হযরত মুহাম্মদ সাঃ বিশেষ জাতি বা সম্প্রদায়ের জন্য আসেননি বিশ্ব মানবতার কল্যাণের জন্য তিনি আবির্ভূত হয়েছিলেন বাংলার জনরব আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক অনলাইন সেমিনারে বললেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা
বুলবুল চৌধুরি: বিশ্ব নবী দিবস উপলক্ষে গত সাতই অক্টোবর শুক্রবার বাংলার জনরব ‘সম্প্রীতি রক্ষায় হযরত মুহাম্মদ সাঃ’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারের আয়োজন করেছিল। এই সেমিনারে পশ্চিমবাংলা এবং বাংলাদেশ থেকে তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নিয়েছিলেন।। এরা হলেন বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক জনাব ড মাহফুজুর রহমান আখন্দ, পশ্চিমবাংলার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও ওয়েলফেয়ার পার্টি অফ ইন্ডিয়া রাজ্য সভাপতি মনসা সেন এবং আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জনাব মুহা শাহ আলম।
সেমিনারের প্রারম্ভিক ভাষণে বাংলাদেশের অতিথি জনাব মাহফুজুর রহমান আখন্দ বলেন, হযরত মুহাম্মদ সাঃ সারা বিশ্বকে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে গেছেন। তিনি বলে গেছেন প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব পালন করার জন্য। এই প্রতিবেশী বলতে শুধু মুসলমান নয় এর সঙ্গে যুক্ত আছে মূর্তিপূজকরা থেকে শুরু করে খ্রিস্টান বৌদ্ধ ইহুদীরা পর্যন্ত। হযরত মুহাম্মদ সাঃ সমগ্র পৃথিবীর কাছে নতুন এক নীতি, নতুন এক আদর্শের জন্ম দিয়ে গেছেন। তা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এরপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে পশ্চিমবাংলার বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মনসা সেন বলেন, হযরত মুহাম্মদ সা কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা জাতির জন্য আসেননি সমগ্র বিশ্ব মানবতার সেবার জন্য তিনি এসেছিলেন। হযরত মুহাম্মদ সাঃ কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের নেতা নয় তিনি সমগ্র বিশ্ববাসীকে নেতৃত্ব শিখিয়ে দিয়ে গেছেন। তিনি একমাত্র মহামানব যিনি সমগ্র বিশ্বের কাছে সাম্যবাদের শিক্ষা দিয়ে গেছিলেন প্রথম। তিনি প্রতিটা পদক্ষেপে সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে গেছেন। শুধু তাই নয় হযরত মুহাম্মদ সাঃ তিনি সমগ্র বিশ্বের কাছে মেয়েদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। ইতিহাসের অন্ধকার যুগে দাঁড়িয়ে হযরত মুহাম্মদ যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে এক কথায় ইতিহাস হয়ে রয়েছে। তিনি সম্প্রীতি রক্ষা এবং পারিবারিক দায়কে ইবাদতের অংগ হিসাবে দেখিয়েছেন। মনসা সেন আরো বলেন, বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আজকের যুগে প্রশ্ন উঠছে, আজ থেকে ১৫০০ বছর আগে হযরত মুহাম্মদ বলে গেলেন ন্যায়বিচার করা ৬৫ বছরের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। শুধু কথা বলেই তিনি সীমাবদ্ধ ছিলেন না বাস্তব জীবনে তিনি ন্যায় বিচার প্রদান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। একবার হযরত মুহাম্মদ এর কাছে দুই ব্যক্তি বিচার প্রার্থী হয়েছিলেন একজন ছিলেন মুসলমান অন্যজন ছিলেন ইহুদি সম্প্রদায়ের। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম ইহুদির পক্ষেরাই দিয়েছিলেন এ থেকে এটা স্পষ্ট ন্যায় পরায়ন বিচারপতি হিসাবেও হযরত মুহাম্মদ সমগ্র বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
মনসা সেনের কথার জের ধরেই পরবর্তী বক্তা আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান মুহা শাহ আলম বলেন, বিশ্ব মানবতার কল্যাণকে সামনে রেখে হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম পৃথিবীর বুকে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তিনি প্রথম জীবন থেকে মানুষের জন্য সেবা করে গেছেন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম এর জীবনকে যদি আমরা তিনটে ভাগে ভাগ করি তাহলে দেখতে পাবো প্রথম জীবনের তিনি সামাজিক কাজে সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। নবুয়ত প্রাপ্তির পর তিনি ইসলাম প্রচারে ব্রতী হয়েছিলেন পরবর্তীকালে শাসক হিসাবে হযরত মুহাম্মদ জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রতি সমান ব্যবহার করেছেন। হযরত মুহাম্মদ সাঃ শাসক হিসাবে তিনি যে উদারতা দেখিয়েছেন আজও সমগ্র বিশ্বের কাছে তা নজির হয়ে রয়েছে বলে শাহ আলম সাহেব মন্তব্য করেন।
সভার সঞ্চালক সেখ ইবাদুল ইসলাম বলেন, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন তিনি তার জীবনে তা কার্যকরী করে গেছেন। তিনি এমন কোন কথা বলেননি যা তিনি বাস্তবায়িত করেননি। হযরত মোহাম্মদ সাঃ সম্পর্কে যারা বিরূপ ধারণা আকর্ষণ করে তারা একবার দয়া করে স্বামী বিবেকানন্দের মন্তব্য এবং মহাত্মা গান্ধীর লেখা পড়লে খুব স্পষ্ট করে বুঝতে পারবেন হযরত মুহাম্মদ আসলে কি ছিলেন। তিনি আরো বলেন স্বামী বিবেকানন্দ বলে গেছেন। হযরত মুহাম্মদ তার সাম্যবাদী আদর্শের জন্য সারা পৃথিবীর কাছে যুগ যুগ ধরে বিরাজ করে যাবেন।
বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং কিছু ব্যক্তি হযরত মুহাম্মদ সম্পর্কে যে বিরূপ ধারণা পোষণ করেন তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে মাহফুজুর রহমান আখন্দ বলেন, হযরত মুহাম্মদ এর জীবনীকে ভালো করে পড়তে হবে, ভালো করে জানতে হবে। এই না জানার কারণেই এই মহামানবকে আমরা চিনতে পারিনি। যারা চিনতে পেরেছেন তারা তার সম্পর্কে কোনো খারাপ ধারণা পোষণ করতে পারেন না। তিনি আরো বলেন এ বিষয়ে আমাদের সকলের দায়িত্ব আছে হযরত মুহাম্মদের বার্তাকে সঠিকভাবে উপস্থাপনা করতে হবে এবং মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এই কথা রেশ ধরেই মুহা শাহ আলম বলেন, আমাদের সকলকে আগে হযরত মুহাম্মদ এর আদর্শে দীক্ষিত হতে হবে দুঃখের হলেও সত্য আমরা অনেকে কথা বলি। কিন্তু নবীর আদর্শ সঠিকভাবে মানিনা যে কারণে আমাদের কথা কেউ শুনতে চায় না। তা আমাদের সকলের উচিত হযরত মুহাম্মদ এর আদর্শকে হযরত মুহাম্মদ এর লক্ষ্যকে হযরত মুহাম্মদের চিন্তা ভাবনাকে সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সেই কাজটা করতে হলে আরো গবেষণা করা প্রয়োজন।
এই প্রসঙ্গে মাহফুজুর রহমান আখন্দ বলেন, আজকে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে নবীর আদর্শকে আরো বেশি বেশি করে প্রচার করা সহজ হয়েছে এবং সেই কাজটা আমাদের করে যেতে হবে এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। প্রথমেই এ প্রসঙ্গে সমাজসেবী মনসা সেন বলেছিলেন, রাজা রামমোহন রায় হযরত মুহাম্মদ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন এই মহামানবকে তার অনুসারীরা সঠিকভাবে বুঝতে পারেননি সঠিকভাবে চর্চা করতে পারেননি, আর যারা তার সমালোচক তারাও তার চিন্তা ভাবনা আত্মস্থ করতে পারেননি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে হযরত মুহাম্মদ সম্পর্কে যে অপপ্রচার চলছে তাকে নিরসন করতে হলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে প্রবন্ধ নিবন্ধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে নবীজির আদর্শকে পৌঁছে দিতে হবে।
প্রায় দেড় ঘন্টা ধরে চলা এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের বক্তব্যর সবটা এক ক্ষুদ্র পরিসরে দেওয়া সম্ভব নয়। আগ্রহী পাঠকদের কাছে আমাদের অনুরোধ এই খবরের সঙ্গে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলের লিংক জুড়ে দেয়া হয়েছে আপনারা জাতির স্বার্থে সমষ্টির স্বার্থে এমনকি হযরত মুহাম্মদের আদর্শ প্রচারের লক্ষ্যে তিন বিশিষ্টজনের বক্তব্য মন দিয়ে শুনুন এবং সেগুলোকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিন। জাতির এই সংকটকালে হযরত মুহাম্মদ এর বার্তা অর্থবহ হয়ে উঠবে তাই সকলের উচিত আমাদের ইউটিউব চ্যানেলের অনুষ্ঠানটিকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বেশি বেশি করে শেয়ার করে আরো বেশি মানুষ যাতে এটা দেখতে পাই এবং উপলব্ধি করতে পারে। মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারে হযরত মুহাম্মদের প্রকৃত চিন্তা ভাবনাকে সেই কাজে আমাদের সকলের ব্রতী হওয়া উচিত। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন সাবস্ক্রাইব হয়ে আমাদের সঙ্গে থাকবেন।
