Madhyamik Examination 2023 : সহজে ইতিহাস প্রস্তুতি / প্রস্তুত করেছেন : সাহাবুল ইসলাম গাজী
মাধ্যমিক ২০২৩
সহজে ইতিহাস প্রস্তুতি

● প্রস্তুত করেছেন : সাহাবুল ইসলাম গাজী
● সৌজন্যে : স্যান্ডফোর্ড অ্যাকাডেমি
‘কাকে বলে ইতিহাস’ ?
এমন প্রশ্ন আমাদের সামনে আসলে আমরা উত্তর দিই, অতীতের ঘটনাকে বলি ইতিহাস। প্রশ্ন যদি আসে, আমরা ইতিহাস পড়ি কেন ? কেবল অতীতের স্মৃতিচারণা করার জন্য না কেবল অতীতের নানান ঘটনাকে এক জায়গায় করে মালা গাথার মতো বেঁধে রাখার জন্য ইতিহাস পড়ি ? ইতিহাসের দিক থেকে সময়কে বোঝার সুবিধার জন্য অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ- এই তিনটি বিভাজন আমরা করি। এর মধ্যে যা ঘটে গেছে তা হল অতীত। যা ঘটেনি তা হল ভবিষ্যৎ। আর বর্তমান হলো ,এই দুটির মধ্যবর্তী এক অবস্থান ।অর্থাৎ এই মুহূর্তে যা বর্তমান তা অতীতের ঘটে যাওয়া ঘটনার ফল। তাই আমরা দেখতে পাই বর্তমানের মধ্যেই অতীত নিহিত। বর্তমানকে বোঝা এবং ব্যাখ্যা করতে গেলে সংশ্লিষ্ট অতীত সম্বন্ধে আমাদের সচেতন থাকতেই হবে ।আজকের যা বর্তমান সেটি ভবিষ্যতের প্রস্তুতি পর্ব হয়ে দাঁড়াচ্ছে ।তাই আমরা বলতেই পারি বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যার জন্যই ইতিহাসের প্রয়োজন। অতীত ও বর্তমান আমাদের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিকে কিছুটা ধারণা দেয় ।বিশেষ করে আজকের ভারতবর্ষের অতীত নিয়ে যে ব্যাখ্যা আমাদের ইতিহাস সচেতন হতেই হবে।

এত কিছু বললাম একটিই কারণে, ইতিহাস পাঠ করার সময় আমাদের এই ছোট ছোট বিষয়গুলির মাথায় রাখা প্রয়োজন । সুদূর অতীত তাহলে আমাদের কাছে অতি সহজেই ধরা দেবে। ইতিহাসের বিষয়বস্তু তখন অনেক সজীব হয়ে উঠবে।
দশম শ্রেণির ইতিহাসে মোট আটটি অধ্যায় আছে। প্রথম অধ্যায় আমরা জেনে গেছি ইতিহাসের নানান দিক সম্পর্কে। এরপর উনবিংশ শতক থেকে বিংশ শতকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং পরবর্তী দেশ গঠন পর্যন্ত নানান ইতিহাস আমাদের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ।ইতিমধ্যে পাঠ্যপুস্তকের অনেকগুলি অধ্যায়ের পাঠ আমরা শেষ করেছি । ফলে আমরা বুঝতে পারছি যে একটি অধ্যায়ের সঙ্গে আরেকটি অধ্যায়ের যোগ সূত্র। একদিকে আমরা দেখছি ইংরেজ শাসনকাল যেমন ভারতবর্ষের সমাজ ,সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি তে পরিবর্তন ঘটিয়েছিল, অপরদিকে ভারতবাসী বিদেশী শাসনের শৃংখল মুক্ত হওয়ার জন্য কিভাবে এগিয়ে গিয়েছিল ।জাতি হিসেবে ভারতবাসী তাদের আত্মমর্যাদা ফিরে পাওয়ার জন্য তারা শিক্ষা সমাজসংস্কার ,বিজ্ঞান চেতনা, কৃষক আদিবাসী বিদ্রোহ ,সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন, রাজনৈতিক আন্দোলন এবং গান্ধীজীর নেতৃত্বে আন্দোলন – এরকম নানামুখী প্রতিরোধ ভারত বর্ষকে ব্রিটিশ শাসন মুক্ত করেছিল। পাঠ্যপুস্তক পাঠ করার সময় ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা আমাদের মনে রাখতে হবে।
এবার আসি আমরা যারা ২০২৩ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবো তারা কিভাবে এখন থেকে প্রস্তুতি নেব ? সবার প্রথমে আমাদের ৯০ নম্বরের বিগত বছরের প্রশ্নগুলি ভালো করে দেখতে হবে। তোমরা দেখবে যে ১ নম্বর মানের প্রশ্ন বেশি। ২ নম্বর মানের প্রশ্নের পাশাপাশি ৪ ও ৮ নম্বর মান ের প্রশ্ন আমরা পাব।
প্রথমে আমাদের যেটা করতে হবে ১ নম্বর মানের প্রশ্নগুলির নির্ভুল উত্তর দেওয়ার সেজন্য আমাদের পাঠ্যপুস্তক ভালো করে খুঁটিয়ে পড়তে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নগুলি দেখলে বুঝতেই পারবে পাঠ্যপুস্তকের নির্দিষ্ট কোন ভাগ থেকে প্রশ্ন আসেনি। সারা বই জুড়ে প্রশ্ন এসেছে। ১ নম্বর মানের প্রশ্নের নানা ভাগের মধ্যে একটি হল মানচিত্র। পাঠ্যপুস্তকের তৃতীয়, চতুর্থ এবং অষ্টম অধ্যায়ের মানচিত্র গুলি ভালো করে অনুশীলন করতে হবে।
এবার আসি ২ নম্বর মানের প্রশ্নে ।এখানে আমাদের উত্তর দেওয়ার সময় বাক্য সীমা কে মাথায় রাখতে হবে ।অযথা বেশি বাক্য বা পয়েন্ট করে লিখলে সব প্রশ্নের উত্তর সঠিক সময় দেওয়া সম্ভব হবে না। এখানে জ্ঞানমূলক ও বোধমূলক প্রশ্ন বেশি থাকে ।আমরা প্রশ্ন ভালো করে পড়ে তারপর উত্তর দেব। ৪ নম্বর মনের প্রশ্নেও বাক্য সীমা নির্দিষ্ট। তবে প্রশ্নে কি ধরনের উত্তর চাওয়া হয়েছে সেটি মাথায় রাখতে হবে ।অযথা পয়েন্ট বা হাবিজাবি লিখে উত্তর দীর্ঘায়িত করবো না। সঠিক এবং ট্যু দা পয়েন্ট উত্তর আমরা লিখব। এখানে আরেকটি বিষয়ে আমাদের মনে রাখতে হবে চারটি উপবিভাগ থাকে। সবগুলি উপবিভাগ থেকে একটি করে প্রশ্ন নিয়ে ছয়টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে ।
সব শেষে ৫ নম্বর দাগের ৮ নম্বর মানের একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় ।সবচেয়ে ভালো জানা প্রশ্নের উত্তর লিখবে ।তোমার উত্তরের মধ্যে যেন পরীক্ষক সন্তুষ্ট হন। সেটি উত্তর লেখার সময় আমাদের মাথায় রাখতে হবে ।
অন্যান্য বিষয়ের মত ইতিহাসও সহজে মনে রাখা যায় ।কারন আমাদের সমাজ জীবনের নানা দিক উঠে এসেছে ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তকে । উত্তর নিজের ভাষাতে লিখবে ।অতীতকে বর্তমানে নিরিখে বোঝার চেষ্টা করলে, আমার মনে হয় ইতিহাস আমাদের কাছে অনেক সহজ হয়ে যাবে ।তোমাদের আগামীর মাধ্যমিক প্রস্তুতি ভালো এই আমাদের শুভকামনা।

