কলকাতা 

প্রকাশিত হল মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মোমেনের “বাংলায় মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলন”

শেয়ার করুন

সেখ ইবাদুল ইসলাম : স্বাধীনোত্তর বাংলায় ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ষাটের দশকে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলন পরবর্তীকালে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি ও সুব্রত মুখার্জির নেতৃত্বে ছাত্র পরিষদের ছাত্র আন্দোলন ইতিহাস হয়ে রয়েছে, পশ্চিম বাংলার রাজনীতির অঙ্গনে। ছাত্র আন্দোলন বলতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, সুব্রত মুখার্জি, আব্দুল মান্নানদের নাম। এটা রাজনীতির মূল স্রোতের আন্দোলন বলা যেতে পারে।

রাজনীতির মূল স্রোত থেকে বাইরে এসে কিছু আন্দোলন হয়েছে যে কথা ইতিহাসের অগোচরে থেকে যেত হয়তো। ষাটের দশকের প্রথমের দিকে সৈয়দ বদরুদ্দোজা নেতৃত্বে পশ্চিমবাংলার সংখ্যালঘু সমাজের বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল সেই ইতিহাস আজকের প্রজন্ম জানে না। আর এরপর সত্তর দশক থেকে এই রাজ্যে আরো একটি বড় আন্দোলন হয়েছিল সংখ্যালঘু সমাজের পক্ষ থেকে। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল মাদ্রাসার ছাত্ররা। সেই  আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন শহিদুল ইসলাম, শফিকুর রহমান, মোজাফফর হোসেনদের মত মানুষেরা। সেই উত্তাল মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলনের জেরে তৎকালীন সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের সরকার বাধ্য হয়েছিলেন মাদ্রাসা বোর্ড তৈরি করতে। সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের সরকারকে বাধ্য করা হয়েছিল এই রাজ্যের কয়েকশো মাদ্রাসাকে একই সময়ে একই বছরে অনুমোদন দিতে । সেই ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস আজকের প্রজন্ম জানে না।

শহিদুল ইসলাম, শফিকুর রহমান, মোজাফফর হোসেনের কথা আজকের কোন মঞ্চ থেকে আর বলা হয় না। এই অবহেলিত অবাঞ্ছিত বাংলায় ছাত্র আন্দোলনের অজানা ইতিহাসকে নতুন করে আজকের প্রজন্মের সামনে তুলে ধরলেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও লেখক মুহা আব্দুল মোমেন। আজ শুক্রবার ২৮ শে জানুয়ারি কলকাতা প্রেস ক্লাবে “বাংলায় মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলন” নামক এই বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সমাজকর্মী বর্তমানে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর বিজয় উপাধ্যায় মহাশয়।

পুস্তক উন্মোচনের সম্পর্কে বলতে গিয়ে লেখক মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা এমন একজনকে এই পুস্তক উন্মোচন করার জন্য আমন্ত্রণ করেছি যিনি একটা সময় এই রাজ্যের মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলনের গতিকে বৃদ্ধি করার জন্য সাহায্য করেছেন। বিজয় উপাধ্যায় নিজেকে সংখ্যালঘু দরদী বলে প্রচার করেন না। কিন্তু তিনি নীরবে-নিভৃতে সংখ্যালঘু সমাজের জন্য জেল পর্যন্ত খেটেছেন। এটা অস্বীকার করা যাবে না। বিজয় উপাধ্যায় এমন একজন মানুষ যিনি আযান মামলার রায়কে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন। আদালত অবমাননার হওয়া সত্ত্বেও তিনি ক্ষমা চাননি ।যার ফলে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে তাকে জেল খাটতে হয়েছিল। সংখ্যালঘু সমাজে বিজয় উপাধ্যায়ের বিশেষ অবদানের জন্য আমরা এই বইটি উন্মোচনের তাকে আমন্ত্রণ করেছি বলে আব্দুল মোমেন জানালেন।

এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম পুরোধা এবং প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মোজাফফর হোসেন বলেন, আব্দুল মোমেন যে কাজটি করেছে এর কাজের প্রশংসা করা শুধু প্রয়োজন নয় এই বইটিকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায় এবং দায়িত্ব। মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসকে তিনি লিখেছেন এবং মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলন একদিনের সংঘটিত হয়নি। এই মাদ্রাসার ছাত্র আন্দোলন সংগঠিত হওয়ার নেপথ্যে বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য শিক্ষকের ভূমিকা ছিল। এদের মধ্যে অবশ্যই মরহুম মনিরুজ্জামান সাহেবের নাম অন্যতম। তিনি একজন অধ্যাপক হয়েও আমাদের এই আন্দোলনকে পেছন থেকে সাহায্য করেছেন সহযোগিতা করেছেন এবং মাদ্রাসার ছাত্র ইউনিয়নের যে সংবিধান যে রুল  রয়েছে সেগুলো তিনি তৈরি করে দিয়েছিলেন। তাই আজ এই সন্ধিক্ষণে আমরা বিনম্রচিত্তে মনিরুজ্জামান সাহেবকেও স্মরণ করছি।

মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আব্দুল ওহাব বলেন, আমরা আন্দোলন শুরু করেছিলাম সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে আমাদের গণ আন্দোলনের চাপে সরকার অনেক কিছু মেনে নিতে বাধ্য হয়। আমাদের এইসব কাজে সব রকম ভাবে সাহায্য এবং সহযোগিতা করে গেছেন আমাদের শিক্ষক মরহুম মনিরুজ্জামান সাহেব। আজকের এই অনুষ্ঠানে আমরা তাঁকে স্মরণ করছি।

 

পুস্তক উদ্বোধন করার পর বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী বিজয় উপাধ্যায় বলেন, আমার খুব ভালো লাগছে যে এই বইটি উদ্বোধন করার জন্য আপনারা আমাকে বেছে নিয়েছেন। আপনাদের সকলের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই। একই সঙ্গে এটাও জানাই বিজয় উপাধ্যায় আগেও যেমন ছিল, এখনো তেমন আছে এটা মনে রাখতে হবে। আপনারা যখনই কোন কাজের জন্য আমাকে ডাকবেন আমি সবসময় আপনাদের সঙ্গে থাকব। আমি যখন সমাজবাদী পার্টির রাজ্য সভাপতি ছিলাম তখন আপনাদের আন্দোলনেরতৎকালীন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবকে পর্যন্ত এনেছিলাম। ভবিষ্যতে আপনাদের প্রয়োজন হলে আমাকে ডাকবেন আমি অবশ্যই আসবো।

এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক আহসানুল বারি, মাদ্রাসা ছাত্র ইউনিয়নের প্রাক্তন নেতা শিক্ষক মশিউর রহমান ও শিক্ষক ফজলুর রহমান প্রমুখ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ