অঙ্কুরহাটিতে কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলাবাজির অভিযোগ শাসকদলের বিরুদ্ধে, হলদিয়ায় এক্সাইড, ধানুকার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন, ডোমজুড় নিয়ে নীরব কেন? প্রশ্ন নাগরিক সমাজের
বাংলার জনরব ডেস্ক : কাপড় ব্যবসায়ীদের ক্রমাগত হুমকি দিয়ে টাকা আদায় তোলাবাজির অভিযোগ তুললো এবার বস্ত্র ব্যবসায়ীরা স্বয়ং। অভিযোগটি উঠেছে ডোমজুড় থানার অঙ্কুরহাটি এলাকা থেকে। হাওড়া জেলার অঙ্কুরহাটি এলাকাটি মূলত মুসলিম প্রধান কাপড় ব্যবসায়ীদের অঞ্চল বলে পরিচিত। বাঁকড়া, ডোমজুড়, অঙ্কুরহাটি প্রভৃতি এলাকায় মানুষরা কাপড় ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, এখানে বেশ কয়েকটি হাট রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে হাটে কাপড় ব্যবসায়ীরা আসার সঙ্গে সঙ্গে নেতাদের নাম করে অর্থাৎ শাসক দলের নেতাদের নাম করে টাকা আদায় করছে কিছু মানুষ এবং তারা জোর জবরদস্তি করছে। এর ফলে এলাকার ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্দ হয়ে উঠেছে। মুসলিম ব্যবসায়ীরা এর সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে মুসলিম ভোটের একাংশ তৃণমূল কংগ্রেসের হাতছাড়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এখানকার ব্যবসায়ীদের চাপা ক্ষোভ একটাই হলদিয়াতে এক্সাইড এবং ধানুকার ইন্ডাস্ট্রিজ মত বড় শিল্পপতির গায়ে যখন তৃণমূলের নেতারা আঘাত করার চেষ্টা করে, তোলাবাজি করার চেষ্টা করে সেখানে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হস্তক্ষেপ করে। ডোমজুড়ের বেলায় মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করছেন না কেন? যদিও ইতিমধ্যে ডোমজুড়ে বিধায়ক কল্যান ঘোষ ব্যানার দিয়ে পোস্টার দিয়ে ঘোষণা করেছেন যদি কেউ তোলাবাজি করতে আসে ব্যবসায়ীদের কাছে অনুরোধ তারা যেন সরাসরি পুলিশের দ্বারস্থ হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে শাসকদলের যদি সদিচ্ছা থাকে তাহলে ব্যবসায়ীরা কেন পুলিশের কাছে যাবে? পুলিশ তো নিজে বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং সেক্ষেত্রে শাসক দলের নেতারা এ উদ্যোগ নিতে পারে! কেন এই নীরবতা ? কেন এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা?

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে,ভরা বাজারে ঢুকে, একের পর এক ব্যবসায়ীকে শাসানি। দোকানের সামনে ভিড় করে প্রকাশ্যেই জোর করে চলছে টাকা আদায়।অঙ্কুরহাটি হাটের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে এখানে ব্যবসা করার জো নেই! মহম্মদ হাবিব নামে এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ‘ব্যবসা শুরু করতেই ১০ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। হাটবারের দিন ৭০-৮০ টাকা করে দিতে হচ্ছে। কার্ড রিনিউ করতে হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। গত ২ বছর কোভিডের জন্য ব্যবসা নেই। এভাবে টাকা দিলে খাব কি?’
ডোমজুড়ের অঙ্কুরহাটি হাট এলাকায় মোট ৬-৭টি বাজার রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সবকটি বাজারেই এভাবে অবাধে চলছে তোলাবাজি। শেখ মোরসেলিম নামে এক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, ‘বেশ কিছু বহিরাগত দুষ্কৃতী ব্যবসা করার জন্য নেতাদের নাম করে আমাদের কাছ থেকে মোটা টাকা চাইছে। টাকা না দিলে জিনিসপত্র ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে, লুঠ করে নিয়ে চলে যাচ্ছে। এতে তো আমাদের ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।’
পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছে যে, স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক কল্যাণ ঘোষ নিজের নামে ফেস্টুন লাগিয়েছেন হাটে। তাতে বলা আছে, ‘কেউ তোলা চাইলে পুলিশ এবং প্রশাসনকে যেন জানানো হয়।’
ব্যবসায়ীদের দাবি বিষয়টি স্থানীয় বিধায়ককে জানিয়েছেন তাঁরা। তোলাবাজি ঠেকাতে পুলিশ-প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বাজারেই ব্যানার দিয়েছেন ওই তৃণমূল বিধায়ক।
বিধায়ক জানিয়েছেন, ‘ব্যবসায়ীদের থেকে অভিযোগ পেয়েছি। কিছু লোক নেতাদের নাম করে ফ্লেক্স দিয়েছে। পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।’

