ললিপপ দিয়ে মানুষের ক্ষোভ থামানো যাবে না, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও SIR বাতিল করতে হবে: হাকিকুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিনিধি : SIR-কে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে যখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তখন সামান্য কিছু পরিবর্তন ঘোষণা করে পরিস্থিতি ঠান্ডা করার চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। ২৬ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ‘unmapped’ ও ‘logical discrepancy’-র কারণে যাঁদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে BLO-রা নথি সংগ্রহ করবেন এবং সাধারণভাবে তাঁদের ERO-র সামনে ব্যক্তিগত শুনানিতে হাজির হতে হবে না।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে মানুষের ভোটাধিকার সংক্রান্ত মূল সমস্যার কোনও সমাধান হচ্ছে না। দেশজুড়ে আন্দোলন ও প্রতিবাদের মুখে মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য এই সামান্য ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই—ললিপপ চলবে না।
যাঁদের কাছে তথ্যের অসঙ্গতির কারণে নোটিশ গেছে, তাঁদের বাড়িতে BLO পাঠিয়ে নথি সংগ্রহ করা হবে। কিন্তু যাঁদের নাম ইতিমধ্যেই বাদ দেওয়া হয়েছে, যাঁরা সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন এবং যাঁদের বিষয়টি এখনও বিচারাধীন—তাঁদের ক্ষেত্রে কমিশনের অবস্থান কী? তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? কেন তাঁদের ক্ষেত্রেও একইভাবে দ্রুত পুনর্বিবেচনার ব্যবস্থা করা হলো না?
একদিকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে সেই বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে মানুষকে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে SIR-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩৮ লক্ষ আপিলের কথা নির্বাচন কমিশন নিজেই আদালতে জানিয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে কেন প্রথমেই এই হয়রানির মধ্যে ঠেলে দেওয়া হল?
ট্রাইব্যুনাল যদি মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য গঠিত হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় পর্যাপ্ত ট্রাইব্যুনাল কেন থাকবে না? কেন একজন সাধারণ নাগরিককে নিজের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হবে হতাশার সাথে? কেন ERO-র কাছে সহজে আবেদন করার সুযোগ শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের মানুষের জন্য থাকবে? সেই সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কেনো নেওয়া হলো না? ট্রাইবুনাল থেকে ৯৫% ভোটার ভোটাধিকার ফিরে পাচ্ছেন তাহলে যারা তাদের ডিলিট করেছিল তাদের উপর কেনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না?
নির্বাচন কমিশন কি দেশের মানুষকে গুরু ছাগল মনে করেছে যে, তাদের ভোটাধিকার নিয়ে যা ইচ্ছা তাই করবে?”
দুই নির্বাচন কমিশনার SIR, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি এবং কমিশনের IT ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিকবার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন দুজন নির্বাচন কমিশনার —এমন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে গত দশ মাসে অন্তত ১৪ বার এমন আপত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব কয়েকটি প্রশাসনিক নির্দেশ দিয়ে দেওয়া যাবে না। বিজেপির নির্দেশে নির্বাচন কমিশন কাজ করছে— এটাই প্রমাণ হচ্ছে সব দিক খতিয়ে।
সোস্যাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি অফ ইন্ডিয়ার স্পষ্ট চার দফা দাবি—১. জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. SIR অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং SIR-এর মাধ্যমে যাঁদের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁদের ভোটাধিকার অবিলম্বে সুরক্ষিত করতে হবে।
৩. জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচন নিয়ে যে গুরুতর প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে নির্বাচন বাতিল করতে হবে।
৪. বৈধ ভোটার, অথচ ডিলিট করা হয়েছে। ভোট ফিরে পাওয়া সেই সমস্ত ভোটারদের যারা ডিলিট করেছিল তাদের চিহ্নিত করে আইনী ব্যবস্থা নিতে হবে।
দেশের মানুষকে বাচ্চা ভেবে হাতে ললিপপ ধরিয়ে দিলে হবে না। মানুষ তার ভোটাধিকার চায়, স্বচ্ছ নির্বাচন চায়, জবাবদিহি চায়। SIR-এর নামে ভোটাধিকার হরণ এবং পরে সামান্য কিছু ছাড় দিয়ে মানুষের ক্ষোভ থামানো যাবে না।

