কলকাতা 

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের বন্ধ হওয়া প্রক্রিয়া দ্রুত চালু হবে শেষ হওয়ার পরেই বছর বছর টেট হবে জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

শেয়ার করুন

প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের যে প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে রয়েছে, দ্রুত তা শেষ করার কথা বললেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে পরবর্তী নিয়োগ শুরু করা হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি এ দিন বলেন, ‘‘দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও সরস্বতীপুজোর মতো বছর বছর টেট হবে।’’

শেষ বারের মতো প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগের জন্য টিচার্স এলিজিবিলিটি টেস্ট বা টেট হয়েছিল ২০২২ সালে। সেই নিয়োগ এখনও শেষ হয়নি। ২০২২ সালে যাঁরা টেট উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, বহু আন্দোলনের চাপে বিগত তৃণমূল সরকার ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁদের নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কিন্তু এক বছর পরেও সেই নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করা যায়নি।

২০২৫-এর সেপ্টেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরে ৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ইন্টারভিউ। ১৩,৪২১ জনকে নিয়োগের জন্য গত বছরের ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে জেলাভিত্তিক ইন্টারভিউ শুরু হয়। প্রথম চারটি দফার ইন্টারভিউ চলে। এর পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্ষদ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে পঞ্চম থেকে দশম দফায় নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলার ইন্টারভিউ শুরু হয়। ইতিমধ্যে পঞ্চম পর্যায়ে নদিয়া জেলার ইন্টারভিউ গত ১৯ মার্চ শেষ হয়। ষষ্ঠ পর্যায়ে গত ২৩ মার্চ পুরুলিয়া জেলার জন্য ইন্টারভিউ শুরু হলেও তত দিনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। ফলে এর মধ্যে আদৌ ইন্টারভিউ করা যায় কি না, তা নিয়েই কিছু প্রশ্ন উঠেছিল।

তার পরে এপ্রিলেই পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের তরফ থেকে জানানো হয়, প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে ২৭ মার্চ নির্বাচন কমিশন স্কুলশিক্ষা দফতরকে চিঠি দিয়েছিল। ৩০ মার্চ সেই চিঠি পৌঁছোয় পর্ষদে। সে দিনই বিস্তারিত জানানো হয় পর্ষদের তরফে। নির্বাচন ঘোযণা হয়ে যাওয়ার পরেও কী ভাবে ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলছে, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল পর্ষদের তরফ থেকে। তবে ১ এপ্রিল ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া স্থগিত করে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এর পর বিধানসভা নির্বাচন ও পরে নতুন সরকার গঠিত হয়। কিন্তু ওই ইন্টারভিউ এখনও শুরু হয়নি, যা নিয়ে ফের বিতর্কও শুরু হয়েছে।

এ দিন মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘প্রাথমিকের নিয়োগপ্রক্রিয়া যেটা চলছে তা দ্রুত সমাপ্ত করে পরবর্তী নিয়োগে যাব।’’ এর পরেই তাঁর বক্তব্য, ‘‘এই নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে গেলে আবার যে শূ্ন্যপদ তৈরি হবে তার ভিত্তিতে আবার টেট হবে। আমি অনেক বার বলেছি, আবার বলছি দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও সরস্বতীপুজোর মতো বছর বছর টেট হবে।’’

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘এর আগের সরকারও বলত প্রতি বছর টেট হবে এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে হত, কিন্তু চাকরি হত না। আর যা হয়েছে, তাতে অনেক দুর্নীতির অভিযোগও আছে। এই সরকারের আমলে প্রতি বছর টেট হলেও চাকরি হবে কি না কিছু দিনের মধ্যেই তা বোঝা যাবে।’’

অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের (বিদ্যালয়) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক বলেন, ‘‘শিক্ষা ও সংস্কৃতি সার্বিক ভাবে দেশের উন্নতিতে কতটা প্রয়োজন, সেটা এই সরকার উপলব্ধি করে। তাই শিক্ষা বাঁচাতে যেমন শিক্ষকের প্রয়োজন, তেমন কর্মসংস্থান তৈরি করতেও এই নিয়োগ প্রয়োজন। এই সরকার মানুষের কাছে দায়বদ্ধ, সেই সুফল মানুষ পাবে।’’

 


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ