স্মৃতিচারন : বিদায় মহারাজ/ সেখ আফতাব উদ্দিন সরকার
মোশারাফুল ইসলাম আরামবাগ মহকুমার সন্তান। কিন্তু কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে বাস করছেন। গতকাল সোমবার ৬ই মার্চ তিনি আমাদের সকলকে ছেড়ে পরলোকে যাত্রা করলেন। বেকার যুবক থেকে শুরু করে শিক্ষক, উকিল, অধ্যাপক নর, নারী সকলেরই আড্ডাখানা ছিল মোশারাফুল ইসলাম তথা মহারাজের কংগ্রেস এক্সিবিশন রোডের ঘরটিতে। আজ সেই আড্ডাখানা বন্ধ হয়ে গেল। মহারাজ চলে গেলেন। তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে ভারাক্রান্ত মনে ৯১ বছর বয়সে কবিতা লিখলেন আরেকজন বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ব্যবসায়ী সেখ আফতাব উদ্দিন সরকার। বাংলার জনরব সেই কবিতাটি গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করছে এই কবিতার মধ্যে ধরা পড়েছে মহারাজের চরিত্রের বিশেষ দিকগুলি।
বিদায় মহারাজ
সেখ আফতাব উদ্দিন সরকার
আমাদের সকলের মহারাজ
শবেবরাতের আগের দিন
দ্বিপ্রহরে বিদায় নিলেন আজ।
মহারাজের আড্ডাখানার ভক্ত সদস্যগণ
তার মুক্তি পাওয়ার আনন্দে সকলেই সকরুন।
বন্ধু বৎসল বিবেচক স্পষ্টভাষী যুক্তিবাদী
ধার্মিক মহারাজ মোশারাফুল ইসলাম
আজ নির্বাক।
আমাদের হাসাবার ভাবাবার মাতাবার
লোকটি চলে গেলেন আজ।
এবার তাকে শান্তিতে রাখুন হে পরমেশ্বর!
আমাকে এক বুজুর্গ বন্ধু উপদেশ দিলেন
ঘর থেকে ছবি মূর্তিগুলো সরিয়ে ফেলুন।
এগুলি দেখলে ফেরেশতারা ঘরে ঢুকতে পারবে না।
শুনে মহারাজ আরো কিছু ছবি মূর্তিতে
থাকার ঘরটিতে ভরিয়ে রাখতে বললেন।
যেন ফেরেশতারা কোন মতেই ঢুকতে না পারেন!
বললেন আজরাইল ফেরেশতা না ঢুকতে পারলে
অমর হয়ে যাবেন।
এমনই ছিলেন আমাদের মহারাজ!
আমাদের কয়জনেরও সময় ঘনিয়ে এসেছে
শীঘ্রই তাঁর ওপারের আড্ডা খানায়
যেন জুটতে পারি! আমিন!

