বারুইপুর যাওয়ার পথে সায়নী ঋতব্রতদের দেখে গদ্দার স্লোগান দিল জনতা!
বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতিতার (Baruipur Minor Case) বাড়িতে সমবেদনা জানাতে গিয়ে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের হেভিওয়েটরা। বারুইপুরের সূর্যপুরে পা রাখতেই ‘চোর-চোর’ থেকে শুরু করে ‘গদ্দার’— ঝাঁঝালো সব স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠল এলাকা। ঘটনার তিন দিন পর কেন দেখা করতে আসা? এই প্রশ্ন তুলে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়তে হলো যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষকেও। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের এই বিক্ষভের মুখে পড়াকে কটাক্ষ করেছে কালীঘাট শিবির।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের সমীকরণ এখন বদলেছে। এনডিএ জোটকে সমর্থনকারী তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের দুই সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার এদিন বারুইপুরে যান। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন বিধানসভা বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক শিউলি সাহা এবং সদ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
এদিন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সূর্যপুরে ঢুকতেই গ্রামবাসীদের একাংশ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ঋতব্রতকে উদ্দেশ করে ‘বালিশচাটা’, ‘চোর-চোর’ ইত্যাদি স্লোগান দেওয়া হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিধায়ক শিউলি সাহা জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করে বলেন, “আমরা তো আলাদা। তোমরা এ ভাবে আমাদের বাধা দিতে পারো না। আমরাও অপরাধীদের শাস্তি চাই।” প্রথমে অবশ্য পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল এই প্রতিনিধি দলকে। পরে পুলিশের অনুমতি মেলায় তাঁরা নির্যাতিতার বাড়িতে যান।
‘গদ্দার’ কটাক্ষ সায়নীকে, কাঠগড়ায় যাদবপুরের সাংসদ বিক্ষোভের আঁচ থেকে রেহাই পাননি যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষও। তাঁকে দেখামাত্রই স্লোগান দিতে শুরু করেন স্থানীয়েরা। লোকসভা ভোটের সমীকরণ টেনে সায়নীকে সরাসরি ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেন বিক্ষোভকারীদের একাংশ। এক ক্ষুব্ধ বাসিন্দা বলেন, “স্থানীয় সাংসদ কী ভাবে ঘটনার তিন দিন পর এখানে আসেন! এত দিন উনি কী করছিলেন?” এছাড়াও তিনি আরও বলেন, “আমাদের যাদবপুরের বাসিন্দাদের সঙ্গে গদ্দারি করেছেন উনি। লোকসভা ভোটের সময় তৃণমূলত্যাগীদের উনি গদ্দার বলতেন। আজ উনি নিজে কী করেছেন! এখানে এলেনই বা কেন?”
‘মায়ের সঙ্গে বেইমানি’, কটাক্ষ কালীঘাট শিবিরের বিদ্রোহী তৃণমূল নেতারা বারুইপুরে গিয়ে এই চরম বিক্ষোভের মুখে পড়তেই চওড়া হাসি দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী অর্থাৎ ‘কালীঘাট শিবির’-এ। এই বিক্ষোভ নিয়ে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বা নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়দের স্পষ্ট বক্তব্য, “এতদিন পরে মনটা একটু শান্তি পেল। যারা মায়ের সঙ্গে বেইমানি করে, যারা দল ক্ষমতা থেকে চলে গেছে বলে দলের সঙ্গে বেইমানি করে, আজকে মানুষ তাদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে দলের সঙ্গে বেইমানি করলে কী হওয়া উচিত।” বিদ্রোহীদের খোঁচা দিয়ে কালীঘাট শিবিরের নেতারা আরও বলেন, “যদি দিদির ২০০টি আসন হত, তখন যদি তোমরা দল ছেড়ে যেতে তাহলেও না হয় বুঝতাম। কিন্তু ক্ষমতা যেতেই এই বেইমানি মানুষ মেনে নেয়নি।” মমতার ‘হাউস অ্যারেস্ট’ বিতর্ক ও আজ বারুইপুরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

