষায় পক্ষেই রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট, মসজিদ কমিটির আবেদন খারিজ
বাংলার জনরব ডেস্ক : শেষ পর্যন্ত এলাহাবাদ হাইকোর্ট বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (আর্কিয়োলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া বা এএসআই)-কে সমীক্ষার ছাড়পত্র দিল।মসজিদ চত্বরে কোনও রকম সমীক্ষা করা যাবে না বলে ‘অঞ্জুমান ইন্তেজামিয়া (জ্ঞানবাপী) মসজিদ কমিটি’র পক্ষ থেকে আবেদন জানানো হয়েছিল, বৃহস্পতিবার এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রীতিনকর দিবাকরের বেঞ্চ তা খারিজ করে দিয়েছে। তবে বিতর্কিত ওজুখানায় পাওয়া তথাকথিত ‘শিবলিঙ্গ’ এবং সন্নিহিত এলাকায় এখনই কোনও সমীক্ষা হবে না বলে বারাণসী জেলা আদালত গত ২১ জুলাই যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা বহাল রেখেছে ইলাহাবাদ হাই কোর্ট।
হাই কোর্টের নির্দেশে খুশি প্রকাশ করে হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণু জৈন বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘আমরা নিশ্চিত, এএসআই-এর পুরাতত্ত্ব বিশেষজ্ঞেরা এ বার সত্যটা প্রকাশ করবেন।’’ গত ২১ জুলাই বারাণসী জেলা আদালতের সিনিয়র বিচারক অজয়কুমার বিশ্বেস হিন্দু পক্ষের আবেদন মেনে জ্ঞানবাপী মসজিদের ‘সিল’ করা এলাকার (ওজুখানা এবং ভূগর্ভস্থ জলাধারের তথাকথিত শিবলিঙ্গ) বাইরে এএসআই-কে সমীক্ষার অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মসজিদ কমিটি।
গত ২৪ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ ৪৮ ঘণ্টার জন্য বারাণসী জেলা আদালতের নির্দেশের (জ্ঞানবাপী চত্বরে পুরাতাত্ত্বিক সমীক্ষা) উপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। ওই সময়সীমার মধ্যে এ বিষয়ে ইলাহাবাদ হাই কোর্টে আবেদন করার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। ২৬ জুলাই মসজিদ কমিটির তরফে হাই কোর্টকে জানানো হয়েছিল, সমীক্ষার অনুমতি দিলে প্রাচীন ওই সৌধের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট বলেছিল, ‘‘আপনারা যদি এএসআই-এর বিশেষজ্ঞদের আশ্বাসেও আস্থা রাখতে না পারেন, তা হলে কিছুই বলার নেই।’’
তবে এর বিরোধিতা করে পুরাতত্ত্ব বিভাগ আদালতকে জানিয়েছিল তারা এমনভাবে সমীক্ষার কাজ করবে যাতে প্রাচীন এই সৌধের কোন ক্ষতি হবে না। শেষ পর্যন্ত এলাহাবাদ হাইকোর্ট দেশের এই প্রাচীনতম মসজিদে সমীক্ষা করার অনুমতি দিয়ে দিল । পুরা তত্ত্ব বিভাগ এবার কি সিদ্ধান্ত নেয় সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশের মানুষ অন্যদিকে মসজিদ কমিটি আবারও সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

