“মানুষের ন্যূনতম চাহিদা মেটাতে না পারলে আমাদের পদে থাকা মানায় না” : অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিশেষ প্রতিনিধি: আজ বুধবার ১০ ই আগস্ট ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বজবজের ডোঙ্গাড়িয়ায় একটি আর্সেনিক মুক্ত পাণীয় জল প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে তথ্যসহকারে, চাঁচাছোলা ভাষায় কেন্দ্র সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নের খতিয়ান পেশ করলেন।
২০১৪সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বের হয়ে মানুষের জলকষ্টের বিষয়ে অবগত হন এবং তা দূর করতে তৎকালীন বিভাগীয় মন্ত্রী স্বর্গীয় সুব্রত মুখার্জির মাধ্যমে যে উদ্যোগ শুরু করেছিলেন আজ সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ হওয়ার দিন বলে সাংসদ তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। ৫৬৪কোটি টাকার ৭৮৬কিলোমিটার পাইপলাইন সমৃদ্ধ এই জলপ্রকল্পের ইতিবৃত্ত বর্ণনা করে তিনি উন্নয়নের প্রশ্নে মা মাটি মানুষের সরকারের উদারতা তুলে ধরে বিরোধী দলের কর্মীদের বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ভূয়ো সবকা সাথ সবকা বিকাশ নয়, বাস্তবে তিনি উন্নয়নের সমতায় বিশ্বাসী বলে দাবী করলেন।
মানুষের প্রয়োজনে চালু করা হেল্প লাইনের উল্লেখ করে তিনি ডায়মন্ড হারবার এলাকার প্রত্যেকটা মানুষের অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনে বদ্ধপরিকর বলে ঘোষণা করে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিলেন বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা। আম্ফান, ফেণী,ইয়াস এর মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগে তাঁর ভূমিকা আজকের বক্তব্যকেই সমর্থন করে। এছাড়াও কোভিডকালে ২১টা কম্যুনিটি কিচেনের মাধ্যমে প্রায়১৪লক্ষ মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার কৃতিত্ব তাঁর রয়েছে। ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকার প্রত্যেকটা বিধানসভা ধরে ব্লকের নাম উল্লেখ করে সেগুলোর কোথায় কোথায় পরিশ্রুত পানীয় জলের সরবরাহ এখনও বাকি তা গড়গড়িয়ে বলে যাওয়ার সময় তাঁকে সাংসদ এলাকার নাড়িনক্ষত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল নেতা বলেই মনে হচ্ছিলো।
২০২৪এর মার্চের মধ্যে প্রতিশ্রুতি মতো প্রত্যেকটা বাড়িতে জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে কেউ কোন রকম বাধা দিলে তার বা তাদের বিরুদ্ধে সুয়োমোটো মামলা করে জেলে ভরে দেওয়ার আবেদন করলেন প্রশাসনিক কর্তাদের উদ্দেশ্যে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন।কিন্তু আগামী ৩০ বছরের চাহিদা মাথায় রেখে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ২০৫২ সাল পর্যন্ত মানুষের জলকষ্টের মুখোমুখি হতে না হয় সেটা উল্লেখ করে সাংসদ তাঁর দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ণমুখী রাজনৈতিক পরিকল্পনার পরিচয় রাখলেন।
কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার প্রসঙ্গ টেনে এনে একশোদিনের কাজের ৯হাজার কোটি টাকা আটকে রাখা, আবাস যোজনার ১২ লক্ষ তালিকাভুক্ত বাড়ির টাকা না দেওয়ার মাধ্যমে কেন্দ্রের প্রতিহিংসার রাজনীতির সমালোচনা করেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক।
পাশাপাশি নিজেদের ভুল শুধরে নেওয়ার জন্যে সংবাদমাধ্যমের সীমাহীন গুরুত্বের উল্লেখ করে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীদের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে রাজনৈতিক বিজ্ঞতা ও পরিণতির প্রমাণ দিলেন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

