কাটমানি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার দায়ে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার ওসি সন্দীপ সেনকে শোকজ করল রাজ্য পুলিশ
বাংলার জনরব ডেস্ক : প্রকাশ্য সমাবেশে দাঁড়িয়ে থানার ওসি যখন পুলিশ ও প্রশাসনের কাট- মানি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তখনই সাধারণ মানুষের কাছে দুর্নীতি আরও স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। আর এই কাজটি করতে গিয়ে মুর্শিদাবাদের বড়ঞা থানার ওসি সন্দীপ সেন শোকজ এর শিকার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, এই নিয়ে তাঁকে শো-কজ় করা হয়েছে। তবে ঠিক কী বিষয়ে তাঁকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে, তা রাত পর্যন্ত স্পষ্ট নয়। বিষয়টি নিয়ে জেলা পুলিশ সুপার কে শবরী রাজকুমার কিছু বলতে চাননি। এর আগে তিনি শুধু বলেছিলেন, ‘‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’
তৃণমূলের কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার পাল্টা দাবি করেছেন , ‘‘ওসি যে কাটমানি নেওয়ার কথা বলেছেন, তার প্রমাণ তাঁকে দিতে হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এক জন ওসি তাঁর সহকর্মীর বিরুদ্ধে ওই মন্তব্য করতে পারেন না। ওসি ব্লক প্রশাসনকেও হেয় করেছেন। হেয় করেছেন আমাদের সরকারকে।’’
সন্দীপ বলছেন, “৪০ শতাংশ কম দিয়ে রাস্তা তৈরি করবে, নিজের জন্য ২০ শতাংশ টাকা রাখবে। হল কত? ৬০ টাকা। ব্লকে ৪ টাকা। হল কত? ৬৪ টাকা। আগের ওসিরা নিত ৫ টাকা। হল ৬৯ টাকা। আর খেঁকশেয়ালের বাচ্চারা ৫ টাকা। সব মিলিয়ে ওই ৭৫ টাকা ধরুন। ২৫ টাকায় সাহোড়া কে কোন রাস্তা হবে ভাই!”
প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি তথা সাংসদ অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘জ্ঞানে হোক বা অজ্ঞানে, বড়ঞার দারোগাবাবু সত্যিটা বলে দিয়েছেন। দিদির নির্দেশ আছে ৭৫ টাকা তোরা নিস, ২৫ টাকা দিস।’’ ওই কংগ্রেস সাংসদ বলেন, ‘‘পঞ্চায়েতে তৃণমূলের ভোটের সভাতে দারোগাবাবু বক্তৃতা করলেও আশ্চর্যের কিছু নেই। কারণ এই ওসি লালগোলার ওসি থাকাকালীন তৃণমূল নেতার মতোই কাজ করেছেন।’’
বড়ঞার বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে ওই ভিডিয়োয় ওসির পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। তিনি অবশ্য বক্তব্য, ‘‘সাহোড়া অঞ্চলে উন্নয়ন তুলনামূলক ভাবে কম হয়েছে। ওসি এলাকার উন্নয়নের কথা ভেবেই হয়তো এমন কথা বলেছেন।” ওই ভিডিয়োতে জীবনকৃষ্ণকে ওসির পাশেই বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। জীবনকৃষ্ণের দাবি, “ঠিকাদার আর দল কোনও ভাবেই এক নয়।’’ জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সাংসদ আবু তাহের খান আবার বলেন, ‘‘দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের কোনও মানে হয় না। অভিযোগ উঠলে প্রশাসনের পাশাপাশি দল থেকেও খতিয়ে দেখা হয়।’’

