কলকাতা 

লালন শেখের মৃতদেহ কী ফের ময়না তদন্ত হবে ? কেন ? জানতে হলে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : সিবিআই হেফাজতে লালন শেখের রহস্য মৃত্যু আরো ঘনীভূত হয়েছে। আজ বুধবার লালন শেখের ময়না তদন্তের রিপোর্ট নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বিস্ময় প্রকাশ করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের তিনটি শব্দ বিচারপতিকে চমকে দেয়। এর ফলে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত লালন শেখের মৃতদেহ পুনরায় ময়না তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেন এবং তা কল্যাণীর এইমস থেকে করতে হবে। কিন্তু পরবর্তীতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী বিচারপতির কাছে অনুরোধ করেন লালন শেখকে কবরস্থ করা হয়েছে পুনরায় ময়না তদন্ত করতে হলে কবর থেকে তুলে করতে হবে।

প্রশ্ন উঠেছে ময়নাতদন্ত রিপোর্টের কোন তিনটি শব্দ দেখে বিচারপতির চমকে উঠেছিলেন।

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ‘ভায়োলেন্ট মেকানিক্যাল অ্যাসফিক্সিয়া’ শব্দ তিনটি লেখা আছে। যদিও সরকারি তরফে এর কোনও স্বীকৃতি মেলেনি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট যাঁরা দেখেছেন, তাঁরাও এ ব্যাপারে কিছু জানাননি। ফলে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ওই তিনটি শব্দের উল্লেখ আদৌ আছে কি না বা তার মাধ্যমে কী বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, তা নিশ্চিত নয়। সাধারণত, এ সব ক্ষেত্রে তেমন কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়াও যায় না।

এই ‘ভায়োলেন্ট মেকানিক্যাল অ্যাসফিক্সিয়া’ এর ব্যাখ্যায় ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি কোনও ব্যক্তিকে বাইরে থেকে বলপ্রয়োগ করে শ্বাসরোধ করা হয় এবং তাতে শরীরে অক্সিজেনের অভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ওই তিনটি শব্দ লেখা হয়। উদাহরণ হিসাবে তাঁরা বলছেন, যদি কোনও ব্যক্তির গলায় ফাঁস দিয়ে বা মুখে বালিশ চাপা দিয়ে বা বুকের উপর চেপে বসে শ্বাসরোধ করা হয়— সে ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া হয় ওই ব্যক্তির উপর বাইরে থেকে বল প্রয়োগ করা হয়েছে। তার ফলে ওই ব্যক্তির শরীরে অক্সিজেন কম যাওয়ায় মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত করার সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখেন। নিশ্চিত হওয়ার পরেই রিপোর্টে ‘ভায়োলেন্ট মেকানিক্যাল অ্যাসফিক্সিয়া’ লেখেন। যদি কেউ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হন, সে ক্ষেত্রেও কি এমনটা লেখা হয়? বিশেষজ্ঞদের মতে, এটা যে চিকিৎসক ময়নাতদন্ত করবেন, তিনি পরীক্ষা করে যেটা বুঝবেন, তা-ই লিখবেন। অপ্রয়োজনীয় ভাবে কোনও শব্দ রিপোর্টে লেখা হয় না।

দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের নির্দেশের কিছু ক্ষণের মধ্যেই রাজ্যের আইনজীবী বিচারপতিকে জানান, তিনি সংবাদমাধ্যমে দেখেছেন, লালনের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্ত করতে গেলে কবর খুঁড়ে দেহ বার করতে হবে। আদালত তার পরেই দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্তের নির্দেশকে স্থগিত করে দেয়। এই মামলায় লালনের স্ত্রীকেও যুক্ত করা হয়েছে। আগামী ২১ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন তাঁর সঙ্গেও কথা বলা হবে। তার পরই লালনের দেহের দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্ত নিয়ে চূড়ান্ত নির্দেশ দেবে আদালত। আপাতত লালনের দ্বিতীয় বার ময়নাতদন্ত হচ্ছে না। সৌজন্যে ডিজিটাল আনন্দবাজার।

(এর আগে ভুলবশত আমরা একটি সংবাদ করেছিলাম যে গলায় ফাঁস লেগেই লালনের মৃত্যু হয়েছে এমনটাই বলছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে আমরা এই খবরটি করেছিলাম পরে জানতে পারি এ খবরটি ঠিক নয় তাই আমরা এই খবরটি তুলে নিয়েছি এবং ভুল খবর পরিবেশন করার জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।)


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ