আনিসের খুনের প্রতিবাদে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে আজ রাস্তায় নামছে যাদবপুর
বাংলার জনরব ডেস্ক : গত শুক্রবার পুলিশের উর্দিতে বাড়িতে ঢুকে রাত ১টায় প্রতিবাদী এক তরুণকে খুন করা– রাজ্যের পুলিশী বর্বরতার অন্ধকার ইতিহাসের কথা স্মরণ করছেন অনেকে। তরুণ আনিশ খান হত্যার প্রতিবাদে রাজ্য আবার মুখর। আজ বুধবার (২৩শে ফেব্রুয়ারী ২০২২), বিকেল ৫টায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রছাত্রী-সংসদের পক্ষ থেকে এক নাগরিক প্রতিবাদ মিছিলে ডাক দেয়া হয়েছে। গত আনিসের হত্যার প্রতিবাদ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য-প্রাক্তন ছাত্র আনিশ খানের দোষ কী ছিল? সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করত? রাজনৈতিক দলের রং বিচার না ক’রে প্রতিবাদ করত? বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের NRC-CAA সহ বিভিন্ন জনবিরোধী নীতির বিরোধিতা যেমন সে করেছে, তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত রাজ্য সরকারের বিভিন্ন স্বৈরাচারী নীতি তথা দুর্নীতিরও সে বিরোধিতা করেছে? রাজ্যের শাসক দল পোষিত স্থানীয় লুম্পেন তথা মাতব্বরদের চোখরাঙানিকে ভয় পায়নি? গ্রামীণ ও মফস্বল হাওড়ায় চিকিৎসার বিপুল খরচওয়ালা একের পর এক নার্সিং হোম গজিয়ে ওঠার বিরোধিতা জানিয়ে গেছে দিনের পর দিন?
ঠিক কোন কোন কারণে আনিশ শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকা স্থানীয় সমাজবিরোধীদের চক্ষুশূল হয়েছে, তা তারাই বলতে পারবে। কিন্তু মানুষ পদবাচ্য হলে, ওপরের কোনো কাজের জন্যই কেউ আনিশকে দোষী করবে না। বরং যে-কোনো মানুষেরই যা যা নিয়ে প্রতিবাদ করা উচিত, আনিশ সেগুলো নিয়েই সাধ্যমত প্রতিবাদ করে গেছে।
রাজ্যের শাসক দল যদি ভেবে থাকে, এই রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রী-যুবসমাজ পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজদের নাকে বারবার ঝামা ঘ’ষে দিয়েছে মানে শাসক দলের কুকর্ম বা তার সরকারের অপদার্থতার দিকে আমাদের নজর নেই, তাহলে তারা খুব ভুল করছে। আজ আর কোনো দল-রঙ কিংবা দলীয়তার বেড়িতে বাংলার ছাত্রছাত্রী-যুবসমাজকে ‘বন্দী’ করা যাবে না। যারাই অন্যায় করুক-না-কেন, বিভিন্ন মতের ছাত্র-ছাত্রী-তরুণ-তরুণী দলমতের উর্দ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে তা আগে রুখেছে, এখন রুখছে আর ভবিষ্যতেও রুখবে। ‘মাননীয়া’ নিশ্চয় ‘হোক কলরব’-এর স্মৃতি ভুলে যাননি। আশা করি, প্রাক-স্বাধীনতা পর্ব থেকেই বাংলার সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী-যুবক-যুবতীসমাজের স্বাধীনচেতা লড়াকু আপোষহীন মনোভাবের ইতিহাসের সাথে তিনি ও তাঁর দল পরিচিত।
আজ যারা আনিশের জন্য পথে নামছে, তাদের সিংহভাগ আনিশকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে না। কিন্তু আনিশ যে মত বা পথেরই হোক, তার প্রতিবাদী তারুণ্যই সকলকে উদ্দীপিত করছে। ধামাচাপা দেওয়ার কোনো চেষ্টা আমরা বরদাস্ত করব না। ‘মাননীয়া’কে আমরা বলতে চাই, যে নেতাজী সুভাষচন্দ্রকে নিয়ে তাঁর সাথে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ঝামেলা’র বিজ্ঞাপন আমরা প্রায়শই মিডিয়ায় দেখতে পাই, সেই সুভাষচন্দ্রের ছাত্রবেলার শিরদাঁড়া-সোজা-করা প্রতিবাদী সত্ত্বা কিন্তু বাংলার ছাত্রছাত্রীসমাজের ধমনীতে বয়ে চলেছে।
আমরা বুলেটকে ভয় পাই না। এক প্রতিবাদীকে হত্যা ক’রে আমাদের ভয় পাইয়ে দেওয়া যাবে না। আমরা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলছি– আ ম রা ভী ত ন ই। আমাদের রাগ হচ্ছে প্রচণ্ড। আমরা যন্ত্রণাদগ্ধ। আমরা ছেড়ে দেওয়ার বান্দা নই। কাজী নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ই আমাদের চেতনা–
“…যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে বাতাসে ধ্বনিবে না,
অত্যাচারীর খড়্গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না…
বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত
আমি সেই দিন হব শান্ত।…”
আমরা সুবিচার চাই। প্রকৃত সুবিচার। পুলিশ যেহেতু অভিযুক্ত, তাই বিচার-প্রক্রিয়ায় সেই পুলিশ থাকলে তা নিরপেক্ষ না হবারই কথা। আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ এবং দ্রুত বিচার চাই।
আজ বুধবার (২৩শে ফেব্রুয়ারী ২০২২), বিকেল ৫টায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্রছাত্রী-সংসদের সামনের মাঠ থেকে প্রতিবাদী নাগরিক মিছিল(মশাল মিছিল)-এর ডাক দেওয়া হয়েছে।

