Featured Video Play Iconবিনোদন, সংস্কৃতি ও সাহিত্য 

Book Fair : বর্তমান সময়ের বইমেলায় আগের মত বইপ্রেমীদের ভীড় নেই বাংলার জনরব এর ইউটিউব চ্যানেলের লাইভ অনুষ্ঠানে বললেন দুই বাংলার বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকরা, গান কবিতায় জমে উঠলো সাহিত্যের আড্ডা

শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিনিধি বাংলার জনরব: বইমেলাকে ঘিরে বাঙালির আবেগ সর্বত্রই রয়েছে। এপার বাংলা ওপার বাংলার বইপ্রেমীরা বইমেলাকে ঘিরে এক নতুন উন্মাদনা সৃষ্টি করে থাকেন। কিন্তু একটা সময় বইমেলায় যে আবেগ ছিল বইপ্রেমীদের। কালের নিয়মের সেই আবেগ অনেকটাই কমে গেছে। এখন বইমেলা গুলোতে বইয়ের স্টলে ভিড় থাকে না থাকে খাবারের দোকানে বেশি হয়। বইমেলা আর বইমেলা নেই বইমেলা এখন বাণিজ্যিকরণ হয়ে গেছে। বাংলার জনরব আয়োজিত ইউটিউব লাইভ অনুষ্ঠানের শনিবারের আয়োজনে ছিল বইমেলার একাল-সেকাল শীর্ষক আলোচনা। এই আলোচনায় কার্যত বিশিষ্ট কবি সাহিত্যিকরা স্বীকার করে নিলেন একালের বইমেলায় আগের মতো কৌলিন্য নেই চাকচিক্য আছে ঠিকই কিন্তু বইপ্রেমীদের তুলনায় প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড় বেশি।

এছাড়াও বইমেলার মরশুমে গানে, কথায়, কবিতায় চলতি মাসের চতুর্থ শনিবারের বাংলার জনরবের ইউটিউব লাইভ অনুষ্ঠান জমজমাট হয়ে উঠেছিল বেশ। ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক এই অনুষ্ঠান যাঁদের আন্তরিক যোগদানে সার্থক হয়ে উঠেছিল তাঁরা হলেন‌ কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী তথা প্রাক্তন সাংসদ কবি সরদার আমজাদ আলী, বাংলাদেশের বিশিষ্ট কবি কাজী দিলরুবা রহমান, গুয়াহাটি অসমের বিশিষ্ট উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত শিল্পী সুভাষ দাস এবং কলকাতা গার্লস কলেজের অধ্যাপিকা ও বিশিষ্ট কবি ড. যূথিকা পান্ডে।

এদিন অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় শিল্পী সুভাষ দাসের দরদি কন্ঠের জনপ্রিয় একটি নজরুল গীতি দিয়ে। এরপর নির্ধারিত আলোচ্য বিষয় ‘বইমেলার সেকাল একাল’ সম্পর্কে তথ্যপূর্ণ আলোচনায় নিজের মতামত তুলে ধরেন বাংলাদেশের আমন্ত্রিত অতিথি কাজী দিলরুবা রহমান। ক্রমে আলোচনায় অংশ নিয়ে বইমেলার বিবিধ অজানা বিষয়ে আলোকপাত করেন আইনজীবী ও কবি সরদার আমজাদ আলী এবং ড. যূথিকা পান্ডে। তিনজন অতিথি বক্তাই আলোচনার পাশাপাশি তাঁদের স্বরচিত একগুচ্ছ কবিতা পরিবেশন করে অনুষ্ঠানকে ঋদ্ধ করেন।

বইমেলার ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে বিশিষ্ট কবি অধ্যাপিকা যুথিকা পান্ডে বলেন কলকাতা বইমেলা ধীরে ধীরে আজ মহীরুহে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই বইমেলায় তাদের বই নিয়ে হাজির হয়ে থাকে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন দুঃখের হলেও সত্য পরিবেশ প্রেমীদের চাপে বইমেলা এক জায়গায় স্থিতিশীলতা লাভ করেনি। কলকাতার ময়দানের বইমেলার যে আনন্দ ছিল তেমনভাবে তা পাওয়া যায় না আজকের বিধাননগরের বই মেলায়। যুথিকা পান্ডে আরো বলেন সত্য কথাটা হল আজকের বই মেলায় বইপ্রেমীদের চেয়ে খাবারের স্টলগুলোতে বেশি ভিড় হয়। বইমেলা আক্ষরিক অর্থেই এখন বাণিজ্যিকীকরণ হয়ে গেছে। ফলে আমাদের দেখা ছোটবেলার বইমেলা এখন অনেক পাল্টে গেছে। যদিও প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বই পড়ার আগ্রহ কমছে। তা সত্বেও বলবো বই মেলা এখনো বাঙ্গালীদের টানে এটাই আমাদের কাছে উপরি পাওনা। অধ্যাপিকা যুথিকা পান্ডের বক্তব্য যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে বলে শ্রোতা দর্শকরা মনে করেন।

সরদার আমজাদ আলী বলেন কলকাতা বইমেলার সূচনা হয়েছিল সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের আমলে। সেই সময় আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ছিল বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেওয়া। বইমেলা তখন রাজনীতিকরণ ছিল না। বর্তমান সময়ে আগে থেকেই এই মেলায় রাজনীতিকরণ হয়ে গেছে। তবে বইমেলা যে কৌলিন্য হারাচ্ছে তার নেপথ্যে অনেকটাই বই মেলা কর্তৃপক্ষ দায়ী বলে মনে করেন সরদার আমজাদ আলী। তিনি বলেন এ বিষয়ে সাহিত্যিকদের পরামর্শ নিয়ে আরো কিভাবে বইমেলাকে বই প্রেমীদের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে সেদিকে দৃষ্টি দিলে ভালো হয়।

শিল্পী সুভাষ দাসের পরিবেশনায় সুনির্বাচিত নজরুল গীতির মাধুরীমায় অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ যেন এক অনন্য মাত্রায় বাঁধা ছিল।

সমগ্র অনুষ্ঠানের মূল্যায়ন সহ স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলার জনরবের সম্মানীয় সম্পাদক সেখ ইবাদুল ইসলাম। আমন্ত্রিত অতিথিদের পরিচিতি প্রদান সহ অনুষ্ঠানটি সুচারুরূপে সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক তথা বাংলার‌ জনরবের সাহিত্য সম্পাদক সেখ আব্দুল মান্নান।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ