দেশ 

উন্নাওয়ের নাবালিকা ধর্ষণে অভিযুক্ত বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক কুলদীপ সিঙ্গারকে প্যারোলে মুক্তি দিতে চলেছে যোগী সরকার, প্রতিবাদে নির্যাতিতা চিঠি লিখলেন রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীকে

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : উত্তরপ্রদেশের উন্নাওয়ের নাবালিকা ধর্ষণের কথা মনে পড়ছে পাঠকবর্গ ! নিশ্চয়ই মনে পড়ছে। কারণ বিজেপির বিধায়ক কুলদীপ সিঙ্গার এর বিরুদ্ধে নাবালিকা ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। প্রথমে ওই নাবালিকার অভিযোগ কে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন তৎকালীন বিজেপির বিধায়ক। পরবর্তীতে ওই নাবালিকা যখন আত্মহত্যার হুমকি দেয় তখন কেস রুজু করা হয়।

পরবর্তীকালে ওই নির্যাতিতার বাবার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে পুলিশ এবং বিধায়ক কুলদীপ সিং সিঙ্গার এবং তার ভাই দুজনের বিরুদ্ধেই নির্যাতিতার বাবাকে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এরপরে দেখা যায় পুলিশ অস্ত্র আইনে গ্রেফতার করে নির্যাতিতার বাবাকে এবং পুলিশ হেফাজতেই মৃত্যু হয় তার বাবার। এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল যোগীর রাজ্যে! সময়ের বিচারে তা চার বছর অতিক্রান্ত হয়েছে জেলে আছেন বিধায়ক কুলদীপ সিং সিঙ্গার। চাপের মুখে বিজেপি দল তাকে বহিষ্কার করেছে। কিন্তু দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসার পর যোগী আদিত্যনাথ এর সরকার তাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে চলেছে।

Advertisement

এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। কয়েকদিনের মধ্যেই কুলদীপ সিং সিঙ্গার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ১৫ দিনের জন্য বাড়ি যাবেন। শোনা যাচ্ছে, প্রাক্তন বিধায়কের মেয়ের বিয়ে সেজন্যই তাকে নাকি মুক্তি দেওয়া হয়েছে আর এ নিয়েই শুরু হয়েছে চাপান উতোর।

নির্যাতিতার বাবার অস্বাভাবিক মৃত্যুর পরেও থেমে থাকে নি বিষয়টি নির্যাতিতার সহ তার সপরিবারকে গাড়ি চাপা দিয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে । এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশ জুড়ে প্রতিবাদ শুরু হলে শেষ পর্যন্ত বিজেপির এই বিধায়ক গ্রেফতার হয়। তবে বিজেপির প্রাক্তন বিধায়কের প্যারোলে মুক্তি নিয়ে নির্যাতিতা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন যদি এই সময় বিধায়ককে মুক্তি দেয়া হয় তাহলে সাক্ষীদের তিনি প্রভাবিত করবেন। পনের দিনের মধ্যেই পুরো বিষয়টিকে ঘুরিয়ে দিতে পারেন উল্টে যেতে পারে। তিনি ইনসাফ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

সেই সঙ্গে একটি ভিডিয়ো নেটমাধ্যমে পোস্ট করেছেন তিনি। তাতে অবিলম্বে সিঙ্গারের মুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়েছে। নির্যাতিতার দাবি, যতদিন বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক জেলের বাইরে থাকবেন, ততদিন তাঁর এবং ওই মামলার সাক্ষীদের জীবনের ঝুঁকি থাকবে।

২০১৮-র এপ্রিলের গোড়ায় বিজেপির তৎকালীন বিধায়ক সিঙ্গারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে নির্যাতিতা যখন অনশনের হুমকি দেন, বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে আসে। তার পরের দিনই নির্যাতিতার বাবাকে প্রচণ্ড মারধরের অভিযোগ ওঠে সিঙ্গার এবং তাঁর ভাই অতুলের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতাকে থানায় নিয়ে যায় অতুল ও তার সঙ্গীরা। পুলিশ নির্যাতিতার বাবার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দেয়। পরে পুলিশি হেফাজতে মারা যান নির্যাতিতার বাবা। ধর্ষণ এবং অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলায় সিঙ্গার দোষী সাব্যস্ত হন।

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ