জেলা 

কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো : এক উন্মাদনা

শেয়ার করুন

দীপাঞ্জন দে: কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে মানুষের উৎসাহ উন্মাদনা যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন বাড়ছে। আয়োজনের দিক থেকে কৃষ্ণনগরের অন্যতম বড় উৎসব হিসেবে জগদ্ধাত্রী পুজোকে মান্যতা দেওয়া যায়। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো হলেও, কৃষ্ণনগরের দুর্গাপুজো অনেকটাই অনাড়ম্বর। দুর্গাপুজোর পরে এবং জগদ্ধাত্রী পুজোর আগে হয় কালীপুজো। সেসময় কৃষ্ণনগরবাসীর উৎসাহ কিছুটা বৃদ্ধি পায়। আর জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় সকল মাত্রা ছাড়িয়ে মানুষের উন্মাদনা চরম শিখরে ওঠে। লোকমুখে একটি কথা প্রচলিত রয়েছে যে, “কৃষ্ণনগরের কালীপুজো হল সেমি-ফাইনাল, আর জগদ্ধাত্রী পুজো হল ফাইনাল।”

সময়ের সাথে সাথে কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো আরো বৃহৎ হচ্ছে। কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটিগুলির পুজোর সামগ্রিক বাজেট অনেক বছর আগেই লক্ষ টাকার গণ্ডি পার করেছে। পশ্চিমবঙ্গের জগদ্ধাত্রী পুজো মানেই কৃষ্ণনগরের পাশাপাশি চন্দননগরের নামটিও উচ্চারিত হয়। প্রচলিত মতে, ফরাসি দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী অষ্টাদশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজো দেখে চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন করেছিলেন। সেই থেকে হুগলির চন্দননগরে জগদ্ধাত্রী পুজো হয়ে আসছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গাতেই জগদ্ধাত্রী পুজো বিক্ষিপ্তভাবে হয়ে থাকে। তবে কৃষ্ণনগর এবং চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজো যেমন ঐতিহ্যবাহী, তেমনি এই দুটি জায়গার জগদ্ধাত্রী পুজোকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে আলাদা রকম উন্মাদনা দেখতে পাওয়া যায়। এমন উন্মাদনা আর যেন কোথাও নেই। চন্দননগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর আলোকসজ্জা যেমন সকলকে টানে, তেমনি কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর বিশেষত্ব হল প্রতিমার গড়ন এবং সাজে। কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী প্রতিমার সুনাম তাই সর্বত্র।

ইদানিংকালে আবার কৃষ্ণনগরে সাবেকি পুজোগুলির পাশাপাশি জনপ্রিয় হয়েছে থিমের পুজো। বেশ কয়েক বছর ধরেই কৃষ্ণনগরের ক্লাব, বারোয়ারিগুলি নিত্যনতুন থিম এনে দর্শনার্থীদের চমক দিচ্ছে। এখন তাই বছরভর দর্শনার্থীরাও সেই সকল থিমের পুজো দেখার অপেক্ষায় থাকেন। পুজো কর্মকর্তারাও চেষ্টা করেন সব থেকে সেরা ‘থিম’ উপস্থাপনার জন্য।

পুজোর পরিকল্পনার পর্যায় থেকেই বিষয় ভাবনা কী হবে তা নিয়ে ক্লাব বারোয়ারিগুলির মধ্যে এক প্রকার প্রচ্ছন্ন প্রতিযোগিতা চলে। পুজোর আগে থাকতেই কৃষ্ণনগরের সর্বত্র আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়— কোন পুজোর, কী থিম? এই প্রতিযোগিতারই ফলস্বরূপ প্রতিবছরই কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর মণ্ডপসজ্জায় বহুবিধ বিষয় ভাবনা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। ২০২২ সালও তার ব্যতিক্রম নয়।

লেখক: অধ্যাপক, চাপড়া বাঙ্গালঝি মহাবিদ্যালয়, নদিয়া।

 

 

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ