জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা চাই না, গুলি যারা চালিয়েছে তাদের ইউএপিএ আইনে গ্রেফতার করতে হবে সংসদে দাঁড়িয়ে দাবি জানালেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি
বুলবুল চৌধুরী : গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনী প্রচার সেরে ফেরার সময় মিরাট সংলগ্ন টোল প্লাজার কাছে এ আই এম আই এম নেতা ও চার বারের সাংসদ ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসির গাড়ি লক্ষ্য করে চার রাউন্ড গুলি চালায় দুই দুষ্কৃতী। সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি গুলি চালানোর সেই ছবি টুইটারে আপলোড করে টুইট করে দেশবাসীকে এই খবর দেন।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার খবরের এবং তার উপর হামলা হওয়ার খবরে সমগ্র দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়ে ঝড় উঠতে থাকে। আজ শুক্রবার সংসদে হাজির ছিলেন চারবারের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। লোকসভার স্পিকার তার নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়। এমনকি তাকে জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা দেওয়া যায় কিনা সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেন স্পিকার।

এর পরেই লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াআইসি বলেন, কয়েকদিন আগে ধর্মনিরপেক্ষ দলের এক নেতা নাম না করে রাহুল গান্ধীর কথা বলেন। এই দেশ নাকি দুটি ভারতের জন্ম দিয়েছে একটা সম্পদশালী দেশ ভারত আরেকটা গরিবি ভারত। আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আসলে এই ভারত প্রথম থেকে দুটি ধারায় পরিচালিত হয়েছে একটি হচ্ছে সম্পদশালীদের ভারত আরেকটা হচ্ছে মহব্বতের ভারত। মহব্বতের ভারতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আমাদের সংবিধানে সে কথা বলা হয়েছে। কিন্তু গতকাল যেভাবে আমার উপর হামলা হয়েছে তারপর একটা প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে ওরা কারা ? ওদেরকে চিহ্নিত করা হোক? ওদের পেছনে কারা আছে তাদের কেউ চিহ্নিত করা হোক ? মহব্বতের ভারতের কিভাবে ওরা উগ্র হয়ে ওঠেছে?
রেডিক্যাল আদর্শে কিভাবে দীক্ষিত হলো ওরা? সৈয়দ কুতুব উদ্দিনের বই পড়ে নাকি জাওহুরের বই পড়ে? নাকি অন্য কারো কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে? এরপরই আসাদুদ্দিন ওয়াইসি সংসদে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন আমাদের দেশে কোন সাংবাদিক যখন কোন বিষয়ে সমালোচনা করেন তখন তাকে ইউএপিএ আইনে গ্রেফতার করা হয়। আমাদের দেশের কোনো নাগরিক যখন ফেসবুকে কোন মন্তব্য করে তখন তাকে ইউএপিএ আইনে গ্রেফতার করা হয়! ‘মাননীয় স্পিকার আমার উপর যারা হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ আইন কেন প্রয়োগ করা হবে না?’
বর্ষীয়ান এই সাংসদ আরো বলেন,’আমি সাধারণ মানুষের মতো বাঁচতে চায়। স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার যে অধিকার সংবিধান দিয়েছে সেই অধিকার নিয়ে আমি বাঁচতে চাই। তাই আমি জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা চাই না, আমি চাই যারা আমার উপর হামলা চালিয়েছে তাদের ওপর ইউএপিএ আইন প্রয়োগ করা হোক।’
আজ শুক্রবার সংসদের চারবারের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসির বক্তব্য চলাকালীন সময়ে সমগ্র সংসদ ছিল পিন্ট অফ সাইলেন্ট। আসাদউদ্দিন ওয়াইসির বক্তব্য চলাকালীন সময়ে স্পষ্ট দেখা গেল, স্পিকার বারবার বলছেন, আপনাকে নিয়ে আমাদের চিন্তা আছে আপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সরকার ভাবছে কিন্তু আসাদুদ্দিন ওয়াইসি যে ভঙ্গিতে সংসদের ভাষণ দিলেন তাতে আর যাই হোক সংসদের মধ্যে তাঁর প্রতিটি আওয়াজ ব্যঙ্গ করছে কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান নীতিকে বর্তমান লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে।
আসাদউদ্দিন ওয়াইসি তাঁর ভাষণে তিনি বলেছেন, হরিদ্দার এর ধর্ম সংসদে যেভাবে হুমকি দেয়া হয়েছিল সংখ্যালঘুদের প্রতি তারপরে আইবি রিপোর্ট কি আছে ? সেটা একটু দেখুন দয়া করে রিপোর্ট প্রকাশ করুন, এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি স্পিকার। আসাদুদ্দিন ওয়াইসির বক্তব্য শেষ হওয়ার পরেও বেশ কিছুক্ষণ ধরে সমগ্র সংসদ পিন্টু অফ সাইলেন্ট ছিল।

