কলকাতা 

পশ্চিমবঙ্গ সহ ছয়টি রাজ্য জুড়ে তৈরি হচ্ছে ‘হাতির করিডর’

শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রবল বঞ্চনা ও পশ্চিমবঙ্গ বনদপ্তরকে কোনো প্রকার সহযোগিতা না করার পরেও, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পার্শ্ববর্তী ৬টি রাজ্য যথা ছত্রিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, বিহার, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে “হাতির করিডোর” তৈরি হচ্ছে ।

দেশব্যাপী হাতির সাথে মানুষের সংঘাত ক্রমশ বড় আকার ধারণ করছে , কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে ২০১৯-২০ সালে ১৩৪জন , ২০২০-২১ সালে ১১৭ জন , ২০২১-২২ সালে ৭৭ জন ও ২০২২- ২৩ সালে ৫৭ জন মারা গিয়েছিলো । পশ্চিমবঙ্গের বন বিভাগের তৎপরতায় ও ২৪ ঘন্টা মনিটরিং করাতে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাটা ক্রমশ কমেছে এবং হাতি কোনো মানুষকে মারার ১২ ঘন্টার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে মৃত ব্যক্তির পরিবারের হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ দেওয়া হয় ও সেই পরিবারের একজন সামর্থ্য ব্যক্তিকে-যার কাজ করার ক্ষমতা আছে, তাকে ফরেস্ট গার্ডে চাকরি দেওয়া হয় । পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এত বিপুল পরিমানে ক্ষতিপূরন ও চাকরী দেবার বিষয়টি ভারতবর্ষের অন্য কোনো রাজ্যে প্রচলন নেই । উক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে আজ দিল্লি থেকে আই.জি, ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট- গভার্মেন্ট অফ ইন্ডিয়া শ্রী রমেশ পান্ডে মহাশয় এসেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে মিটিংয়ে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব শ্রী বিবেক কুমার, মুখ্য বনপাল শ্রী সৌমিত্র দাশগুপ্ত, রাজ্যের বন ও অচিরাচরিত শক্তি উৎস দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী শ্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও বন বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা সহ ছত্রিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, বিহার, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গের ওয়াইল্ড লাইফের চিফরা । একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই হাতি সুরক্ষিত থাকে , পশ্চিমবঙ্গেই হাতিকে মারা হয় না ।

Advertisement

ইতিমধ্যেই রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের উদ্যোগে পশ্চিমবঙ্গে হাতির করিডোর তৈরি হচ্ছে , উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ন এলাকায় ৭ টি ও দক্ষিণবঙ্গে ৪ টি । রাজ্যে আরো হাতির করিডোর তৈরি করবার জন্য পশ্চিমবঙ্গ বনবিভাগ এর পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে অনুরোধ করা হয় । আজ কলকাতার নিউটাউনের নভোটেল হোটেল এর কনফারেন্স হলে বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক দীর্ঘ আলোচনাচক্র চলে ।

হাতি যদি কৃষকের শস্য নষ্ট করে তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে কৃষকদের তৎক্ষনাৎ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, হাতির আক্রমনে যদি কোনো বাড়ি ভাঙে তবে দ্রুততার সাথে পশ্চিবঙ্গ সরকার তার ক্ষতিপূরণ প্রদান করে ।

আজকের আলোচনায় ভারত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় “ভারতবর্ষের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে যে কোন ধরনের জীবজন্তু ভীষণভাবে সুরক্ষিত থাকে” । পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নিয়ে অত্যন্ত সুনামের সাথে আজকে দিল্লির আধিকারিকরা আলোচনা করেন এবং তারা রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ