‘ধর্মের নামে কোথায় পৌঁছে গিয়েছে দেশ! এই ধরনের ঘটনায় সরকার পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ হলে তা আদালতের অবমাননা হিসেবে গন্য হবে,’ ঘৃণাভাষণ নিয়ে সরকারকে ভর্ৎসনা সুপ্রিম কোর্টের
বাংলার জনরব ডেস্ক : ঘৃণা ভাষণ নিয়ে দেশ বিদেশে সমালোচনার মুখে ভারত সরকার। একটি বিশেষ গোষ্ঠী মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণা ছড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধে এবার সরব হল সুপ্রিম কোর্ট। ঘৃণাভাষণ (Hate Speech) নিয়ে সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supereme Court)। গত কাল শুক্রবার দেশের শীর্ষ আদালত বলে, ‘‘’২১ শতক চলছে। কিন্তু ধর্মের নামে কোথায় পৌঁছে গিয়েছি আমরা? দেশের ধর্ম নিরপেক্ষ পরিকাঠামোয় এই ধরনের ঘটনা স্তম্ভিত করে। এই ধরনের ঘটনায় সরকার পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ হলে তা আদালতের অবমাননা হিসেবে গন্য হবে এবং সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
শুনানি চলাকালীন আদালত আরও বলে, ‘ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ দেশ, ব্যক্তি মর্যাদা এবং নাগরিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের কথা বলে। সংবিধানের প্রস্তাবনায় ঐক্য এবং অখণ্ডতা বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। আবেদনকারী জানিয়েছেন, এই সংক্রান্ত একাধিক বিধান থাকা সত্ত্বেও ঘৃণাভাষণ নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। সংবিধানের বেঁধে দেওয়া নীতি মেনে চলা আবশ্যক। তাই সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা করতে মৌলিক অধিকার এবং আইনের শাসন রক্ষা করা আদালতের কর্তব্য।’’

এর আগে, বৃহস্পতিবার দেশ জুড়ে বিশেষ একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে নিশানা করা, তাঁদের ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখার পরিবেশ নিয়ে কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া জানতে চায় শীর্ষ আদালত। বেছে বেছে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা, ঘৃণাভাষণ নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন আবেদনকারী। আবেদনকারীর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন অভিজ্ঞ আইনজীবী কপিল সিব্বল। তাতে দিল্লিতে বিজেপি সাংসদ প্রবেশ ভার্মার ‘হিন্দু সভা’র উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি, যেখানে বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে বয়কট করার ডাক দিতে শোনা যায় তাঁকে।
শুনানি চলাকালীন ওই সভায় উপস্থিত জগৎগুরু যোগেশ্বর আচার্যের বক্তব্যও পড়ে শোনান বিচারপতিরা। তাতে মন্দিরের দিকে আঙুল তোলা সকলের গলার নলি কাটার যে নিদান দেন জগৎগুরু, তারও উল্লেখ করে আদালত। শুক্রবার আদালত কড়া বার্তা দেওয়ার পর বিচারপতিদের ধন্যবাদ জানান সিব্বল। জবাবে বিচারপতিরা বলেন, ‘‘এটাই কর্তব্য আমাদের। এটা না করলে দায় ঝেড়ে ফেলা হয়।’’

