টেনশনে স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়। বেশ মনে আছে উচ্চ-মাধ্যমিকের সময়ে আমরা লিটল ম্যাগাজিন বের করেছিলাম। বলছিলেন মনোবিদ গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়
নাফিসা ইসমাত: কেবলমাত্র লিটল ম্যাগাজিন প্রকাশ করেই ক্ষান্ত দেইনি, ঘটিয়েছিলাম আরো কত কী! আজকের বাবা-মা’রা শুনলে হয়তো বা হার্ট ফেল-ই করবেন! এখনকার ছেলে-মেয়েরা সেই তুলনায় অনেক বেশি শৃংখল। আমি বলব, কিছু ক্ষেত্রে অতি শৃংখল। তাদের প্রত্যেক দিনের সময় একদম নিখতিতে মাপা। স্কুল, জিম, ব্যায়াম, টিউশন, ড্রয়িং ক্লাস, সুইমিং ক্লাব …….। কথাগুলো বলছিলেন বিশিষ্ট মনোবিদ অধ্যাপক ড গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক এর আগে ‘সন্তানের জন্য বাবা-মায়ের দায়িত্ব’ শীর্ষক অনলাইন কর্মসূচিতে। এদিন অনুসন্ধান কলকাতা আয়োজিত মাধ্যমিক পড়ুয়াদের জন্য ১০ দিনের অনলাইন কর্মশালার ছিল শেষ দিন। ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে অভিভাবক-অভিভাবিকারাও যোগ দিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ এই কর্মশালায়। তাঁদের উদ্দেশে অধ্যাপক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন খুব স্বাভাবিকভাবেই সন্তানের মধ্যে পরীক্ষার একটা আলাদা টেনশন কাজ করে। এই সময় ওদের পাশে থাকতে হবে। অস্থিরতা কাটাতে বিভিন্নভাবে ওদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং প্রয়োজনমতো সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। উপস্থিত ছাত্র ছাত্রীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, তোমার সামনে নিশ্চয়ই এক সপ্তাহ বা ১৫ দিনের একটা রুটিন করা থাকবে, তবে এটা একটু আধটু ব্যাহত হলে খুব চিন্তার বিষয় নয়। আসলেই রুটিন যথাযথভাবে মেনে চলা প্রায় অসম্ভব। একটু একটু পরিবর্তন চিন্তার কোনো কারণ নেই। পড়াশোনার বিষয়বস্তু কোনটা কেমন হবে, রিভিশন কেমন করে করতে হবে, সে বিষয়টাও তিনি ব্যাখ্যা করেন। একটানা কতক্ষণ পড়া উচিত, মনে রাখার কিছু পদ্ধতি, মনোযোগ ধরে রাখা সম্পর্কেও তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নিজের জীবনের অনেক উদাহরণ তুলে ধরেন।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ডক্টর অমলেন্দু বসু
এ দিনের অনুষ্ঠানে বিশিষ্টদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান খান, প্রধান শিক্ষক শেখ আলী আহসান প্রমুখ।
এদিনের কর্মশালার সূচনা বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষা অধিকারীক ড. অমলেন্দু বসু। সমস্ত অনুষ্ঠানের সঞ্চালনের দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষক গৌরাঙ্গ সরখেল।
বিজ্ঞানী মতিয়ার রহমান খান
ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবক-অভিভাবিকাদের দাবি মেনে অনুসন্ধান কলকাতা আগামী দিনে ইংরেজি সহ আরো কয়েকটি বিষয়ের অনলাইন ক্লাস দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানান অনুসন্ধান কলকাতার সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষক সাহাবুল ইসলাম গাজী ।

